E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

রাষ্ট্র কি বর্বরতাকে সুযোগ করে দিচ্ছে? 

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:২৪:০২
রাষ্ট্র কি বর্বরতাকে সুযোগ করে দিচ্ছে? 

‎মারুফ হাসান ভূঞা


‎জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ভয়াবহ কিছু ঘটনার মধ্যে অন্যতম একটি ঘটনা হলো মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করবার চেষ্টা। আর এসব ঘটনা সংঘটিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি। জামায়েত ইসলামীর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরালের ওপর ভয়াবহ আক্রমণের চিত্র আমরা দেখতে পেয়েছি। 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর ওপর জামায়াত কর্মী আবুল হাসেমের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাঁকে ধরে লাঞ্ছনা, গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এবং এলাকা ছাড়তে বলে। ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদ, নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম শামসুল আলম ওপর হামলা করা হয়। এছাড়াও সারাদেশে অব্যাহত ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ম্যুরালের ওপর আক্রমণ, লাঞ্ছনার ঘটনা আমরা দেখতে পেয়েছি।
‎
‎সাম্প্রতিক সময়ে জমায়াত ইসলামির আরেকটির বর্বরতার চিত্র দেখতে পেয়েছে বাংলাদেশ। পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাণিক পাশারির শেষকৃত্যে বাঁধা দেওয়ার দৃশ্যে। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে পিরোজপুর আদালতে মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
‎
‎পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মানিক পশারী। দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
‎
‎তার মৃত্যু সংবাদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি, পিরোজপুরের নেতাকর্মী ও পিরোজপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদীর সমর্থকরা পিরোজপুরে শেষকৃত্যে বাঁধা দিতে রাত-ভর মহড়া দেন। মাণিক পাশারির বাড়ি ঘিরে রাখা সহ, সে এলাকায় তাঁর জানাযায় অংশ না নিতে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছায় পিরোজপুর পুলিশ লাইনে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।
‎
‎উক্ত ঘটনা তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধের সময়কার পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দেয়। যে রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করলেন মুক্তিযোদ্ধারা, প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিলেন। আজ সে রাষ্ট্রে দাড়িয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর শেষকৃত্য সম্পূর্ণ হলো বর্বরতায়। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী ও তৎকালীন জামায়াত ইসলামি যেভাবে এখানকার মানুষের উপর বর্বরতা করেছিল, ঠিক হুবহু সে বর্বরতার জন্ম দিল জামায়াত ইসলামি।
‎
‎জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে আকাঙ্খা নিয়ে ছিল, একটা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সে আকাঙ্খাতে শেষ পেরেক ঠুকে দিল জামায়াত ইসলামি। মাণিক পাশারির শেষকৃত্যে বাঁধা প্রদানের মধ্য দিয়ে জামায়াত তাঁর যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনীতি সেটির পুনরাবৃত্তি করলো।
‎
‎যুদ্ধাপরাধী সাঈদী

