E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

প্রকৃতি ধ্বংসে বিপন্ন বাংলাদেশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৮:২১:৪৯
প্রকৃতি ধ্বংসে বিপন্ন বাংলাদেশ

মীর আব্দুল আলীম


বাংলাদেশকে প্রকৃতির অপার আশীর্বাদে সমৃদ্ধ একটি দেশ বলা হয়। নদী, খাল, বিল, হাওর, বনভূমি ও উর্বর কৃষিজমি এ দেশের সৌন্দর্যের পাশাপাশি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ভিত্তি। অথচ সেই প্রকৃতিই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। বায়ুদূষণ, নদীদূষণ, জলাভূমি দখল, প্লাস্টিক বর্জ্য, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পবর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আমাদের পরিবেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশ্ন এখন আর বাংলাদেশ পরিবেশগত সংকটে আছে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা আর কতদিন এই সংকটকে অন্য কারও দায়িত্ব বলে এড়িয়ে যাব?

ঢাকার পরিস্থিতিই এই সংকটের সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র। জনসংখ্যা বাড়ছে, ভবন ও সড়ক বাড়ছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাড়ছে; কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমছে গাছপালা, খোলা জায়গা, খাল ও জলাভূমি। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও শিল্পকারখানার নির্গমনে নগরীর বাতাস ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সবুজ এলাকা কমে যাওয়ায় বাড়ছে নগর তাপমাত্রাও। আমরা এক অদ্ভুত নগরসভ্যতা তৈরি করছি, যেখানে পানি নামার পথ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করছি, গাছ কেটে তাপ বাড়াচ্ছি, খাল ভরাট করে বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছি; তারপর সেই সমস্যার সমাধানে আবার বিপুল অর্থ ব্যয় করছি। অর্থাৎ সমস্যার কারণও তৈরি করছি আমরা নিজেরাই, আবার তার প্রতিকারের জন্যও রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করছি।

নদীগুলোর পরিণতি আরও বেদনাদায়ক। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা হতে পারত ঢাকার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সম্পদ। অথচ অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য, পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ও কঠিন আবর্জনায় এসব নদীর বহু অংশ আজ বিপন্ন। বছরের পর বছর কমিটি হয়েছে, প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, অভিযান চালানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ এসেছে। তবু দূষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, নদীদূষণ সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা নেই। কী হচ্ছে আমরা জানি, অনেক ক্ষেত্রে কারা দায়ী তাও জানি। ঘাটতি রয়েছে ধারাবাহিক ও কার্যকর প্রয়োগে। শুধু ঘোষণা দিয়ে কোনো নদীকে বাঁচানো যায় না। নদী রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের মূল সমস্যা পরিবেশ রক্ষার জন্য আইনের অভাব নয়; বরং বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের অভাব। পরিবেশ সংরক্ষণ, বায়ুদূষণ, ইটভাটা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য ও জলাভূমি রক্ষায় নানা আইন ও নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু আইন তখনই কার্যকর, যখন তার প্রয়োগ অপরাধীকে থামাতে পারে। কোনো কারখানা যদি বারবার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলে, কোনো আবাসন প্রতিষ্ঠান যদি জলাভূমি ভরাট করে কিংবা অতিরিক্ত ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহন যদি নিয়মিত সড়কে চলতে থাকে, তাহলে সামান্য জরিমানা বা বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবেশ রক্ষা কোনো মৌসুমি অভিযান নয়; এটি প্রতিদিনের সুশাসনের অংশ হতে হবে।

প্লাস্টিক দূষণও এখন বড় হুমকি। বাজারের ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট, বোতল ও একবার ব্যবহারযোগ্য নানা পণ্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করছে। এর বড় অংশ ড্রেন, খাল, নদী ও জলাভূমিতে গিয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক সহজে বিলীন হয় না; ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে জলজ পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে শুধু ভোক্তাকে সচেতন করলেই হবে না। উৎপাদকদেরও তাদের তৈরি পণ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি দরকার কার্যকর বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা। ভালো নীতি কেবল কাগজে থাকলে তার কোনো মূল্য নেই; বাস্তবায়নই হলো আসল পরীক্ষা।

