E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন 

২০২৬ আগস্ট ১০ ১৯:০৬:০২
শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন 

শিতাংশু গুহ


শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছেন। গুরত্বপূর্ন ভাষণ। তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। ভুলে গেলে চলবে না যে, তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি জোর করেই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। এবার কি তিনি মৃত্যুদন্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে যাবেন? তাঁর রাজনৈতিক চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে তিনি যা বলেন তা করেন। তাই স্পষ্টত: বোঝা যাচ্ছে তিনি দেশে ফেরত যাবেন। মৃত্যুদণ্ড? শেখ হাসিনা’র মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে এমন আদালত, সরকার বাংলাদেশে নেই! তিনি দেশে ফিরে যাবেন, বিজয়ীর বেশেই যাবেন। দেশ ও জনগণকে রক্ষায় নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও তিনি যাবেন। তিনি দেশে যাবেন, দেশ বাঁচাবেন, জনগণকে বাঁচাবেন, দল বাঁচাবেন, কর্মীদের বাঁচাবেন, এবং নিজের জন্যে, বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্যে গৌরবজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করবেন। প্রমান করবেন তিনি দেশপ্রেমিক, দেশের জন্যে উৎসর্গিত প্রাণ। জয়বাংলা। 

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা অসুস্থ

বাংলাদেশে হিন্দু আন্দোলনের পথিকৃৎ শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু দীর্ঘদিন জেলে, কবে তিনি মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেনা। কারণ তিনি রাজনৈতিক রোষানলে জেল খাটছেন। তিনি এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলার আসামী। এডভোকেট আলিফ যখন জামাতীদের হাতে নিহত হন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস তখন জেলে। তবু তিনি আসামী। এক শুনানিতে প্রভু বলেছেন, ‘মহামান্য আদালত, জীব হত্যা না করার জন্যে আমি মাছ-মাংস খাইনা, অথচ আমার বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দেয়া হলো’। বিচারক অবশ্য সবই বুঝেন, শুধু বলেছেন, ‘আমি সরকারি চাকুরী করি’। এমুহুর্তে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস’র প্রসঙ্গ টানার কারণ হচ্ছে, চিন্ময় প্রভু জেলে, তাঁর মা অসুস্থ। মাস খানেক ধরে ভদ্রমহিলা একবার হাসপাতাল, আর একবার বাসায় যাচ্ছেন-আসছেন। একদিকে তিনি ছেলের চিন্তায় অস্থির, তদুপরি তাঁর ‘ল্যাং-ক্যান্সার’ ধরা পড়েছে। প্রাথমিক ষ্টেজ, ডাক্তার তাকে একটি ‘কেমো’ দিয়েছেন। এতে তিনি আরো কাহিল হয়ে পড়েছেন। এই কেমো দেয়া নিয়েও কথা উঠেছে, অন্য এক ডাক্তার প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এ কেমো’র প্রয়োজন ছিলো কি? আমরা অধম সন্তান, এই মায়ের জন্যে কি আমাদের কিছুই করার নেই?

তসলিমা কলকাতায়: ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন!

‘তসলিমা কলকাতায়, তাঁকে যথেষ্ট উষ্ণ সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছে। এটিই পশ্চিমবঙ্গ, এটিই ধর্মনিরপেক্ষতা, কলকাতা সবার। হাস্যোজ্জ্বল তসলিমাকে দেখে মনে হলো যেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন’। তসলিমা প্রায় তিন দশক দেশছাড়া, যে দেশ তিনি ফেলে এসেছেন, সেই বাংলাদেশ এখন মৌলবাদের আখড়া, তসলিমা সেখানে অবাঞ্চিত। তাঁর অপরাধ তিনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লিখেন, তিনি ধর্মের বিরুদ্ধে লেখেন, তিনি নাস্তিক। তসলিমা নুতন ঘর বেঁধেছিলেন কলকাতায়। বাম আমলে যেখানে তসলিমাকে আলগে রাখার কথা, অথচ ইসলামী মৌলবাদকে খুশি রাখতে এক নারীবাদী লেখিকা তসলিমাকে ওঁরা কলকাতা ছাড়া করে? এরপর ক্ষমতায় এলেন চটিপিসি মমতা ব্যানার্জী, মোল্লা তোষণে তিনি সকল সীমানা ছাড়িয়ে যান, তসলিমাকে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেননি! পশ্চিমবাংলা থেকে বাম ও তৃণমূল অপশক্তি বিদায় হয়েছে, কলকাতা ফিরছে এর গৌরবজ্জ্বল ভূমিকায়। অনেকদিন আগে প্রায়ত কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া দরকার’। ঘর না হোক, তসলিমা অন্তত: নিকটতম প্রতিবেশীর ঘরে ফিরছেন, এতেই বা আনন্দ কম কি!

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।

পাঠকের মতামত:

১০ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test