E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

তারেক রহমান, আপনাকে বলছি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৮:০১:২১
তারেক রহমান, আপনাকে বলছি

আবদুল হামিদ মাহবুব


তারেক রহমান, আপনাকে বলছি। জানিনা, মুক্তভাবে আর কথা বলা যাবে কিনা। যদি যায় সেটা আরও কতদিন যাবে সেটাও জানি না। তবে এখনো যখন ডক্টর ইউনূসের সরকার আছে, তখন এক দুটি কথা বলে রাখছি।

তারেক রহমান সাহেব, আমি মনে করেছিলাম ভারসাম্য মূলক সংসদ হবে। কিন্তু আপনাদের জোট, আপনাদের দলের নেতৃত্বে দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন। এই অভূতপূর্ব বিজয় একদিকে ভালো, অন্যদিকে মন্দও। এখন আপনাকে দেশের স্টিয়ারিং খুব সাবধানে চালাতে হবে। নিজের দলের সংসদ সদস্যদের সামাল না দিলে অর্থাৎ লাগাম টেনে না রাখলে, দেশ আবার গাড্ডায় পড়তে পারে। আপনি নিশ্চয়ই আপনার অভিজ্ঞতায় সেটা দেখেছেন। পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সংসদে তার বিশাল বহরের সমর্থনের কারণে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দিতে পেরেছিল।

আপনি জুলাই সনদের সংস্কার গুলো গ্রহণ করবেন, এটা আমার প্রত্যাশা। কোনো কালেই আর যেন আমাদের দেশ ফ্যাসিবাদের পথে না যায়, সেটার পাকাপোক্ত বিধান সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হবে, এটাও আমার প্রত্যাশা। আর সাধারণ মানুষের মত আমার ছোট্ট আরেকটি প্রত্যাশা; সেটা হচ্ছে, আমরা সকলেই শান্তি এবং স্বস্তিতে এই দেশে বসবাস করতে চাই।

ঘুস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, এগুলো যেন আর ফিরে না আসে। আইনের শাসন এদেশে পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। ডাল ভাত খেয়ে যেন দেশের মানুষ নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকতে পারে। আমার এই বলা কথাগুলো পূর্ণ হলে, সারাদেশের মানুষ আপনার প্রতি খুশি থাকবে, আপনি এটা বিশ্বাস রাখবেন। মানুষ ভালো থাকলে আপনিও ভালো থাকবেন। মানুষ কষ্টে পড়লে কোন না কোন ভাবে সেটার যন্ত্রণায় আপনাকেও যন্ত্রণাগ্রস্ত করবে।

মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা ইউরোপ আমেরিকার মতো দেশকে বানানোর চিন্তাগুলো আপনারা রাজনীতিবিদরা মাথায় রেখে কাজ করবেন। এইসব বিষয় সাধারণ মানুষের চিন্তার বিষয় নয়। মানুষের চিন্তার বিষয়, কেবল তাদের জীবনের শান্তি স্বস্তি নিরাপত্তা আর পেট ভরে দুবেলা ভাত খাওয়া। আপনার এই বিজয়ে আপনাকে অভিনন্দন। আপনার 'ক্যারিশম্যাটিক' নেতৃত্ব দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। সেই সাথে কিছু সমালোচনা ও পর্যালোচনা মূলক কথাও এখানে বলে নিচ্ছে। আশা করছি খোলামনে কথাগুলো গ্রহণ করবেন। পটে ভরে দুবলো ভাত খাওয়া। আপনার এই বজিয়ে আপনাকে অভনিন্দন। আপনার 'ক্যারশিম্যাটকি' নতেৃত্ব দখোর অপক্ষোয়।

গত বৃহস্পতিবার। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের বারো ফেব্রুয়ারি। এই দিনটি ছিলো ভোটের দিন। সেইদিনেই কথাগুলো আমার মাথায় এসেছিলো। আমি চাচ্ছিলাম কথাগুলো মানুষের সামনে যাক। কিন্তু সুযোগ হয়নি। এই লেখায় যা বলা হচ্ছে, সেটা নেতিবাচক মনোভাব থেকে নয়। বাস্তবতার আলোকে আপনার কর্মকান্ড দেখে সেগুলো অনুধাবন ও পর্যালোচনা করে এই সকল কথা। মানুষ কিভাবে নিয়েছে, সেটা প্রতিফলিত হয়ে গেছে ভোটেই। আনন্দিত হবার বদলে বিষাদগ্রস্ত হবার মতো ঘটতে পারত, কিন্তু স্রস্টা আপনাকে আনন্দিত করেছেন, উদারমনা একজন মানুষ হিসাবে আমিও আনন্দিত। মনে রাখতে হবে ব্যাক্তি-সমাজ-দল ছাড়িয়েও সবার উপরে দেশটা। আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ।

