সংবাদকর্মীদের আস্থার আকাশ: অধিকার আদায়ের মিছিলে অবিনাশী আলতাফ মাহমুদ
মানিক লাল ঘোষ
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক ইউনিয়ন আন্দোলনের ইতিহাসে আলতাফ মাহমুদ একটি নাম নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এই গুণী মানুষটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার চলে যাওয়ার মাধ্যমে সংবাদকর্মী সমাজ এমন এক অভিভাবককে হারিয়েছে, যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে সহকর্মীদের স্বার্থকে সবসময় বড় করে দেখতেন।
আলতাফ মাহমুদের সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়েছিল অনেকটা লড়াই করে। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় গণমাধ্যমে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় জনপ্রিয় দৈনিক ‘ডেস্টিনি’ পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি দৈনিক ‘খবর’ সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন। তার পেশাদারিত্বের মূল ভিত্তি ছিল সততা এবং নিরপেক্ষতা।
তিনি দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থাকলেও তার মূল পরিচিতি গড়ে ওঠে একজন বলিষ্ঠ শ্রমিক নেতা হিসেবে। তিনি কেবল ডেস্কে বসে খবর সম্পাদনা করেননি, বরং খবর যারা তৈরি করেন—সেই সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য রাজপথে জীবন পার করেছেন। সাংগঠনিক জীবনে তিনি সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলোর শীর্ষপদে আসীন ছিলেন:
বিএফইউজে (বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন): মৃত্যুপূর্ব পর্যন্ত তিনি বিএফইউজে-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি এই সংগঠনের মহাসচিব হিসেবেও অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
ডিইউজে (ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন): সাংবাদিকদের রুটি-রুজির লড়াইয়ের সূতিকাগার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের তিনি একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আলতাফ মাহমুদ মানেই ছিল রাজপথে ব্যানার হাতে মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া এক মুখ। তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল সাংবাদিকদের বেতন কাঠামোর জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন ও বাস্তবায়নের আন্দোলন।
অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি: মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা, যখন প্রচণ্ড রোদ বা বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচিতে বসে থাকতেন। তিনি বলতেন, "মালিকদের মুনাফা বাড়ে, কিন্তু যে সাংবাদিক রক্ত পানি করে খবর আনেন, তার ঘরে কেন চাল থাকবে না?"
সচিবালয় ঘেরাও ও লবিং: তিনি কেবল রাজপথেই সরব ছিলেন না, বরং সরকারের উচ্চপর্যায়ে গিয়ে যুক্তিতর্ক দিয়ে সাংবাদিকদের দাবিগুলো তুলে ধরতেন। তার অকাট্য যুক্তির সামনে অনেক সময় নীতিনির্ধারকরাও নতি স্বীকার করতে বাধ্য হতেন।
সাংবাদিকদের বিপদে তিনি কীভাবে পাশে দাঁড়াতেন, তার অসংখ্য স্মৃতি আজও সহকর্মীদের মুখে মুখে ফেরে।
বকেয়া বেতন আদায়ের স্মৃতি: একবার একটি বড় সংবাদপত্রে কয়েক মাসের বেতন বকেয়া ছিল। আলতাফ মাহমুদ গভীর রাত পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ঘোষণা দিয়েছিলেন—"বেতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক এই আঙিনা ছাড়বে না।"
অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে: তিনি নিজে অসুস্থ থাকার সময়ও অনেক জুনিয়র সাংবাদিকের চিকিৎসার জন্য ফান্ড সংগ্রহ করেছেন। নিজের পকেটে টাকা না থাকলেও তিনি ফোন করে কারো না কারো মাধ্যমে সাহায্যের ব্যবস্থা করে দিতেন।
সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত হলেও আলতাফ মাহমুদ ছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। তিনি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু যখনই কোনো সাধারণ সাংবাদিক বিপদে পড়েছেন, তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয় দেখেননি। জুনিয়র সাংবাদিকদের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা থাকতো।
বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমে যখন কর্পোরেট সংস্কৃতি প্রবল হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, তখন আলতাফ মাহমুদের মতো নেতার অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হয়। তিনি কেবল দাবি আদায়ের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাংবাদিকদের নৈতিক শক্তির আধার। "সাংবাদিকতা রক্ষা করতে হলে আগে সাংবাদিককে রক্ষা করতে হবে"— এই মূলমন্ত্রটি তিনি প্রতিটি সভায় উচ্চকণ্ঠে বলতেন।
