দুর্নীতি দমন কমিশন কতটা সফল?
চৌধুরী আবদুল হান্নান
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছেন, কারণ হিসেবে পদত্যাগী চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন উল্লেখ করেছেন তিনি অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিদের সুযোগ করে দিতে চান। তিনি আরও বলেন, তাতে কমিশন যেমন উপকৃত হবে, তেমনি রাষ্ট্রেরও উপকার হবে। এমন সুমতি আমরা সচরাচর দেখি না, তাই প্রশ্ন জাগে ও সন্দেহ হয় এ পদত্যাগের কারণ অন্য কিছু কিনা। তিনি গত বছর ডিসেম্বরে ৫ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় “দুদুকের কাঠগড়ায় দুদুকেরই সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল” এমন শিরোনাম দেখে আমাদের বিস্ময় আর আতঙ্কের সীমা থাকে না।
সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অনুসন্ধান চলমান। তার নেতৃত্বাধীন ওই সময়ের আরও দুই কমিশনারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে।
আরও জানা গেছে, ইকবাল মাহমুদের ভাই সাদিক মাহমুদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত একজন চৌকস আমলা ইকবাল মাহমুদ সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মজীবন সমাপ্ত করে ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। শীর্ষকর্তা যদি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন, অধস্তন কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে?
ক্ষমতা পেলে অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, কোন কাজ তার এখতিয়ারভূক্ত আর কোনটা নয়, এমন বোধও থাকে না। ইকবাল মাহমুদের কিছু কাজ ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল, তার যাত্রাপথে স্কুলের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়তেন, শিক্ষকরা সময় মতো উপস্থিত হয়েছেন কিনা, দেখার জন্য।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন যার কর্মকান্ড মানুষের হাসির উদ্রেক করতো; তিনি হোটেলের কিচেনে ঢুকে পড়ে লক্ষ্য করলেন তরকারিতে গোসের চেয়ে আলু বেশি।
একদা ভালো ছাত্র, পরবর্তীতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্তা, কর্যকলাপ দেখে মনে হবে তারা লেখাপড়া করেছে যে কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করা। এমন অল্প সংখ্যক মানুষের কার্যকলাপের জন্যই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে “বিশ্বখ্যাতি” অর্জন করেছে।
আমাদের সর্বত্র মূল সমস্যা যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে পছন্দের লোককে পদায়ন করা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রধানত অবসরপ্রাপ্ত সচিবদের মধ্য থেকে বাছাই করে এ সংস্থায় নিয়োগ হয়ে থাকে কিন্ত তারা কেন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, বরং লোভ-লালসাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে অধিক সক্ষমতার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৪ সালে “দুর্নীতি দমন ব্যুরো” বিলুপ্ত করে স্বাধীন “দুর্নীতি দমন কমিশন” গঠন করা হয়েছিল।
শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, ব্যুরো থেকে কমিশন। প্রকৃত কাজ কিছু হয়েছে বলে মনে করা যায় না।
সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান দুদকে তাঁর দীর্ঘ ৪ বছর কর্মকালীন সময়ের নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে অকপটে স্বীকার করতেন। এক পর্যায়ে চরম হতাশা নিয়ে কমিশনকে একটি “দন্তহীন ব্যাঘ্র” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। অতি সত্য প্রকাশের জন্য তাকে যথেষ্ট সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
রাজনৈতিক চাপের কারণে বহুল আলোচিত হলমার্ক, ডেসটিনির মতো বড় বড় দুর্নীতির ঘটনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিতে পেরে ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।
জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশনকে “ঠুঁটো জগন্নাথ” বলে বিদ্রুপ করতে দেখা গেছে এবং আরও বলা হয়েছে তারা দুর্নীতি দমনের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তি কিন্ত তাদের দুর্নীতি ঠেকাবে কে? পর্যবেক্ষণে আদালত দুদকের কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে এই মর্মে যে, তারা ইচ্ছা মতো আসামী ধরে আর ছাড়ে।
ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়, ততই তা বৃদ্ধি পায়। কারণ তাতে ভাগিদার বাড়ে, পরিমানও বাড়ে।
যারা ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসের সাথে দাঁড়াতে চান, এক পর্যায়ে তারা অসহায় হয়ে পড়েন, চাকরি রক্ষা করাই কঠিন হয়ে যায়। আমাদের মনে থাকার কথা, কয়েক বছর আগে শরীফ উদ্দিন নামের এক কর্মকর্তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকুরিচ্যুৎ করা হয়েছিল। তিনি উচ্চপদস্থ, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বড় বড় দুর্নীতি নিয়ে কাজ করছিলেন। দুদকের বিতর্কিত এ সিদ্ধের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের মধ্যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, এমন কি টিআইবি থেকেও তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
আদালতের রায় পাওয়া সত্বেও শরীফ উদ্দিন চাকরি ফিরে পাননি, রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের পক্ষ থেকে আপীল করা হয়েছিল। যে কোনোভাবে শরীফকে ঠেকাতে হবে। শরীফ উদ্দিনেরা কমিশনে থাকলে অনেকের ঘুম হারাম হবে যে!