সাম্প্রদায়িকতা , সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্ম ব্যবসার আড়ালে একজন যুদ্ধাপরাধী থেকে ধর্মীয় নেতা হয়ে উঠার মধ্য দিয়ে আলোচনার শীর্ষে এখনো রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। কিন্তু ইতিহাসের দিকে আমরা যদি তাকায় তাহলে দেখবো পেছনে রয়েছে নারকীয়তার আরো ভয়াবহ রুপ।
‎
‎১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে পিরোজপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, আগুন দেওয়া, সম্পদ লুট করা সহ একাধিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে গণহত্যা ও স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, নিপীড়নে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন সাঈদী। পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, নির্যাতন, লুটতরাজসহ নানা যুদ্ধাপরাধের অন্যতম হোতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। তার এসব অপকর্মের বহু নজির ও সাক্ষী আজো পাওয়া যাবে তার হাতে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বেঁচে থাকা পিরোজপুরের স্বজনহারা মানুষের ঘরে। এসবের নানা চিত্র, তথ্য ওঠে এসেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট'-এ।
‎
‎ওই রিপোর্টে বলা হয়- ‎১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জামাত নেতা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য তার নিজ এলাকায় আলবদর, আলশামস এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করেন এবং তাদের সরাসরি সহযোগিতা করেন। ১৯৭১ সালে তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তবে তথাকথিত মওলানা হিসেবে তিনি তার স্বাধীনতাবিরোধী তৎপরতা পরিচালনা করেছেন। তার এলাকায় হানাদারদের সহযোগী বাহিনী গঠন করে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে লুটতরাজ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, হত্যা ইত্যাদি তৎপরতা পরিচালনা করেছেন বলে তার বির"দ্ধে অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তার এলাকায় অপর চারজন সহযোগী নিয়ে 'পাঁচ তহবিল' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যাদের প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী বাঙালি হিন্দুদের বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল করা এবং তাদের সম্পত্তি লুণ্ঠন করা। লুণ্ঠনকৃত এ সমস্ত সম্পদকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী 'গনিমতের মাল' আখ্যায়িত করে নিজে ভোগ করতেন এবং পাড়ের হাট বন্দরে এসব বিক্রি করে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
‎
‎অর্থাৎ উক্ত রিপোর্ট অনুযায়ী একজন মানবতাবিরোধী অপরাধীর অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হতে যেটুকু তথ্য, প্রমাণ প্রয়োজন তার সবটুকুই এখানে বিস্তৃত হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ইতিহাসকে আড়াল করতে চেয়েছেন ধর্ম দিয়ে, সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে। কিন্তু ধর্ম দিয়ে কি অপরাধ আড়াল করা যায়? না যায় না।
‎
‎সেসময়ের মুক্তিযোদ্ধারা যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন তাদের আলোচনা সমূহ পর্যবেক্ষণ করলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সমস্ত কর্মকাণ্ড আরো স্পষ্টত হয়। পিরোজপুরের পাড়ের হাট ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিয়ন কমান্ডের মিজান তালুকদার একাত্তরে সাঈদী কথা উলেখ করে জানিয়েছেন- দেলোয়ার হোসেন সাঈদী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার সহযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন। তিনি ধর্মের দোহাই দিয়ে পাড়ের হাট বন্দরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর ও নিজে মাথায় বহন করেছেন এবং মদন নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর বাজারের দোকানঘর ভেঙে তার নিজ বাড়ি নিয়ে গেছেন। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সাহেব বাজারের বিভিন্ন মনোহারি ও মুদি দোকান লুট করে লঞ্চঘাটে দোকান দিয়েছিলেন। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর অপকর্ম ও দেশদ্রোহিতার কথা এলাকায় হাজার হাজার হিন্দু-মুসলিম আজো ভুলতে পারেনি। (মাসিক নিপুণ, আগস্ট ১৯৮৭)।
‎
‎এছাড়াও মিজান তালুকদার বলেন, একাত্তর সালের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী তার বড়ো ভাই আব্দুল মান্নান তালুকদারকে ধরে পাড়ের হাটে পিস কমিটির অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুল মান্নান তালুকদারের ওপর সাঈদী পাশবিক নির্যাতন করে এবং তার ভাই মুক্তিযোদ্ধা মিজান তালুকদার কোথায় আছে জানতে চায় ও তার সন্ধান দিতে বলে। গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা পিরোজপুরের এডভোকেট আলী হায়দার খানও সাঈদীর বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাঈদীর সহযোগিতায় তাদের এলাকার হিমাংশু বাবুর ভাই ও আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করা হয়েছে। পিরোজপুরের মেধাবী ছাত্র গণপতি হালদারকেও সাঈদী ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
