E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আগামীর বাংলাদেশ ও আমাদের ভোটাধিকার

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৭:৫৪:৩৩
আগামীর বাংলাদেশ ও আমাদের ভোটাধিকার

মীর আব্দুল আলীম


গণতন্ত্রের মহোৎসব হলো নির্বাচন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে নাগরিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ভোটাধিকার। এই একটি মাত্র দিনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আগামী পাঁচটি বছর রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে নাকি তারা আরও শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু বহু বছর ধরে আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে এক ভয়াবহ ক্যানসার বাসা বেঁধেছে তা হলো ‘ভোট কেনা-বেচা’। টাকার বিনিময়ে পবিত্র আমানত বিক্রি করার এই প্রবণতা কেবল ব্যক্তি চরিত্রকে কলঙ্কিত করছে না, বরং রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলেই কুঠারাঘাত করছে। যখন জনসেবার মহৎ ব্রত ছেড়ে রাজনীতি কেবল পুঁজি বিনিয়োগের ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। আজ সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। অর্থের ঝনঝনানি আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ভিড়ে আমাদের খুঁজতে হবে এমন এক নেতৃত্ব, যাদের হৃদয়ে থাকবে দেশপ্রেম আর কাজের মধ্যে থাকবে জনকল্যাণ।

ভোটাধিকার একটি পবিত্র আমানত ও নৈতিক দায়বদ্ধতা: একজন নাগরিকের ভোট কেবল একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র আমানত। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সবখানেই সাক্ষ্য প্রদান বা আমানত রক্ষার ওপর অপরিসীম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনি যখন কাউকে ভোট দিচ্ছেন, তখন মূলত আপনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, এই ব্যক্তিটি আগামী পাঁচ বছর আপনার এলাকার এবং দেশের দেখভালের জন্য যোগ্য। এখন প্রশ্ন হলো, আপনি কি সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে একজন অযোগ্য বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে যোগ্য বলে সাক্ষ্য দেবেন? এটি কেবল নৈতিক অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি বড় ধরনের খেয়ানত। আপনার এই একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যদি কোনো অযোগ্য ব্যক্তি সংসদে গিয়ে ভুল আইন প্রণয়ন করে বা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে, তবে সেই দায়ভার পরোক্ষভাবে আপনার ওপরও বর্তাবে। সুতরাং, ভোট দেওয়ার সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কি আমানত রক্ষা করছেন নাকি তা বিক্রি করে দিচ্ছেন? সামান্য নোটের বিনিময়ে নিজের বিবেককে বন্ধক রাখা কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রির দীর্ঘমেয়াদী কুফল: নির্বাচনের মৌসুমে কিছু নগদ টাকা বা উপহার পাওয়া অনেকের কাছে সাময়িক আনন্দের মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, এটি আসলে একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। একজন প্রার্থী যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভোট কেনেন, তখন তার প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য থাকে নির্বাচিত হওয়ার পর সেই টাকা সুদ-আসলে উসুল করা। ফলে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি তার পকেটে যায়। আপনার এলাকায় যে রাস্তাটি হওয়ার কথা ছিল, সেটি হয় না; যে স্কুলটি সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, সেটি অবহেলিত থেকে যায়। কারণ নেতা মনে করেন, “আমি তো টাকা দিয়ে ভোট কিনেছি, আমার তো আর জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নেই।” মূলত আপনি যে ৫০০ বা ১০০০ টাকা নিচ্ছেন, তার বিনিময়ে আপনি আপনার আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধাগুলোই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। মনে রাখবেন, টাকার বিনিময়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের সেবক নয়, বরং শোষক হিসেবে আবির্ভূত হন।

দলান্ধতা পরিহার করে ব্যক্তির যোগ্যতা প্রাধান্য দিন: আমাদের দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ‘মার্কা’ বা ‘দল’ একটি বড় ফ্যাক্টর। অনেক সময় দেখা যায়, প্রার্থী চরম দুর্নীতিগ্রস্ত বা এলাকার মানুষের সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও কেবল নির্দিষ্ট দলের লোক হওয়ার কারণে তাকেই ভোট দেওয়া হয়। এই অন্ধ দলপ্রীতি গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। রাজনৈতিক আদর্শ থাকা ভালো, কিন্তু প্রার্থী যখন জনবিচ্ছিন্ন বা জনস্বার্থবিরোধী হন, তখন কেবল দলের দোহাই দিয়ে তাকে সমর্থন করা দেশপ্রেমের পরিপন্থী। একজন অযোগ্য সংসদ সদস্য সংসদে গিয়ে আপনার এলাকার সমস্যাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন না। তারা ব্যক্তিস্বার্থ আর স্তাবকতায় মগ্ন থাকেন। তাই ব্যালট পেপারে সিল মারার আগে প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ন্ড, তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, দলের চেয়ে দেশ বড়, আর দেশের চেয়ে বড় হলো সাধারণ মানুষের কল্যাণ। যোগ্য মানুষ সংসদে গেলে দলের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়।

