E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নীলফামারীতে ঝড়ের তাণ্ডব, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি 

২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৯:১৭:৩৬
নীলফামারীতে ঝড়ের তাণ্ডব, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি 

ওয়াজেদুর রহামন কনক, নীলফামারী : নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক শক্তিশালী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের এই আকস্মিক দুর্যোগে ৪টি ইউনিয়নের অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ৩৮ হেক্টর জমির ভুট্টা খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কিশোরীগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঝড় ও বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের অন্তত দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ৩৮ হেক্টর জমির ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কিশোরীগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে ঝড়ের তাণ্ডব ছিল সবচেয়ে বেশি; যেখানে ১০০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ তছনছ হয়ে গেছে এবং আরও প্রায় ২০০টি ঘরবাড়ি হেলে পড়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ভুট্টা গাছসহ অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও হেলে পড়ে প্রকৃতির রুদ্ররূপ প্রকাশ পেয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকতারুল ইসলামের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের চিত্র। তিনি জানান, গভীর রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টির তোড়ে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরের চাল উড়ে যায় এবং বড় বড় গাছ উপড়ে বসতবাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। আকস্মিক এই দুর্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পাশাপাশি কৃষকের সোনার ফসলেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।

কিশোরীগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম জানিয়েছেন, ইউনিয়নের ১, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃতির তাণ্ডবে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এছাড়াও অসংখ্য বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হেলে পড়েছে এবং প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট হয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, ঝড়ের প্রচণ্ড শক্তিতে অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে এবং বহু ঘরবাড়ি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লোকমান আলমের মতে, ঝড়ে উপজেলার প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা গাছ হেলে পড়েছে। এর মধ্যে ১২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়াও পুটিমারী বাদে অন্যান্য ইউনিয়নেও ভুট্টা ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, কিশোরীগঞ্জে প্রায় ৪০টি পরিবারের ৮০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান।

একই সময়ে জলঢাকা উপজেলার খুটামারা, ধর্মপাল ও গোলনা ইউনিয়নেও ঝড়ের তাণ্ডব চলেছে। সেখানে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ২৬ হেক্টর জমির ভুট্টা খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন যে, ঝড়ে মূলত ভুট্টারই ক্ষতি হয়েছে এবং যেসব গাছ শুধু হেলে পড়েছে, সেগুলোর ফলন খুব একটা ব্যাহত হবে না।

ওদিকে জলঢাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্টে শতাধিক ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা গেলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আগামী এক দিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মাঝে বিদ্যুৎ বিভাগেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।

কিশোরীগঞ্জ নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন জানান, ঝড়ে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে এবং তার ছিঁড়ে গেছে। এই সুযোগে মোজাম্মেল অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে ৪টি পিলারের বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মূলত তার চুরি ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেই কিশোরীগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হয়নি।

(ওকে/এসপি/এপ্রিল ০২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০২ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test