আলতাফ মাহমুদ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ ও দিকনির্দেশনা আজও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর জন্য পাথেয়। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা যতকাল টিকে থাকবে, শোষিত ও অধিকারবঞ্চিত সংবাদকর্মীদের হৃদয়ে আলতাফ মাহমুদ বেঁচে থাকবেন এক অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি।
পাঠকের মতামত:
- সাতক্ষীরায় জামাতের নির্বাচনী পথসভা ও মিছিল
- গোপালগঞ্জ- ১ আসনে প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা
- ‘আমি এমপি হলে সাতক্ষীরা–দেবহাটার প্রতিটি মানুষই এমপি হবে’
- রাজবাড়ী- ২ আসনে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
- ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজিদাদপুর সার্বজনীন রক্ষাচণ্ডী পূজা ও লোক কবিগান
- টাঙ্গাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ৩ জনকে দল থেকে বহিষ্কার
- স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩
- জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দিনাজপুরে আগমনে সংবাদ সম্মেলন
- গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনভেস্টমেন্ট ইন ক্যাপিটাল মার্কেট শীর্ষক কর্মশালা
- অনুমতি না পেয়ে গেটে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত স্বতন্ত্র প্রার্থীর
- লৌহজংয়ে ইয়াবাসহ দুই বোন গ্রেপ্তার
- সংবাদকর্মীদের আস্থার আকাশ: অধিকার আদায়ের মিছিলে অবিনাশী আলতাফ মাহমুদ
- ঠাকুরগাঁও ১ আসনে মির্জা ফখরুলের পক্ষে প্রচারণা শুরু, নেতৃত্বে মির্জা ফয়সল
- কাপ্তাইয়ে কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধা বৃত্তি বিতরণ
- অনলাইন জিডির আড়ালে অবৈধ লেনদেন
- বিএনপি নেতাকে গলা কেটে হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, বৃদ্ধার মৃত্যু
- নগরকান্দায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, আটক ১৮
- ক্যান্সার: নীরব সংকট, কারণ, ঝুঁকি ও বিশ্বব্যাপী বাস্তবতা
- ‘মানসিকভাবে মিরাজ খুব একটা শান্ত অবস্থায় ছিল না’
- ‘কিছু মানুষকে কৃতিত্ব দিতে হবে’
- ঢালিউডে বড় চমক, জুটি বাঁধছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন
- ‘ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ’
- ‘আজকের লড়াই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে’
- বাংলাদেশের নির্বাচনে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে কমনওয়েলথ
- নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল দল থেকে বহিষ্কার
- পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রংপুরে বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত
- 'কী কঠিন হৃদয় তার! এই জন্যই বুঝি তিনি সানগ্লাসে চোখ ঢেকে রাখতেন; চোখ দেখলেও নাকি খুনী চেনা যায়!'
- ‘ভারতের সঙ্গে আর নিরবতা নয়’
- ‘অবিলম্বে সেলিম তালুকদারের হত্যকারী জালিমদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’
- নবীনগরে সুশান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
- ভাত নাকি রুটি, কার জন্য কোনটা ভালো
- বরগুনায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
- দশ মাসে আ.লীগের ৩ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
- খুদে কবিদের পদভারে মুখর নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ
- ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার কেসিসির বাজেট ঘোষণা
- সঞ্চালক হিসেবে আবারও স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু
- বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি, শিশুসহ ৯ রোহিঙ্গার মৃত্যু
- ‘শাহজালালের আগুন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাশকতার অংশ’
- সংবাদকর্মীদের আস্থার আকাশ: অধিকার আদায়ের মিছিলে অবিনাশী আলতাফ মাহমুদ
- পারিবারিক ষড়যন্ত্রের শিকার ব্যবসায়ী আবুল বাশার শামীম
- বন্যার পানিতে পাঁচ দিন ধরে বন্ধ কুমিল্লা ইপিজেড
- ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু
- বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে জমে উঠেছে সমীকরণ
- 'পিতা যদি রাষ্ট্রপতির প্রটোকল মেনে বঙ্গভবনে থাকতেন, তাহলে বাঙালির এতো বড় মহাসর্বনাশ কেউ করতে পারতো না'
- ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মাদরাসা শিক্ষার্থীর
-1.gif)