জলাভূমির ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। হাওর, বিল, খাল ও বন্যাপ্রবাহ এলাকা কোনো ফাঁকা জমি নয়, যেখানে ইচ্ছামতো স্থাপনা গড়ে তোলা যাবে। এগুলো প্রকৃতির তৈরি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধারণ করে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমায়, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে সহায়তা করে, মাছের আবাসস্থল তৈরি করে এবং কৃষিকে টিকিয়ে রাখে। একটি জলাভূমি ভরাট করে কেউ হয়তো স্বল্পমেয়াদে লাভবান হতে পারে; কিন্তু তার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বহন করতে হয় পুরো সমাজকে। জলাবদ্ধতা, বন্যা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার মাধ্যমে সেই মূল্য শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছেই ফিরে আসে। তাই জলাভূমি রক্ষাকে উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। জলাভূমি রক্ষায় প্রয়োজন সঠিক মানচিত্র, স্বচ্ছ ভূমি রেকর্ড, কঠোর জোনিং এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ। কাগজে কোনো জলাভূমি সংরক্ষিত থাকবে, অথচ বাস্তবে সেখানে ভবন উঠে যাবে, এ ধরনের দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চাপ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি তীব্র গরম, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, শিশু ও প্রবীণরা অতিরিক্ত তাপের কারণে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি শুধু অস্বস্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রমের উৎপাদনশীলতা ও নগরজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতির বিষয়। ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু সহনশীলতা অপরিহার্য করতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। তবে নাগরিক হিসেবেও আমাদের দায় রয়েছে। আমরাই ড্রেনে প্লাস্টিক ফেলি, খালে বর্জ্য ফেলি, গাছ কাটায় নীরব থাকি; আবার জলাবদ্ধতা, গরম ও দূষণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করি। এই দ্বৈত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে নাগরিক সচেতনতা কখনোই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিকল্প নয়। স্থানীয় সরকারকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্ষম করতে হবে, শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে এবং নদী, খাল ও জলাভূমি রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

উন্নয়নকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দরকার। একটি সড়ক, সেতু, ভবন বা বাণিজ্যিক প্রকল্প নির্মিত হলেই সেটিকে উন্নয়ন বলা যায় না। যদি সেই প্রকল্পের জন্য খাল ধ্বংস হয়, জলাভূমি ভরাট হয়, গাছ কাটা পড়ে কিংবা দূষণ বাড়ে, তাহলে তার প্রকৃত সামাজিক মূল্য নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। প্রকৃত উন্নয়ন হলো এমন উন্নয়ন, যেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি নির্মল বাতাস, নিরাপদ পানি, সবুজ এলাকা, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত থাকে। যে উন্নয়ন মানুষের জীবনধারণের প্রাকৃতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে, সেটি অগ্রগতি নয়; বরং আজকের লাভের বিনিময়ে আগামী দিনের ক্ষতি কিনে নেওয়া।

বিশেষ করে ঢাকার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা। নদী, খাল, জলাভূমি, গাছপালা ও খোলা জায়গাকে নগর অবকাঠামোর অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ভরাট হওয়া খাল পুনরুদ্ধার করতে হবে, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের শুরুতেই পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে শুধু শহরের বর্জ্য বহন করে নিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখা যাবে না। যথাযথভাবে পুনরুদ্ধার করা গেলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা হতে পারে নৌপরিবহন, বিনোদন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দূষণের প্রতীক হয়ে থাকা এসব নদীই একদিন ঢাকার বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

পরিবেশ পুনরুদ্ধারকে অর্থনৈতিক সুযোগেও পরিণত করা সম্ভব। পরিচ্ছন্ন নদী ও জলাশয় মৎস্যসম্পদ ও পর্যটনের সুযোগ বাড়াতে পারে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানিসাশ্রয়ী ভবন, উন্নত গণপরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে না। আমাদের বেছে নিতে হবে টেকসই উন্নয়ন, যে উন্নয়ন মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে, কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করবে না।

পরিবেশের প্রতি অবহেলা এখন আর কোনো অদৃশ্য সমস্যা নয়। দূষিত বাতাস আমাদের ঘরে ঢুকছে, দূষিত পানি ও খাদ্য আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, জলাবদ্ধতা আমাদের চলাচল ব্যাহত করছে এবং অতিরিক্ত তাপ প্রতিদিনের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। তারপরও আশার জায়গা আছে। বাংলাদেশ চাইলে এখনো পথ পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন নতুন নতুন ঘোষণা নয়; প্রয়োজন দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ, বাস্তব জবাবদিহি এবং প্রকৃতিকে সম্মান করে উন্নয়ন পরিকল্পনা। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে, স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও বুঝতে হবে, প্রকৃতি রক্ষা মানে শেষ পর্যন্ত নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।

একটি নদীকে নদী হিসেবেই বাঁচতে দিতে হবে। একটি জলাভূমিকে জলাভূমি হিসেবেই থাকতে দিতে হবে। একটি গাছকে উন্নয়নের বাধা নয়, ভবিষ্যতের সহযাত্রী হিসেবে দেখতে হবে। নির্মল বাতাস ও নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু উন্নয়নের প্রাকৃতিক ভিত্তিগুলো যদি ধ্বংস হতে থাকে, তাহলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অর্থনৈতিক অগ্রগতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষা করবে।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবেশ সংকট আমাদের একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই? আমরা যদি প্রকৃতি যত দ্রুত নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে, তার চেয়ে দ্রুত তাকে ব্যবহার ও ধ্বংস করতে থাকি, তাহলে এর মূল্য শুধু প্রকৃতিকে দিতে হবে না; দিতে হবে আমাদের সন্তানদেরও। তাই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। শুধু একটি নদী নয়, পুরো নদীব্যবস্থা বাঁচাতে হবে; শুধু কয়েকটি গাছ নয়, দেশের সবুজভূমি রক্ষা করতে হবে; শুধু প্লাস্টিক নিষিদ্ধ নয়, পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

পাঠকের মতামত:

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test