দিনাজপুরে ব্যতিক্রম পেশায় লক্ষাধিক নারী
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা সংসারের অভাব মোচনে, ভিন্নতর এক পেশা বেঁছে নিয়েছেন। গ্রাাম-গঞ্জ থেকে সংগ্রহ করে আনা চুলের জট ছাড়িয়ে এবং হেয়ার ক্যাপ তৈরি করে মাসে রোজগার করছেন ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে সংসার থেকে অভাব দুর করতে পেরেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর, চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার ৮০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের লক্ষাাধিক নারী। মুলতঃ নারীরাই এ ব্যতিক্রম পেশার উদ্যোগতা।
নারীরা মাথা আঁচড়ানোর পর ফেলে দেন তাদের জট বাধা চুল। আর সেই জট বাধা চুল সংগ্রহ করে এনে জট ছড়ানো এবং হেয়ার ক্যাপ তৈরি এদের কাজ। অন্যান্য পেশার মতোই ৮ ঘন্টার পরিশ্রমে নিজেদের সংসারের কাজের ফাঁকেই নারীরা এ ব্যতিক্রম কাজ করে খুঁজে পেয়েছেন স্বাবলম্বী হওযার পথ।
জট বাধা চুলের জট ছাড়িয়ে তা দিয়ে তৈরী করছেন হেয়ার ক্যাপসহ চুলেরই নানা পন্য। পরিশ্রমের সাথে মজুরীর সংহতি থাকায় স্থানীয় নারীরা সংসারের পলাতক মূহুর্তগুলোকে কাজে লাগাচ্ছেন। বাড়তি উপার্জন করে সংসার থেকে দূর করছেন অভাব।
এমনটাই জানালেন, এ ব্যতিক্রম পেশায় নিয়োজিত নবারগঞ্জ উপজেলার মরিয়ন বেগম। তিনি জানালেন,তার স্বামী তাতে ফেলে অন্যত্র চলে যাওয়ার এক সন্তান নিযে তিনি মহা বিপদে পড়েন। কিছু দিনপর বাবা-মা আর ভাই-বোনেরাও যেনো ভারি বোঝা মনে করা শুরু করে। বর্তমানে এ পেশায় জড়িয়ে তিনি প্রতিমাসে আয় করেন, আঠারো হাজার টাকা। সে টাকা দিয়ে সন্তানের পড়া-লেখার পাশাপাশি দিব্যি সংসার চলছে তার। কিছু জমিও কিনেছেন তিনি। আগামীতে তিনি বাড়ি তৈরির স্বপ্নও দেখছেন।এমনি ভাবে অসংখ্য নারী আজ স্বাবলম্বী।
সংসারে অভাব-অনটনে অনেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন পড়া-লেখা। এসব কিশোরী-যুবতি এখন এ ভিন্নতর পেশায় খুঁজে পেয়েছেন নিজের আত্ম-কর্মসংস্থান। উপার্জিত অর্থ দিয়ে জোগাচ্ছেন, নিজের পড়া-লেখার খরচ। হেয়ার ফ্যাশন নামে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর, চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তরা চালিয়ে আসছে, এ ব্যতিক্রম প্রকল্প।এতে হয়েছে,অনেকের কর্মসংস্থান।
প্রত্যন্ত পল্লীর নারীরা সংসারের অভাব মোচনে, ভিন্নতর এক পেশা বেঁছে নিয়েছেন। গ্রাম-গঞ্জ থেকে সংগ্রহ করে আনা চুলের জট ছাড়িয়ে এবং হেয়ার ক্যাপ তৈরি করে মাসে রোজগার করছেন ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে,তাদের।এলাকার দরিদ্র নারীর পাশাপাশি স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীরা নিজের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচে ভূমিকা রাখছেন।
শিক্ষার্থী বিলকিস আরা জানান, করোনার মধ্যে দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ ছিল। তখন সময় বেশি পেতাম এবং কাজও বেশি হতো। একটি ক্যাপ তৈরী করতে একদিনের মতো সময় লাগতো। এখন কলেজ চালু হওয়ায় কাজ কম করতে পারছি। তারপরও গত আগষ্ট মাসে ৪৫০০ টাকা আয় করেছি। বাবার কাছে টাকার জন্য হাত পাততে হয়না। এ কাজ করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারে টাকা দিয়ে সহযোগীতা করা হয়।
হেয়ার স্টাইল এর স্বত্তাধিকারি মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার অধীনে ২৫ জন ক্যাপ তৈরীর কাজ করে। এরমধ্যে সাতজনই ছাত্রী। তারা পড়াশুনার পাশাপাশি এ কাজ করে। আর গৃহবধুরা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এ কাজ করে বাড়তি আয় করে। সকাল থেকে চলে দুপুর পর্যন্ত। মাঝখানে একটা বিরতি। এরপর আড়াইটা থেকে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নিজের কাজের পাশাপাশি সবার কাজ দেখভাল করি। কারো কোন সমস্যা হলে শিখিয়ে দিয়। এ কাজ করে প্রায় ১২ হাজার টাকার মতো আয় করে থাকি। এছাড়া দলের অধিনায়ক হিসেবে তদারকি করায় বাড়তি আরো কিছু টাকা দেয় মহাজন। যে টাকা উপার্জন করি, এতে সংসার এখন ভালোভাবেই চলে। কিছু টাকা জমিয়েছি। জমি কিনে একটা ভালো বাড়ি বানানোর স্বপ্ন আছে।
‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’, ‘একটা ছিল সোনার কন্যা/মেঘ বরণ কেশ’। চুল নিয়ে এমন হাজারো গান-কবিতা রয়েছে। বিশেষত নারী সৌন্দর্যের বর্ণনায় বারবার সামনে আসে লম্বা ঘন কালো চুল। সৃষ্টির আদিকাল থেকে নারীর পাশাপাশি পুরুষের সৌন্দর্যের বিশেষ অংশজুড়ে রয়েছে এই চুল।এখন শুধু নারীর সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, ফ্যাশন সচেতন ছেলেদের কাছেও চুল সাজগোজের অংশ। সেজন্য এককালে মেয়েরাই কেবল চুলের যত্ন-আত্তি করলেও এখন ছেলেরাও নজর দিচ্ছে চুলে। চুল ঝরে পড়লে নারী-পুরুষ উভয়েরই সৌন্দর্যের ছন্দপতন ঘটে। হারানো সৌন্দর্যের প্রতীক ফেরাতে
টাক মাথায় ব্যবহার করা হয় পরচুলা। আর এই পরচুলাই দিনে দিনে জায়গা বাড়িয়ে নিচ্ছে বাজারে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষতে পরচুলা তৈরির জন্য এখাতে শিল্পও গড়ে উঠেছে। সম্ভাবনাময় এই ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটেছে দিনাজপুর জেলাজুড়ে।
আর তাই,এই চুল নিয়ে ব্যতিক্রম পেশায় নিয়োজিত হয়ে পড়েছে,উত্তরের জেলা দিনাজপুরের লক্ষাধিক নারী।
হেয়ার ক্যাপের কারখানা ঘুরে দেখা গেছে,ক্যাপ তৈরীতে লাগে মাথার ড্যামি, চুল, নেট, সুঁচ, সুতা, চক ও পিন।
চিরিরবন্দরের ডাঙ্গার হাট এলাকায় একটি কারখানায় সরজমিনে দেভা গেলো পরচুলা বা চুল দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাতের কাজ করছেন অসংখ্য নারী। এ কারখানায় বিভিন্ন বয়সী মরিয়ম,জুলেখা, আশা, সোনালী, মাজেদা,তনু খাতুন, শাহানারা খাতুন, মিনা আকতার, শিখা রাণী, নায়মা, ম্যেসুমি সহ ৮০ জন নারী কয়েক মাস থেকে কাজ করছেন। তারা সবাই দরিদ্র ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
প্রতিটি টেবিলে স্ক্রুর সাহায্যে আটকানো আছে প্লাস্টিকের ড্যামি মাথা। আর ড্যামি মাথা ওপর একটি নেট বা জাল।আর এ জালের ফাঁকে ফাঁকে সুচের ফোঁড়ে ফোঁড়ে খুব মনোযোগ দিয়ে একটি একটি করে চুল আটকানো হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই দৃষ্টিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ড্যামি পুরো মাথায় সুক্ষ্ম ভাবে চুল আটকানো সম্ভব হলেই ক্যাপ তৈরীর কাজ শেষ। মনোযোগ আর দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক ভাবনা থেকে এক সময় তৈরি হচ্ছে মনোরম টুপি। তাদের হাতের কারিশমায় তৈরি হচ্ছে এ পরচুলা ক্যাপ। আর মাথার ওপর ঝুলছে এনার্জি লাইট। প্রতিটি টেবিলে দুইজন করে দুইপাশে চারজন কারিগর কাজ করছেন মনযোগ দিয়ে। মনযোগ দিয়ে কাজ না করলে ভুল হওয়ার সম্ভবনা।
দিনাজপুর- আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক জালালেন, এ পেশায় জড়িয়ে এলাকার ২৫ টি গ্রাামের প্রায় ২০ হাজার পরিবারে ৫০ হাজার নারী পেয়েছে, অভাব-দারিদ্রতা থেকে মুক্তি। তাদের তৈরি হেয়ার ক্যাপসহ চুলের বিভিন্ন পন্য চলে যাচ্ছে, ভারত, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন রাষ্ট্রে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগের প্রসার বাড়ছে। অনেকে গ্রহণ করছেন, এমন উদ্যোগ। যাতে অবহেলিত নারীরা সম্পৃক্ত হতে পারে এ কর্মসংস্থানে। স্বাবলম্বী হচ্ছে, অনেক নারী। দূর হচ্ছে, সংসারের অভাব-অনটন। উচিষ্ট চুলগুলো মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করছেন, অবহেলিত নারী নিপূণ কারিগরেরা। আর এ পণ্যটির দেশ-বিদেশে চাহিদা বাড়ায় এতে আত্ম-কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই।
(এস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২)
পাঠকের মতামত:
- সরকারি ইঙ্গিতে পলাশবাড়ীতে সুউচ্চ রামমূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ বন্ধ, রামে এত ভয়!
- রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ঘোষণা
- কানাইপুরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেলো একজনের
- ন্যায়বিচার হারালে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না
- বেগম খালেদা রব্বানীকে দেখে এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বিদ্যালয়ে প্রেম নিবেদন, থানায় ৩ কিশোর, বহিষ্কার ২ ছাত্রী
- ষ্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ খেলা দেখার মজাই আলাদা
- এএসআই সুজাউল হত্যা মামলার পলাতক আসামি অস্ত্র-ইয়াবাসহ গ্রেফতার
- সাতক্ষীরায় মানবাধিকার কর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সংলাপ
- শিশুর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি
- ভাইরাল লাইলী বাউলকে ৩ লাখ টাকা দিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী
- ‘পদ্মা সেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়’
- ‘শিক্ষাই জাতিকে বিশ্বশক্তিতে পরিণত করে’
- ছয় গোলের রোমাঞ্চে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ইংল্যান্ডের
- গোপালগঞ্জে ১২৬ নারী পেল ফ্যামিলী কার্ড
- সাগর-রুনি হত্যা : ১২৭ বারের মতো পেছালো তদন্ত প্রতিবেদন
- ফরিদপুরে অর্থনৈতিক শুমারি সংক্রান্ত সেমিনার
- ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও অবদান রাখছে’
- আইসিইউতে বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার
- সোনার দাম ভরিতে কমলো ৯০১৩ টাকা
- ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তির আহ্বান ট্রাম্পের
- দেশত্যাগী পূর্ব পাকিস্তানীদের ফিরে আসতে বলেন ইয়াহিয়া
- ৩ দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ২৫ জনের চিকিৎসা
- সালথায় ব্র্যাকের উদ্যোগে প্রান্তিক খামারিদের মাঝে বিনামূল্যে মাছের পোনা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ
- শূন্যরেখায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে ৯ বাংলাভাষীর মানবেতর জীবন
- জেলা প্রেসক্লাব পটুয়াখালীর পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ
- বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সুবর্ণচরে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ অফিসে স্মারকলিপি
- বিএনপি নেতাদের সুপারিসে পাল্টে গেলো বিদ্যালয় কমিটির সভাপতির নাম
- জাফলংয়ে পাথর বোঝাই ৫০ নৌকা জব্দ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ সম্মেলনে সশস্ত্র হামলায় কেন্দ্রীয় নেতা এখন হাসপাতালে
- শ্রীমঙ্গলে নিরাপদ সড়ক চাই’র উদ্যোগে শিক্ষার্থী সমাবেশ
- সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
- অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অভিযান
- চাঁদপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার নবনির্বাচিত গভর্নিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
- দিনাজপুরে ব্যতিক্রম পেশায় লক্ষাধিক নারী
- ভোলায় বিএনপি-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নতুন বাজার, আহত ২৫
- ধানে ভরপুর ভৈরবের মোকাম, দাম নিয়ে হতাশ কৃষক-ব্যবসায়ীরা
- কৃষকস্বার্থে বিদ্যমান সার বিতরণ নীতিমালা বহাল রাখার জোর দাবি
- পলাশবাড়ী সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- এএসআই সুজাউল হত্যা মামলার পলাতক আসামি অস্ত্র-ইয়াবাসহ গ্রেফতার
- রামগরুড়ের ছানা
- শ্রীমঙ্গলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ
- বিজয়ের চারদিন পর চাটমোহর হানাদার মুক্ত হয়
- এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ কথা
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
-1.gif)







