E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জামাত ক্ষমতায় এলে কি ‘ভালবাসা দিবস’ পালন করা যাবে?  

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৭:৫৬:৩২
জামাত ক্ষমতায় এলে কি ‘ভালবাসা দিবস’ পালন করা যাবে?  

শিতাংশু গুহ


ড. ইউনুস বলেছিলেন, জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। সমস্যা হচ্ছে, এঁরা আগে ছিলো আওয়ামী লীগের লুঙ্গির তলে, এখন জামাতের লুঙ্গির তলে? এঁরা ‘পুতুল খেলার পুতুল’ যেমনি নাচাও তেমনি নাচে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের লোকসভায় শোক প্রস্তাব নেয়া হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান বলেছেন, নীতিগতভাবে কোন দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি নন, তবে তিনি অপরাধীর শাস্তি চান। রিজভী বলেছেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তায় বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন ছিদ্র না থাকে। রুমিন ফারহানা বলেছেন, কোন দল সরকার গঠন করবে এখনো তা বলা যায়না, তাই বেশি লইরেন না। 

এবারের নির্বাচনের খরচ মাত্র ৩১শ’ কোটি টাকা, এতো ভোট নয় যেন টাকার খেলা। ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, জালিয়াতে বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান। সামাজিক মাধ্যমে একজন ঠাট্টা করে বলেছেন, ড. ইউনুস নিজেই এর ক্যাপ্টেন। আর এক প্রার্থী বলেছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে ড. ইউনুস যে ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন সেটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেছেন, শেখ হাসিনা’র সময় দেনা ছিলো ২লক্ষকোটি টাকা, এবছর সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লক্ষ কোটি টাকা। তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি জিতলে তিনি মাসে আড়াই হাজার টাকার সহায়তা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেবেন। নাসিরুদ্দিনের ইংরেজী শুনে জাতি ‘চমকিত’ হয়ে গেছে।

জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের ৫০% মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। তিনি বলেছেন, ব্যালটে শুধু নৌকা থাকলেও ৫০/৬০ শতাংশ মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এক আজব চীজ, তিনি বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদ-চরমপন্থা আগের চেয়ে কমেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত: সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিলো ২০০৮-এ মঈন-ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে এবং তাঁদের আমলে দেশ সবচেয়ে নিরাপদ ছিলো। সবচেয়ে প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছিলো খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯৬ সালে এবং ঐ সংসদ মাত্র ১২দিন টিকেছিলো। শেখ হাসিনা আন্দোলন করে ‘তত্বাবধায়ক সরকার’-র মাধ্যমে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যান।

যশোর- ৪ থেকে সুকৃতি কুমার মন্ডল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন, (বিএমজিপি) নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একমাত্র হিন্দু দল, এবং তিনি এর সভাপতি। ঐক্য পরিষদ নির্বাচনকালে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খুলনা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে হিন্দুরা জামাই আদরে থাকবে। আর এক জামায়েত প্রার্থী বলেছেন, ৮০% মুসলমানের দেশে কোন বিধর্মী সংসদে যেতে পারবে না। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক উত্তম কুমার সাহা জমায়েতে যোগ দিয়েছেন। এই কল্যাণ ফ্রন্ট সর্বদা হিন্দুদের ‘অকল্যাণ’ করার জন্যেই জন্ম নিয়েছিলো। বরিশাল-৫ আসনে বাসদ প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ চরমোনাই’র পীর ফয়জুল করীম বেপর্দা নারী থাকলে মঞ্চে উঠতে রাজি হননি। মনীষা বলেছেন, যিনি জনসংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ নারীদের সাথে বসে আলোচনা করতে পারেন না, তিনি আদৌ সব মানুষের প্রতিনিধি হতে পারেন কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন। জামাত প্রধান অবশ্য বলেই দিয়েছেন যে, মহিলারা শীর্ষপদে বসতে পারবেন না, আল্লাহ ওদের ওভাবে সৃষ্টি করেননি। মির্জা ফখরুল বলেছেন, আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, জামাত তখন আমাদের বিরুদ্ধে ছিলো।

