বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে ছাড়া হচ্ছিল কোটি টাকার জাল নোট
স্টাফ রিপোর্টার : টেবিলের ওপর বসানো কম্পিউটার। তাতে যুক্ত প্রিন্টার। মাউসে চাপ দিলেই বেরিয়ে আসছে হাজার ও ৫০০ টাকার চকচকে নোট। তবে এসব টাকা আসল নয়, সবই জাল।
বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে কোটি টাকার বেশি জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল ঢাকার মিরপুরে পল্লবীর একটি বাড়িতে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এমন জাল টাকা তৈরি করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতেন ছগির হোসেন ও তার দলের সদস্যরা।
কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তাপর্যায়ে এসব জাল নোট ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে ছিল ডিলার। পুরো এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ হতো মাত্র চার হাজার টাকা। এর মধ্যে এক হাজার নোটের এক লাখ টাকার বান্ডিল ১৫ হাজারে বিক্রি হতো। আর ৫০০ টাকার নোটের এক লাখের বান্ডিল বিক্রি হতো ১০ হাজার টাকায়।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্লবীতে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মূলহোতা ছগির হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে এলিট ফোর্স র্যার। এসময় এক কোটি ২০ লাখ টাকা সমমানের জাল নোট, পাঁচটি মোবাইল, দুইটি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, তিনটি প্রিন্টারসহ জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার অন্যরা হলেন- মোছা. সেলিনা আক্তার পাখি ও রুহুল আমিন।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট বিক্রি করে আসছিলেন। চক্রটির মূলহোতা ছগির। আর বাকিরা তার সহযোগী। চক্রের সঙ্গে ১৫-২০ জন সদস্য জড়িত।
জাল টাকা কারবারে গ্রেফতার ছগির হোসেন ১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে একটি হোটেলে বয়ের কাজ নেন। পরবর্তীতে ভ্যানে ফেরি করে বিক্রি শুরু করেন গার্মেন্টস পণ্য। এসময় ছগিরের সঙ্গে ইদ্রিস নামে এক জাল টাকা কারবারির পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ও জাল নোট তৈরির হাতেখড়ি।
ছগির প্রথমে জাল নোট বিক্রি করতেন। পরে রপ্ত করেন নোট তৈরি। ২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বছরখানেক জেল খেটে বেরিয়ে এসে পুনরায় ২০১৮ সাল থেকে শুরু করেন জাল নোট তৈরি। এসব নোট তার চক্রে থাকা রুহুল আমিন, সেলিনাসহ ৭-৮ জনের মাধ্যমে বিক্রি করতেন।
পুরান ঢাকা থেকে জাল টাকার উপকরণ কেনেন ছগির
ছগির নিজেই পুরান ঢাকা থেকে জাল টাকা তৈরির উপকরণ টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি ক্রয় করেন। এরপর তার ভাড়া বাসায় গোপনে বিশেষ কৌশলে এ-৪ সাইজের দুইটি টিস্যু পেপার এক করে আঠা লাগিয়ে রঙিন প্রিন্টারে টাকা তৈরি করতেন। তিনি নিজেই করতেন প্রিন্টিং। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রিন্টিংয়ের কাজে অন্যান্যদের সম্পৃক্ত করা হতো না। জাল টাকা তৈরির পর সহযোগীদের মোবাইলে কল করে তার কাছ থেকে নোট নিয়ে যেতে বলতেন।
১৫ হাজারে লাখ টাকার জাল নোট বিক্রি
প্রতি এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে ছগিরের খরচ হতো ৪-৫ হাজার টাকার মতো। আর লাখ টাকার জাল নোট বিক্রি করতেন ১০-১৫ হাজার টাকায়। তার সহযোগীরা মাঠ পর্যায়ে এ টাকা সরবরাহ ও বিক্রি করতেন। টার্গেট বা চাহিদা অনুযায়ী ছগির প্রতিমাসে তাদের দিতেন বোনাসও।
যেখানে ছিল টার্গেট
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ছগির জানিয়েছেন, করোনাকালীন মাঝে মাঝে ছগির নিজেও এ জাল টাকা স্থানীয় বাজারে ব্যবহার করেছেন। কয়েকবার তিনি জনগণের হাতে পড়েছিলেন ধরাও। সাধারণত কোনো মেলা, ঈদে পশুর হাট ও অধিক জনসমাগম অনুষ্ঠানে তারা জাল নোট ব্যবহার করেন। সম্প্রতি পূর্বাচলে আয়োজিত বাণিজ্যমেলা ও শীতকালীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব এবং মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা তৈরির পরিকল্পনা করেন ছগির। এ লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তৈরি করে আসছিলেন জাল টাকা।
ধরা পড়ার আশঙ্কায় অব্যবহৃত অংশ পুড়িয়ে ফেলা হতো
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গ্রেফতার ছগির জাল নোট প্রিন্টিংয়ের সময় কাগজের অব্যবহৃত ও নষ্ট অংশগুলো পুড়িয়ে ফেলতেন। এছাড়া তিনি যেনো ধরা না পড়েন সে জন্য ঘন ঘন বাসা করতেন পরিবর্তন।
অপরদিকে গ্রেফতার সেলিনা আক্তার ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। স্বামীর মাধ্যমে ছগিরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর তিনি নিজেও এ চক্রে জড়িয়ে জাল নোট ব্যবসা শুরু করেন।