‎
‎তৎকালীন মহকুমা এসডিপিও ফয়জুর রহমান আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত এসডিও আবদুর রাজ্জাক এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান, স্কুল হেডমাস্টার আব্দুল গাফফার মিয়া, সমাজসেবী শামসুল হক ফরাজী, অতুল কর্মকার প্রমুখ সরকারি কর্মকর্তা ও বুদ্ধিজীবীদের সাঈদীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হত্যা করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তথ্য সরবরাহকারী ভগীরথীকে তার নির্দেশেই মোটরসাইকেলের পিছনে বেঁধে পাঁচ মাইল পথ টেনে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
‎
‎পাড়ের হাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আলাউদ্দিন খান জানিয়েছেন, সাঈদীর পরামর্শ পরিকল্পনা এবং প্রণীত তালিকা অনুযায়ী এলাকার বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের পাইকারি হারে নিধন করা হয়। পাড়ের হাটের আনোয়ার হোসেন, আবু মিয়া, নূরল ইসলাম খান, বেনীমাধব সাহা, বিপদ সাহা, মদন সাহা প্রমুখের বসতবাড়ি, গদিঘর, সম্পত্তি এই দেলোয়ার হোসেন সাঈদী লুট করে নেন বলে তিনি গণতদন্ত কমিশনকে জানিয়েছেন। পাড়ের হাট বন্দরের মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন নবীন জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদী এবং তার সহযোগীরা পিরোজপুরের নিখিল পালের বাড়ি তুলে এনে পাড়ের হাট জামে মসজিদের গনিমতের মাল হিসেবে ব্যবহার করে। মদন বাবুর বাড়ি উঠিয়ে নিয়ে সাঈদী তার শ্বশুর বাড়িতে স্থাপন করেন। রুহুল আমীন জানান, ১৯৭১ সালের জুন মাসের শেষের দিকে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশন সংগ্রহ করতে পাড়ের হাটে গেলে দেখেন স্থানীয় শান্তি কমিটি ও রাজাকারদের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৬০-৭০ জনের একটি দল পাড়ের হাট বন্দরে লুটপাট করছিল। পিরোজপুরের শান্তি কমিটি ও রাজাকার নেতাদের মধ্যে সেদিন পাকিস্তানি সেনা দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, সেকান্দার শিকদার, মওলানা মোসলেহ উদ্দিন, দানেশ মোলা প্রমুখ। এ ছাড়াও সাঈদীকে একটি ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন রুহুল আমীন।
‎
‎রুহুল আমীন নবীন আরো জানান, সাইদী এবং তার সহযোগীরা তদানীন্তন ইপিআর সুবেদার আব্দুল আজিজ, পাড়ের হাট বন্দরের কৃষ্ণকান্ত সাহা, বাণীকান্ত সিকদার, তরুণীকান্ত সিকদার এবং আরো অনেককে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছেন। হরি সাধু এবং বিপদ সাহার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। বিখ্যাত তালুকদার বাড়িতে লুটতরাজ করেছেন। ওই বাড়ি থেকে ২০-২৫ জন মহিলাকে ধরে এনে পাকসেনাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
‎
‎আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সময়কার যে-সকল সাক্ষী, তথ্য, প্রমাণ নিয়ে আসেন তাও যদি পর্যবেক্ষণ করা হয় তাতেও প্রমাণিত হয় দেলোয়ার হোসেন সাঈদী একজন যুদ্ধাপরাধী ছিলেন।
‎
‎ফয়জুর রহমান হত্যাকাণ্ডক অর্থাৎ জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের পিতার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শহীদের পুত্র কথাশিল্পী মুহম্মদ জাফর ইকবাল জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সহযোগিতায় ফয়জুর রহমান আহমেদকে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করে এবং হত্যার পরদিন সাঈদীর বাহিনী পিরোজপুরের ফয়জুর রহমান আহমেদের বাড়ি সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
‎
‎অর্থাৎ আদালতে প্রমাণিত একজন যুদ্ধাপরাধীকে আমাদের দেশে নানা সময়ে নানা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিশেষায়িত করার অপচেষ্টা চলছে। এতে রাষ্ট্র হিসেবে যে দায় রয়েছে এবং তা যে সম্পূর্ণ রুপে অনুপস্থিত সেটির প্রকাশও ঘটেছে।
‎
‎মাণিক পাশারির ঘটনায় রাষ্ট্রের নিকট প্রশ্ন, রাষ্ট্র কি একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের ওপর সংঘটিত হওয়া বর্বরতাকে সুযোগ করে দিয়েছে? নাকি এই বর্বরতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
‎
‎তথ্যসূত্র:
‎• মণিক পাশারির শেষকৃত্যে বাঁধা দেওয়ার সংবাদ_ ( প্রথম আলো, সমকাল)
‎• মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র।
‎• আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র পক্ষ ও
‎ আসামি পক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য।
‎• মাসিক নিপুণ, আগস্ট ১৯৮৭
‎• একাত্তরের ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের
‎ সম্পর্কে জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট'-
‎• ফয়জুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জাফর ইকবালের
‎ সাক্ষাৎকার।
‎
লেখক : ‎লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী।

পাঠকের মতামত:

২৬ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test