আলী রিয়াজ বলেছেন, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ৮০ দিন গণপরিষদ হিসাবে কাজ করবে। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, আমার ওপর কখনো পচা ডিম্, কখনো ময়লা পানি, আবার কখনো জুতা, সবই মারছে। তিনি মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্ধন্ধী। ডিম্ নিক্ষেপের পর কিছুটা প্রতিবাদে হলে নাসিরুদ্দিনের ওপর পানির বোতল নিক্ষিপ্ত হয়? ব্যারিষ্টার ফুয়াদ বলেছেন, নাসিরুদ্দিনের পাটোয়ারীর ওপর ডিম্ মারায় বিএনপি’র দশলক্ষ ভোট কমে গেছে। ব্যারিষ্টার ফুয়াদকে আদর করে অনেকে ‘টাকলু ফুয়াদ’ বলে, এই ব্যারিষ্টারকে দেখে আমার সাবেক বিদেশমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন-র কথা মনে হয়। আমরা দীর্ঘদিন পরিচিত, কিন্তু সরকার পতনের পর প্রথম দেখে তাকে চিনতে পারিনি, আমি নিশ্চিত শেখ হাসিনাও তার ছবি দেখে প্রথমে বিভ্রান্ত হয়েছেন! ড. মোমেন পরচুলা ফেলে দিয়ে টাকমাথায় হাজির হয়েছেন, সাথে ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি। সত্যি বলছি, তাঁর বর্তমান চেহারা নকলের চেয়ে ভাল। সমস্যা হচ্ছে, এদের কোন চেহারাটা আসল তা মানুষ চিনতে ভুল করে, শেখ হাসিনাও করেছেন।

গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, দেশে এখন কোন বেকার নেই, ড. ইউনুস আসার আগে যাঁরা বেকার ছিলো তারা সবাই আন্দোলন করে কোটিপতি। জামায়েত জোটে থেকে এনসিপি’র ৩৬ দফার ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে গেছে। এমনিতেই এনসিপি’র দফারফা শেষ, ৩৬ দফা দিয়ে কি হবে? আওয়ামী লীগের ‘নো বোট, নো ভোট’ শ্লোগানটি ভাল হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগখান দিয়ে এনসিপি’র ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘হাসিনাকে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, তারেক সাহেব আপনাদেরও সেভাবেই ডিল করবো। এর উত্তরে ছাত্রদল বলেছে, সাদিক ভাল হয়ে যা, দেশ থেকে পালতে পারবি না, আজীবন ছিলি তো আওয়ামী লীগের লুঙ্গির নীচে। ভুইল্যা গেছো শেখ হাসিনাকে তো আম্মা ডাকতি’! ফেইসবুক জরিপ জানাচ্ছে, বাংলাদেশের ৭৭% জনগণ এখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনো শেখ হাসিনাকেই পছন্দ করেন।

একটি চুটকি দেখলাম, একটি ছেলে আর একটি ছেলেকে প্রশ্ন করছে যে, আচ্ছা ধর ১২ই ফেব্রুয়ারি কোন না কোন ভাবে জামাত ক্ষমতায় চলে এলো, তাহলে কি ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভালবাসা দিবস’ পালন করা যাবে? শেখ হাসিনা’র আমলে পাকিস্তান বাংলাদেশের উন্নতিতে ঈর্ষা করতো; ড. ইউনূসের আমলে নেপাল বলে আমরা বাংলাদেশ হতে চাইনা, আর জামাত ক্ষমতায় এলে সিরিয়া বলবে আমরা বাংলাদেশ থেকে ভাল। অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, আমরা বুঝতে ভুল করেছি, দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। পাঠক, এই ভুলের মাশুল পুরো জাতিকে দিতে হবে, কোন শর্টকার্ট নেই!

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

৩১ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test