E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দুর্ভোগের কথা

২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৯:৩৮:২৮
দুর্ভোগের কথা

আবদুল হামিদ মাহবুব


দেখেন, ভোগান্তি কাকে বলে? মৌলভীবাজার জেলা শহরের কাজীরগাঁও এলাকায় আমার একটি বাসা আছে।সে বাসায় ভাড়াটিয়া থাকেন। ৭ এপ্রিল ২০২৬ ভোরে আমি ঘুমে থাকা অবস্থায়ই ভাড়াটিয়ার ছেলে ফোন করে জানালো, তাদের বিদ্যুতের মিটারে টাকা আছে, মিটার চালু আছে, ঘরের ভেতরের সংযোগে কোন বিদ্যুৎ নেই! আমি ঘুম ঘুম স্বরেই তাকে বললাম বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ দিয়ে আসার জন্য। যথারীতি সে ভোরেই অভিযোগ কেন্দ্রে গেছে, অভিযোগ লিপিবদ্ধ করিয়ে এসেছে। তারপর থেকে অপেক্ষা। সে একটি ছোট চাকুরী করে, সেখানে তার সমস্যার কথা বলে ছুটি নিয়েছে।

বেলা সাড়ে তিনটায় বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক এসেছে। তারা মিটার দেখে জানিয়েছে, মিটারের ভেতরের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। সেই ব্যাটারি পাল্টানোর জন্য অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান পালন করতে হবে।

এদের কথা শুনে ওই ছেলেটা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে এর কাছে ওর কাছে দৌড়াদৌড়ি করছে। কিন্তু কোন কূল কিনারা পায়নি। ইতোমধ্যে অফিস টাইমও শেষ হয়ে গেলো। ওদিকে বাসায় তার ছোট ছোট বাচ্চা বৃদ্ধ মা বাবা সবাই গরমে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজে মাছ মাংস ছিল সেগুলো হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে। তার এই ছুটাছুটিতে সমাধান হবে কিনা, বুঝতে পারছিলো না।

অথচ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বিদ্যুৎ অফিস থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতি মাসে মাসে এই মিটারের জন্য চার্জ কেটে নেওয়া হচ্ছে। চার্জ যখন কেটে নেওয়া হচ্ছে এটাতো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের উপরই বর্তায়।

আমি একজন ভোক্তা হিসাবে এই দুর্ভোগের মধ্যে পড়বো কেন? বিচারটা আমি কার কাছে চাইবো?আমি জানিনা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে কোন দুর্ভোগ পোহাতে হয় কিনা? আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর ব্রিটেনে কাটিয়ে এসেছেন। তার কি এমন কোন অভিজ্ঞতা আছে?

সংসদ চলমান আছে। আমার এই বিষয়টি কি কোন সংসদ সদস্যের চোখে পড়বে? সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীকে কি এ বিষয়ে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায় না? বিষয়টি কেবল আমার সমস্যা নয়। নিশ্চয়ই এমন ভোগান্তিতর প্রতিদিনই বাংলাদেশের কোন না কোন এলাকায় এক বা একাধিক অথবা শত শত হাজার হাজার জন পড়ছেন। এই ভোগান্তি লাগবের স্থায়ী সমাধানের পথ বের করার জন্য উপরের মহলে নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। কোন সুহৃদয় সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি আশা করছি।

উপায়ন্তর না পেয়ে আমাকে ফোন করলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম অফিসে কি কেউ নেই? সে জানালো পিয়ন ও বড় অফিসার (নির্বাহী প্রকৌশলী) কেবল আছেন। আমি তাকে বললাম নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমে ঢুকে তার সমস্যার কথা বলার জন্য।

অবশেষে গতি হলো। উনাকে বলার পর আবেদন নিলেন, বিকাশে একটা ফি-ও পরিশোধ করালেন।তারপর জানালেন দুইদিন লাগতে পারে। তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগার।সে কাকুতিমিনতি করে বললো কনো উপায় কি বের করা যায় না? তখন তিনি একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে বললেন, ওরে ম্যানেজ করে দেখেন আজ করতে পারেন কিনা।

ছেলেটি সেই লোককে ফোন করলো। কোনো ভাবে তিনি ম্যানেজ হলেন। তিনি গিয়ে ব্যাটারি পাল্টে দিলেন। তারপর বললেন তিন মাস হয়ত চলবে।পরবর্তীতে পুরো মিটার নতুন লাগাতে হবে। এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে পুরাতন ব্যাটারি লাগিয়ে দিয়ে গেলো না-কি? তাকে তো ম্যানেজ ফি ঠিকঠাক দেওয়া হয়েছে। তারপরও!

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক।

পাঠকের মতামত:

০৭ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test