জনমনে বিশ্বাস, যার অঢেল অর্থ আছে, বিচার করে তাকে শাস্তি দেওয়া যায় না। তাছাড়া, দুর্নীতি এখন আর কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং দুর্নীতিবাজরা সমাজের মাথা, নিয়ন্ত্রক।
দুর্নীতি-বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেতে বহুবার দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা ভাবা হয়েছে কিন্ত এতদিনে সংস্থাটির সক্ষমতা তো বাড়েইনি বরং কমতে কমতে এখন তা একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ আর হতাশা এ প্রতিষ্ঠানটি দুর্বল হওয়ার আর একটি বড় কারণ। গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে (পরিচালক, মহাপরিচালক) প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের আধিপত্যের কারণে অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারা পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে বৈষম্যের শিকার হন।
আইন দ্বারা গঠিত একটি স্বাধীন সংস্হা কিন্ত সরকার বা ক্ষমতাধরদের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে মেরুদন্ড শক্ত করে দাঁড়াতেই পারলো না দুদক। সাহসী মানুষ চাই, প্রয়োজনে পদত্যাগ করতে পারেন এমন মানুষ।
এমন নিষ্কর্মা শ্বেতহস্তী পালন করার দরকার কী? রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনিয়ম-ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্হা নেওয়ার জন্য নিজস্ব আইন বা শৃঙ্খলা বিভাগ রয়েছে। অপরাধ গুরুতর হলে নিজ প্রতিষ্ঠানই আদালতে মামলা করতে পারে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সৎ, সাহসী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের যে কোনো মূল্যে সুরক্ষা দিতে হবে, পুরস্কৃত করতে হবে, তা হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিকার, প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।
দীর্ঘদিন পর দেশ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে, আমাদের প্রত্যাশা তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নিশ্চয়ই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম, সোনালী ব্যাংক।
পাঠকের মতামত:
- ঈশ্বরদীতে ময়লার স্তূপ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
- মহম্মদপুরে সড়ক সংস্কারে বিটুমিন কম দেওয়ার অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পাথর
- নড়াইলে বিএনপির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল
- মহম্মদপুরে ফসল তোলা নিয়ে মা-ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
- রাজবাড়ীতে বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক
- প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে তদবির বন্ধে সতর্কতা জারি
- ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাত ইজারা দিয়েছেন কে বা কারা?
- ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
- বিকেএসপির সাবেক উপপরিচালক ও সংগঠক মিমুর চিরবিদায়
- ‘পহেলা বৈশাখে ২ কোটি ২০ লাখ কৃষক পাবে কৃষি কার্ড’
- সোনাতলায় মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন, হোটেল–রেস্তোরাঁয় অভিযান
- ভাবখালি ভূমি অফিস এখন ভূমি সেবার মানদন্ডে শীর্ষে
- জমে উঠেছে ধামরাইয়ের ঈদ বাজার, দরজি পাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা
- প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ময়মনসিংহে প্রেস ব্রিফিং
- নড়াইলে শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার
- নারায়ণগঞ্জে ‘সোনারগাঁ ওয়েলফেয়ার ইউকে লিমিটেড’র উদ্যোগে ৭০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা
- কুড়িগ্রামে হিন্দু ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
- মধুমতির বুকে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর ভিড়
- ঈশ্বরগঞ্জে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা
- সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- পেঁয়াজের দাম নিয়ে হতাশ কৃষক
- যুবককে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার
- সাংবাদিকতার মান-ইজ্জত ফিরিয়ে আনুন
- যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব প্রত্যাহার করুন : নতুনধারা
- কলাপাড়ায় লবণ সহিষ্ণু জাতের গম উৎপাদনে গবেষণা শুরু
- মেহেরপুরে ১৬০ টাকায় পুলিশে চাকরি
- নবীনগরে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর মামলায় গ্রেপ্তার ২
- পেকুয়ায় ডাম্পার ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫
- ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনঃপ্রকাশ
- জমে উঠেছে ধামরাইয়ের ঈদ বাজার, দরজি পাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা
- যুবককে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার
- কলাপাড়ায় লবণ সহিষ্ণু জাতের গম উৎপাদনে গবেষণা শুরু
- শেরপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ ৬ যাত্রী নিহত
- মেহেরপুর জেলা জামায়াত ইসলামীর কর্মী সম্মেলন
- সিলেটে বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, নিহত ৩
- মধুমতির বুকে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর ভিড়
- ঈশ্বরগঞ্জে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা
- আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ক্ষিতিশ চন্দ্র সাহা
- নবীনগরে তিন দিনব্যাপী ফিজিওথেরাপি ক্যাম্পের উদ্বোধন
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বরগুনায় পুলিশ ও নাগরিকদের মতবিনিময় সভা
- বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটির যাত্রা শুরু
- ‘দুই ম্যাডামের জন্য আমাদের চাকরি করাটাই এখন ‘টাফ’ হয়ে গেছে’
- ঠাকুরগাঁওয়ে আলু চুরির মিথ্যে অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ
- বিশ্বের দীর্ঘতম সোজা রাস্তাটি এখন সৌদি আরবে
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত
-1.gif)