দেশপ্রেম হোক নেতৃত্বের মূল মাপকাঠি: একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় অলঙ্কার হলো দেশপ্রেম। যার হৃদয়ে দেশের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা নেই, তিনি কখনোই জনগণের প্রকৃত সেবক হতে পারেন না। ইতিহাস সাক্ষী, যারা কেবল ক্ষমতার লোভে বা ব্যক্তিগত আখের গোছাতে রাজনীতিতে আসে, সংকটকালে তারাই সবার আগে দেশ ছেড়ে পালায়। প্রকৃত দেশপ্রেমী নেতা তিনিই, যিনি দেশের মাটিকে ভালোবাসেন, দেশের সংস্কৃতিকে ধারণ করেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো বড় শক্তির কাছে মাথা নত করেন না। সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগে দেখুন, প্রার্থীর অতীতে দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড আছে কি না, বা তিনি নিজের স্বার্থের জন্য দেশের ক্ষতি করেছেন কি না। যিনি নিজের চেয়ে দেশ ও দশকে বড় করে দেখেন, ভোট পাওয়ার প্রকৃত হকদার তিনিই। দেশপ্রেমহীন নেতৃত্ব কেবল জাতিকে ঋণের বোঝা আর দুর্নীতির অন্ধকার উপহার দেয়।

জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্ব অন্বেষণ: রাজনীতি কোনো পেশা নয়, এটি একটি ব্রত মানুষের সেবা করার ব্রত। বর্তমান সময়ে অনেক ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি কেবল সামাজিক প্রভাব খাটানোর জন্য রাজনীতিতে আসছেন, যাদের সাথে সাধারণ মানুষের কোনো আত্মিক যোগাযোগ নেই। নির্বাচনের সময় তারা টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হন, কিন্তু সারা বছর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ আমাদের এমন প্রার্থী প্রয়োজন, যারা দুর্যোগে-দুর্নিপাকে মানুষের পাশে থাকেন। যিনি পাড়ার ছোটখাটো সমস্যা থেকে শুরু করে জাতীয় সংকটে সাধারণ মানুষের কথা শোনেন। যার ঘরের দরজা মানুষের জন্য সবসময় খোলা থাকে। যিনি মানুষের চোখের পানি মোছার চেষ্টা করেন, তাকেই আমাদের সংসদে পাঠানো উচিত। যারা কেবল নির্বাচনের বসন্তের কোকিল, যারা বিপদের সময় ড্রয়িং রুমে বসে রাজনীতি করেন, তাদের প্রত্যাখ্যান করার সময় এসেছে। জনকল্যাণই হোক নির্বাচনের মূল লক্ষ্য।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ও স্বচ্ছতা জরুরি: দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই দুর্নীতির উৎস কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা। যখন একজন অসৎ ব্যক্তি সংসদ সদস্য হন, তখন তিনি প্রশাসনকে ব্যবহার করে লুটপাটের অভয়ারণ্য তৈরি করেন। তাই আমাদের এমন ব্যক্তিকে বেছে নিতে হবে যার অর্থের উৎস স্বচ্ছ। যিনি সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং যার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ নেই। টাকা দিয়ে যারা ভোট কিনতে চায়, তারা প্রকারান্তরে ঘোষণা দেয় যে তারা দুর্নীতিবাজ। কারণ একজন সৎ মানুষের পক্ষে কোটি কোটি টাকা দিয়ে ভোট কেনা সম্ভব নয়। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে হবে আপনার নিজের ভোটটি সঠিক মানুষকে দেওয়ার মাধ্যমে। যে ব্যক্তি ভোটের জন্য টাকা ছিটাচ্ছেন, তিনি যে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুঠ করবেন তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব: বাংলাদেশের মোট ভোটারের একটি বিশাল অংশ তরুণ। এই তরুণরাই পারে একটি সমাজকে বদলে দিতে। তরুণরা সাধারণত আদর্শবাদী এবং সাহসী হয়। তাই তাদের উচিত প্রবীণদের বোঝানো যেন তারা অর্থের প্রলোভনে পা না দেন। প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় তরুণদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভোট বিক্রি নয়’ এই প্রচারণাকে আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যদি ঠিক করে যে তারা কোনো কালোটাকার মালিক বা পেশীশক্তি ব্যবহারকারীকে সমর্থন দেবে না, তবে প্রার্থীরা টাকার গরম দেখানোর সাহস পাবে না। আগামীর আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হবে এই তরুণরা, তাই তাদের সিদ্ধান্ত হতে হবে সুদূরপ্রসারী এবং ন্যায়ভিত্তিক। তরুণেরা জাগলে টাকার পাহাড় আর ক্ষমতার দাপট তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার গুরুত্ব: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলছি, তখন আমাদের আইন প্রণেতাদের অবশ্যই শিক্ষিত এবং দূরদর্শী হতে হবে। সংসদ হলো একটি দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। সেখানে যদি এমন কেউ যান যিনি আইন বোঝেন না, বিশ্ব রাজনীতি বা অর্থনীতি সম্পর্কে যার কোনো ধারণা নেই, তবে তিনি দেশের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না। একজন শিক্ষিত ও মার্জিত জনপ্রতিনিধি বিদেশের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। তাই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, তার বাচনভঙ্গি এবং তার চিন্তা করার গভীরতা যাচাই করা ভোটারদের অন্যতম দায়িত্ব। স্রেফ স্লোগান আর পেশীশক্তির জোরে যারা নেতা হতে চায়, তাদের হাত থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে। মেধাবী নেতৃত্বই পারে একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে।