প্রায় সতের বছর নির্বাসন থেকে ফিরে আপনি (তারেক রহমান) প্রথম জনসভায় যেভাবে বক্তব্য রেখেছিলেন, যেভাবে দেহভঙ্গি করেছিলেন, সিংহাসন মার্কা চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসেছিলেন, সিনিয়র নেতাদের সম্মান দেখিয়েছিলেন; সেসব দেখে আমি আশান্বিত হয়েছি। আশা আরো বেড়েছিলো সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভার ভাষণ শুনেও। কিন্তু, পরবর্তী কয়েকটি জনসভায় এলোমেলো অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য শুনে আশা আর থাকছিলো না!

আমার একটি লেখায় আমি বলেছিলাম, ‘আমার ভিতরে যে আশার আলো প্রজ্জ্বলন হয়েছিলো এবং সেই আলো এখন লাগছে ম্রিয়মান । কেনো ম্রিয়মান লাগছিলো? সেই কথাগুলোর কিছু কিছু বলতে চাচ্ছি। আপনার সমর্থকদের কারো ভালো লাগবে, কারো কারো ভালো লাগবে না। কেউ কেউ এমন লেখার জন্য আমার সমালোচনা করবেন। এমনও হতে পারে এক দু’জন গালাগালও করতে পারেন। আমাকে আক্রান্তও করতে পারে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় একাধিকবার আমার সাথে এমন হয়েছে। আপনি ইউরোপের সংস্কৃতি দেখে এসেছেন, সেই ভরসায় সাধারণের সামনে খোলামেলা লিখে রাখছি।

নির্বাচনী প্রথম জনসভা করেছেন সিলেটে। সিলেটের জনসভার বক্তব্যে ব্রিটেনের (যুক্তরাজ্য) দুই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, 'তারা দুজন রোগীদের সেবার বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছিলেন। কোনো অসুস্থ রোগী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ‘কল’ করলে সেটা কত সময়ের ভেতরে এসে পৌঁছাবে? ওটা নিয়ে। একজন বললেন এখন ১৯ মিনিট লাগে, আগামীতে আমি নির্বাচিত হলে আরো এক মিনিট কমিয়ে সেটা ১৮ মিনিট করবো। অন্য প্রার্থী বললেন, আমি এটা পাঁচ মিনিটে নিয়ে আসবো। কেউ ‘কল’ করলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তার পাশে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাবে।'

উন্নত দেশে মানুষের চিকিৎসা সেবা কোন পর্যায়ে আছে আপনার এই বর্ণণা থেকে আমরা ঐদিন বুঝতে পেরেছিলাম। আশায় বুক বাধলাম আপনি ক্ষমতায় গেলে আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থাগুলো প্রবর্তন করবেন। বিনা চিকিৎসায় কেউ ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে না।

এমন বক্তব্য শুনে আশান্বিত হলাম। মনে আশা জেগেছে এই ভেবে যে, ১৭ বছর ব্রিটেনে থেকে তাদের রাজনীতি ধারণ করে দেশে ফিরেছেন। আমাদের দেশেও জনগণকে শান্তি-স্বস্তি দেওয়ার রাজনীতি ফিরবে, এই আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু সেই 'আশার গুড়ে বালি' পড়তে বেশি দিন লাগলো না।

আরেকটা বিষয়; এই দুই হাজার চব্বিশের জুলাইয়ের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি'র অতিলোভী যেসব নেতাকর্মী সিএনজি স্ট্যান্ড, বালুরঘাট, হাটবাজার, হাসপাতাল-জেলের খাবার দেওয়ার টেন্ডার দখল করে নিয়েছিল; যারা মানুষের উপর জুলুম করছিল, অফিস আদালতে মাস্তানি শুরু করেছিল, বাসা-বাড়িতে হামলা করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলো, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছিলো, তাদের বিরুদ্ধে আপনি সেই বৃটেনে নির্বাসনে থাকা অবস্থায়ই কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আপনার নির্দেশে দল থেকে বহিস্কার করা হলো।

