E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের কেউ শঙ্কামুক্ত নয়’

২০২১ ডিসেম্বর ২৫ ১২:৫৮:৫০
‘লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের কেউ শঙ্কামুক্ত নয়’

স্টাফ রিপোর্টার : ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের মধ্যে ২১ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তাদের মধ্যে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) একজন মারা যান। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন চারজন। একজনকে ক্যাজুলিটি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ১৫ জন সেখানে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এ তথ্য জানিয়েছেন। দগ্ধ চিকিৎসা বিষয়ে জানাতে প্রেস ব্রিফিং করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে ডা. সামন্তলাল বলেন, ‘বর্তমানে ১৫ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে দুজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। একজন রয়েছে পিএইচডিওতে। ভর্তি হওয়া প্রত্যেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। আইসিইউতে থাকা একজনের শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অন্যদের শরীরও ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হওয়া আরও ৩২ জন রোগী বরিশালে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে তিনজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। তাদের সেখানেই রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তিদের মধ্যে কতজন শঙ্কামুক্ত, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. সামন্তলাল বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া রোগীদের অবস্থা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তারা শঙ্কামুক্ত কি না, তা এত দ্রুত বলা সম্ভব নয়। চিকিৎসা চলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দগ্ধদের নিয়মিত খবর রাখছেন। গতকাল তিনি ফোন করে সার্বিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে।

ওই সময় বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া ব্রিফিংয়ে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান। পরে ঝালকাঠি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশান্ত কুমার দে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারজিয়া আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃত বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়ায়।

এদিকে, ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনার পর হাবিব খান নামে একজনের মৃত্যু হয়, যা নিয়ে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। মৃতদের মধ্যে ৩৭ জনই বরগুনা জেলার বাসিন্দা।

এদিকে, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের দেখতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার আগে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

(ওএস/এএস/ডিসেম্বর ২৫, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২৬ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test