E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

 

সাফল্যের গল্প

প্রান্তিক জনপদের সীমা পেরিয়ে চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী হ্লানুচিং মারমা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৮:২৩:৩৫
প্রান্তিক জনপদের সীমা পেরিয়ে চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী হ্লানুচিং মারমা

রিপন মারমা, রাঙামাটি : কাপ্তাইয়ের শান্ত-সবুজ ডংনালা গ্রাম থেকে চট্টগ্রাম আদালতের কাঠগড়া—দীর্ঘ এই পথচলার গল্পটি কেবল একজনের ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়, বরং অদম্য মানসিকতা ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পাহাড়ের নানামুখী প্রতিকূলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা জয় করে আইন পেশায় নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট হ্লানুচিং মারমা।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা মংসুইপ্রু মারমা এবং মা মাঅংচিং মারমার জ্যেষ্ঠ সন্তান হ্লানুচিং। তাঁর ছোট ভাই বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। পারিবারিক অকৃত্রিম সমর্থন ও নিজের শক্ত মনোবলকে পাথেয় করেই তাঁর এই দূরন্ত পথচলা।

হ্লানুচিং মারমার শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছিল নিজ গ্রাম ডংনালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পঞ্চম শ্রেণির পাঠ শেষে তিনি ভর্তি হন রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে এবং সেখান থেকে সফলভাবে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে। ২০১২ সালে উক্ত কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর শুরু হয় তাঁর স্বপ্ন ছোঁয়ার আসল লড়াই।

দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমে ২০১৪ সালে তিনি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে (২২তম ব্যাচ)। দেশের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠ থেকে আইনের জটিল পাঠ সাফল্যের সাথে শেষ করে ২০২৩ সালে তিনি লাভ করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলা দায়রা জজ আদালতের সদস্য হিসেবে আইনজীবী পেশায় নিয়মিত প্র্যাকটিস করে যাচ্ছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে এসে এমন একটি সম্মানজনক পেশায় জায়গা করে নেওয়া এই তরুণ আইনজীবী আজ এলাকার যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় নাম।

নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে অ্যাডভোকেট হ্লানুচিং মারমা জানান, সমাজ ও পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র এবং বঞ্চিত মানুষদের সঠিক আইনি সেবা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাটাই তাঁর জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই মহান আদর্শকে সম্বল করেই তিনি সামনের দিনগুলোতে আরও দূরদূরান্তে এগিয়ে যেতে চান।হ্লানুচিং মারমার এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য আবারও প্রমাণ করে—লক্ষ্য যদি পাহাড়ের মতো স্থির থাকে এবং পরিশ্রমে কোনো ঘাটতি না থাকে, তবে জীবনের কোনো প্রতিকূলতাই মানুষের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।

(আরএম/এসপি/সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test