কিন্তু, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সেই বহিষ্কৃত প্রায় সকলকেই দেখলাম একে একে আবার দলে ফিরিয়ে নিলেন! আর এটা ঘটলো আপনি দেশে ফেরার পর। আপনার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানেই। আপনি দলকে কেনো শুদ্ধপথে রাখতে পারলেন না? আবার যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এবং সেই প্রার্থীর সাথে যেসব নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা করেছেন, তাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এই বহিস্কৃতরা ধারণা নিয়ে আছেন, নির্বাচনের পর সকলেরই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে, তাদেরকে সসম্মানে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

এই উলোটপালট ঘটনার পরও আপনার দলীয় লোকজনের কথাবার্তা শুনে আমিও একটা ধারণা সৃষ্টি করেছি যে আপনি ব্রিটেনে অবস্থানকালীন সময়ে বিশ্বরাজনীতি অনুধাবন করে অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছেন। নিশ্চয় মেধা-প্রজ্ঞা বেড়েছে। আমি আপনার দলের সমর্থক নই। তারপরও আশা রেখেছিলাম; হয়তো আপনি ‘ডায়নামিক লিডার’ হয়ে উঠেছেন। অন্য অনেকের মত আমার মধ্যেও এমন একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জনসভাগুলোর বক্তব্য শুনে আশাহত হয়েছি।

আমি ভেবেছিলাম আপনি অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে দেশ সাজানোর জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা হাজির করবেন। প্রথম জনসভার ভাষণের শেষে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। কিন্তু,নির্বাচনী প্রচারে আপনার মুখে সেই পুরনো ধারার রাজনৈতিক কথাবার্তাই শুনলাম। একপক্ষ আরেক পক্ষকে কিভাবে নিন্দাবাদ করে ঘায়েল করা যায়, সেই প্রচেষ্টা। যে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হবে, তার মুখে কি এমন কথাবার্তা মানায়? বা মানালো? আপনার কাছ থেকে জাতি নতুনত্বেভরা কোনো ‘প্ল্যান’ পেলো? নিজেই ভেবে দেখুন।

এলাকার উন্নয়নের জন্য কি এমপি-মন্ত্রী হন? আমিতো জানি দেশকে সুশাসনের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, দেশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য, এমপি মন্ত্রীরা সংসদে পরিকল্পনা দেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আইনও প্রণয়ন করেন।

কোথায় খাল হবে, কোথায় ব্রিজ হবে, কোথায় মেডিকেল কলেজ হবে, কোথায় রাস্তাঘাট হবে, সেসবের জন্য তো রাষ্ট্রের কর্মে নিয়োজিত আমলা-কামলারা আছেন। তারা সেসব ঠিক করবেন। মাস্টার প্ল্যান করবেন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প অথবা প্রস্তাব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরবেন। এবং তার আলোকে সংসদে আইন হবে, অর্থসংস্থানের পথ হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে। আমলা-কামলাদের কাজের দায়িত্ব কেন আমাদের রাজনীতিবিদরা কাঁদে তুলে নেন? এতে করে কি তাদের অবস্থান নিচে নামে না?

আরেকটা বিষয়; কোনো কিছু না জনাটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু, না জেনে বিজ্ঞের মতো করে ভুল তথ্য সবার সামনে তুলে ধরা অবশ্যই দোষের। আর সেই কাজটি আপনি নির্বাচনী একাধিক জনসভায় করেছেন। আপনি বলেছেন, ‘বদরের যুদ্ধ বিবি আয়শার নেতৃত্বে হয়েছে!’ কিন্তু ইসলামের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় বদরের যুদ্ধর সময় বিবি আয়শার বয়স ছিলো ৯ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। একই ভাবে কুমিল্লায় ইপিজেড, ফরিদপুরের চরে সোয়াবিন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী, যশোয়রে আখ চাষ ও চিনিকল চালু, তিস্তা ব্যারেজ ইত্যাদি প্রসঙ্গ। একটি জনসভায় দেখেছি জামায়াতের আমীরের ‘এক্স’ একাউন্ট ‘হ্যাক’ হবার প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে আপনি শব্দটিই উচ্চারণ করতে পারছেন না! এইসব বক্তব্য ও অভিব্যক্তিতে জনগণের সামনে আপনার অজ্ঞতার প্রকাশ ঘটেছে।

