E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

রাষ্ট্রপতিকে ওয়ার্কার্স পার্টির ৬ প্রস্তাব

২০২১ ডিসেম্বর ২৮ ১৭:৪৫:৩৭
রাষ্ট্রপতিকে ওয়ার্কার্স পার্টির ৬ প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার : নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে চলমান সংলাপে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্কার্স পাটি।

ইসির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন পরিবেশে কাজ করা; সংবিধানের ১১৮ বিধি অনুযায়ী সংসদের নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনেই ইসি গঠনে আইন পাস করা; নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন; নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুজন নারী সদস্যসহ কমিশনকে নির্বাচনী আইনসমূহের যথাযোগ্য প্রয়োগ নিশ্চিতের বিষয়গুলো প্রস্তাবে উঠে এসেছে।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান ধারবাহিক সংলাপে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে এসব প্রস্তাবনার কথা জানায় ওয়ার্কার্স পার্টি।

লিখিত প্রস্তাবের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের স্থলে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের আমন্ত্রণে সংলাপে অংশ নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ পদ্ধতির আইন প্রণয়নসহ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের মতামত প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেছিলাম। ২০১৬ সালে ওই একই প্রস্তাব আপনার (রাষ্ট্রপতির) কাছে তুলে ধরেছি। আজকের সংলাপেও আমাদের সেই প্রস্তাবের পুনরুল্লেখ করছি।

এর আগে বিকেল পৌনে চারটার দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে দলের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নুর আহমদ বকুল, কমরেড কামরুল আহসান, কমরেড আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান এবং কমরেড নজরুল ইসলাম হক্কানী।

ইসি গঠনে ওয়ার্কার্স পার্টির ছয় প্রস্তাব নিচে তুলে ধরা হলো-

১. নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এর প্রতি তদ্রুপ মান্যতা ও মর্যাদা থাকতে হবে, যাতে করে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারে।

২. সংবিধানের ১১৮ বিধি বাস্তবায়নার্থে আইনের বিধানাবলি অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি আইন তৈরি করতে হবে। জাতীয় সংসদের নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই এই আইন উত্থাপন করে জরুরি ভিত্তিতে তা পাস করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ করতে চাই, দেশের সব রাজনৈতিক দলই এই আইন প্রণয়নের পক্ষে। নাগরিকদের পক্ষ থেকেও একই দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত সংবিধান বর্ণিত বিধি পরিপূরণে আপনি সরকারকে এই নির্দেশ দিতে পারেন। অন্যথায় প্রতিবারের মত এবারও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক জন্ম দেবে এবং এ ধরনের আস্থাহীনতার পরিবেশে নির্বাচন কমিশন যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারবে না।

৩. এই আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ নিয়োগের জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল থাকবে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে এই সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠিত হবে। এই সাংবিধানিক কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতি তাদের পরামর্শমত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ করবেন।

৪. যদি আইন প্রণয়ন একান্তই সম্ভব না হয়, তবে বিকল্প হিসেবে যে সার্চ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হচ্ছে সেক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিয়ে তা গঠন করা যেতে পারে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রতি পদে চারজনের নাম প্রস্তাব করবে। সার্চ কমিটির দেওয়া নামের তালিকা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি বাছাই করে সেখান থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে। রাষ্ট্রপতি ওই তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেবেন।

৫. নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুজন নারী সদস্য থাকবেন।

৬. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইনসমূহের যথাযোগ্য প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

(ওএস/এসপি/ডিসেম্বর ২৮, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test