ছগিরের আরকে সহযোগী রুহুল আমিন বিভিন্ন সময় ৫০০ টাকার জাল নোট হাসপাতাল ও মেডিকেলসহ ব্যস্ত এলাকায় বিক্রি ও এক্সচেঞ্জ করেন। জাল নোট তৈরি ও বিক্রির মামলায় ইতোপূর্বে ২০১৭ সালে জেলে ছিলেন তিনি। বর্তমানে তার নামে মামলা রয়েছে।
(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ০৪, ২০২২)
পাঠকের মতামত:
- ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার’
- ‘বাংলাদেশ’ ধাপ্পার স্বরূপ এখন অনেকটা উম্মোচিত হয়েছে
- হেলিকপ্টারে বসে সুন্দরবন দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
- সালথার ফুলবাড়িয়ায় ৩শ' ফুট রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে এলাকাবাসী
- কাপ্তাইজুড়ে ওয়াগ্যোয়াই উৎসবের আমেজ, রথ ও ফানুস তৈরিতে ব্যস্ত তরুণরা
- ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারীঘাটে নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন
- মাদারীপুরে বোরকা পরে হামলা চালাতে গিয়ে যুবক নিহত, আহত ৩
- ফের ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিসহ নানা অভিযোগ শিক্ষক শহীদুলের বিরুদ্ধে
- প্রতিমা বিসর্জন ইছামতি নদীতে, হলো না দুই বাংলার মিলনমেলা
- শ্রীপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল মসজিদসহ বহু স্থাপনা
- গাজীপুরে গ্যাস বিস্ফোরণে ফুলপুরের একই পরিবারের তিনজন নিহত
- নিউইয়র্কে দুর্গাপূজা
- জনগণ কি শুধু নির্বাচনের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ
- সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা
- ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ, তবে শিগগিরই কিছু ঘটবে
- অভিনয় ‘সেকেন্ড চয়েস’, কর্পোরেট দুনিয়ায় প্রভা!
- ‘পদত্যাগ করে ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে রক্ষা করেছি’
- ‘বার্সাকে দেখিয়ে দিলাম আমরাই এখন বিশ্বের সেরা’
- সোনার দাম কমলো, আজ থেকেই কার্যকর
- মহম্মদপুরে ১২৮ মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
- ‘১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই’
- ‘সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে কাজ চলছে’
- ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত সুন্দর পূজা উদযাপন হয়েছে’
- প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
- 'জনগণ চায় পিপলস পার্টির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক'
- ঘন কুয়াশায় মেঘনা নদীতে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত ৪
- সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফকরুল মিয়ার মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর শোক
- নবীনগরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে
- 'নির্লজ্জ বেহায়া হতেই কী আমরা তোমাকে খুন করেছি কিংবা তোমাকে রক্ষা করিনি?'
- সেনাসদ্যসের বৈঠক ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড়, ঘটনা সাজানো দাবি করে মানববন্ধন
- কুমিল্লা-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র নিলেন আসিফ
- নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আরও এক মর্টারশেল উদ্ধার
- খাল খনন কর্মসূচিকে আরও প্রসারিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী নুর
- 'তোমার সহজাত উদারতা তোমাকে আকাশের সীমানায় উন্নীত করলেও তোমার ঘনিষ্ঠ অনেকের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ তোমার নৃশংস মৃত্যুর পথে কোনই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি'
- সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
- লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে দুর্ঘটনা
- সালথার ফুলবাড়িয়ায় ৩শ' ফুট রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে এলাকাবাসী
- বহুমাতৃক গবেষণা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য: গোবিপ্রবি উপাচার্য
- সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের একই পরিবারের তিনজন নিহত
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- অশ্রুসিক্ত নয়নে শিশু সাজিদকে বিদায়, জানাজায় হাজারো মানুষ
- খুন করবার মাত্র দুইদিন আগে মোশতাক বালি হাঁসের মাংস রান্না করে তোমার বাসায় দিয়ে যায়; কী ভয়ংকর খুনি মোশতাক!
- পীযূষ সিকদার’র কবিতা
- যে বুলেট তোমার প্রাণ কেড়েছে সেই বুলেটকে আমি কথা দিয়েছি, আমায় মেরো না; আমি মুজিবের মতো বাংলা ও বাঙালিকে ভালোবাসবো না
- রাঙা প্রভাত
-1.gif)