দেশের মানুষ এমন নেতা পাওয়ার আশা করেছিলো, যে নেতার নখদর্পনে থাকবে পুরো দেশ। নেতা কোন নির্দিষ্ট এলাকা নয়, পুরো দেশ কিভাবে গড়বেন, সেটা নিয়ে জনতার সামনে বলবেন নির্ভুল কথা। নেতার মধ্যে থাকবে না কোন অঞ্চল প্রীতি। ওই অঞ্চলে এগিয়েছে, এই অঞ্চল পিছিয়েছে, নেতা সেটা বলতে পারেন না। পক্ষের-বিপক্ষের সকল মানুষই নেতা মনে করবেন আমার।

যে নেতা মানুষে মানুষে বিভাজনের কথা বলবে, সেই নেতা সত্যিকারের মানুষের নেতা নন। হয়তো তিনি সীমাবদ্ধ কোন গোষ্ঠীর নেতা হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা, কেবল আমার আকাঙ্ক্ষা বলি কেন? দেশের সকল মানুষের আকাঙ্ক্ষা বলা যায়, একজন মহানমানুষ তথা মহাননেতা পাওয়ার। দেশের মানুষ এমন একজনকে খুঁজেছে, যিনি দেশের সকল মানুষের নেতা হয়ে উঠবেন। আমার পর্যবেক্ষণ বলে আপনি সেই পর্যায়ের নেতা হবার গুণ অর্জন করতে পারবেন। আমি আপনার নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্য শুনে হতাশ হয়েছিলাম, এখন আশায় বুক বাধতে চাই।

আপনাকে কোন জনসভায় বলতে শুনিনি, আমলা-কামলারা কেউ বিন্দু পরিমাণ ঘুস খেতে পারবে না, কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না, কোনো দলের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি যাতে করতে না পারে, সেরকম একটা অবস্থান আপনার গঠিত সরকারের থাকবে। সকল অনিয়ম অব্যবস্থা সমূলে উৎপাটিত হবে এমন কথা জোর দিয়ে আপনাকে বলতে শুনলাম না! যার যেখানে যে দায়িত্ব, সে সেখানে একশতভাগ নিষ্ঠার সাথে সেটা পালন করতে হবে; এমন কথাও বলতে শুনিনি।

বরঞ্চ আপনি বলেছেন, ঘুস দূর্নীতি কমিয়ে আনবেন। কমিয়ে আনা, আর সমূলে উৎপাটন করা দুইটার মধ্যে অনেক ফারাক। কোনো বিষয় কমানোর মানে সেটা আবার ডাল পালা গজিয়ে মহীরুহ রূপ ধারণ করতে পারে। আর শেকড়সহ উৎপাটন করা হলে সেটার বেঁচে থাকারই সম্ভাবনা থাকে না। আমি আপনার কথার মধ্যে পাই, ঘুষ দুর্নীতিকে মারতে চান না! ওটাকে কমিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চান।

আপনার নির্বচনী বক্তব্য শুনে মানুষ বলাবলি করেছে 'যে লাউ সেই কদু' মিললো! অর্থাৎ হাসিনা তোষামোদ পরিবেষ্টিত হয়ে, যেভাবে দেশ চালিয়েছিল, আগামীতেও সেভাবেই চলবে। আপনি ‘পলিসি মেইকার’ নেতা না হয়ে গতানুগতিক ধারার নেতা হওয়ার চেষ্টা করায় আমার মধ্যে হতাশা আছে। এসবই আমার একান্ত পর্যবেক্ষণ। এইসব পর্যবেক্ষণের সাথে আরো অনেকের মিলে যেতেও পারে, নাও মিলতে পারে। সেকারণে এই লিখে রাখা। বিষয়গুলো দেশবাসীর সামনে আনা।

আমি জানি, আমার এই হতাশা প্রকাশে কিংবা আমার মতো মফস্বলের এক অখ্যাত সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণে আপনার কিচ্ছুটি আটকে থাকবে না। তবে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে ডিজিটালের এই যুগে, এখনো বিদ্যমান বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বাকস্বাধীনতার সুযোগে আমার কথাগুলো আমি বলে রাখলাম।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যক।

পাঠকের মতামত:

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test