পেশীশক্তি ও কালোটাকাকে ‘না’ বলা: নির্বাচন এলেই অনেক এলাকায় পেশীশক্তি বা মাস্তানদের মহড়া দেখা যায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে বা প্রভাব বিস্তার করে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এটি গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় লজ্জা। যারা বন্দুকের নল বা লাঠির জোরে ভোট নিতে চায়, তারা নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের ওপরই সেই জুলুম চালাবে। কালোটাকা আর পেশীশক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন, গোপন ব্যালট কক্ষে আপনি একাই আপনার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। সেখানে কোনো পেশীশক্তি কাজ করে না। নির্ভয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন এবং যারা ভয় দেখায় তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন। কালোটাকার জোরে কেনা নেতৃত্ব কখনো জনগণের কণ্ঠস্বর হতে পারে না।

উন্নয়নের সংজ্ঞায় সুশাসন ও অধিকারের গুরুত্ব: অনেকেই বলেন, “অমুক প্রার্থী অনেক উন্নয়ন করেছেন, তাই তাকে ভোট দিচ্ছি।” কিন্তু উন্নয়ন মানে কি কেবল রাস্তাঘাট আর বড় বড় ব্রিজ? সুশাসন ছাড়া উন্নয়ন অর্থহীন। যদি আপনার এলাকায় চলাচলের জন্য ভালো রাস্তা থাকে কিন্তু আপনার কথা বলার স্বাধীনতা না থাকে, আপনার যদি বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকে, তবে সেই উন্নয়নের কোনো মূল্য নেই। প্রকৃত উন্নয়ন হলো নাগরিকের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। এমন প্রার্থীকে ভোট দিন যিনি কেবল ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়, বরং এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। যিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না এবং সাধারণ মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেবেন। মানবিক মর্যাদা ও সুশাসনই হোক আমাদের দাবি।

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে ভোটারদের ভূমিকা: আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তার অন্যতম কারণ হলো রাজনীতিতে সঠিক মানুষের অভাব। যখন আদর্শহীন মানুষরা সমাজের চালিকাশক্তি হয়, তখন পুরো সমাজেই তার প্রভাব পড়ে। আমরা যদি চাই আমাদের সন্তানরা একটি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক, তবে আমাদের আদর্শবান নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে। ভোট দেওয়ার সময় মনে রাখবেন, আপনি কেবল একজন ব্যক্তি নির্বাচন করছেন না, বরং আপনি আপনার সন্তানদের জন্য একটি রোল মডেল বা আদর্শ বেছে নিচ্ছেন। যে ব্যক্তি চরিত্রহীন বা যার অতীত কর্মকাণ্ড কলঙ্কিত, তাকে ভোট দেওয়া মানে সমাজকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া। সমাজ সংস্কারে ভোটের চেয়ে বড় হাতিয়ার আর নেই।

ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ও আগামীর বাংলাদেশ: ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। যারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে না। আজ আমরা যদি সামান্য অর্থের লোভে বা কোনো মোহের বশবর্তী হয়ে অযোগ্যদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দিই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের অভিশাপ দেবে। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র গড়ার জন্য যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার একটি ভোটই হতে পারে সেই পরিবর্তনের সূচনা। তাই আবেগের বশবর্তী না হয়ে, কারো প্রলোভনে না পড়ে, কেবল দেশ এবং দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন। আমাদের সিদ্ধান্তই বলে দেবে আমরা কি একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হতে চাই নাকি অর্থের দাসে পরিণত হতে চাই।

পরিশেষে বলতে চাই, এদেশ আমাদের সবার। এই দেশের মাটি, বাতাস আর মানুষের ভাগ্য গড়ার দায়িত্ব আমাদেরই। অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করা মানে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। এটি কেবল এক দিনের অর্থের লেনদেন নয়, এটি একটি জাতির আত্মসম্মান বিক্রির শামিল। তাই আসুন, আমরা শপথ নেই আর কোনো টাকার বিনিময়ে ভোট নয়। আমরা ভোট দেব তাকেই, যিনি যোগ্য; ভোট দেব তাকেই, যার হৃদয়ে আছে দেশপ্রেম; ভোট দেব তাকেই, যার দ্বারা জনকল্যাণ সাধিত হবে। আপনার বিবেককে জাগ্রত করুন, নির্ভয়ে এবং সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, আপনার একটি সঠিক ভোটই পারে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত আগামীর দিকে নিয়ে যেতে। জয় হোক সত্যের, জয় হোক সাধারণ মানুষের।

লেখক : সাংবাদিক, সমাজ গবেষক।

পাঠকের মতামত:

৩০ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test