E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘নির্বাচন ও গণভোট গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ০০:৪০:৫৬
‘নির্বাচন ও গণভোট গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’

স্টাফ রিপোর্টার : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদকে সমর্থন করেছে এবং তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচার করবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোট চাইবে।

প্রধান উপদেষ্টা আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ভোট সর্বজনীন, ন্যায্য, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি বলেছেন, ‘গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের মানুষ স্বাধীন ও ন্যায্য নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।’

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আলোচনায় অগ্রগতি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যদি সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্পন্ন হয়, যা ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্লকের মধ্যে নতুন যুগের অংশীদারত্ব সূচনা করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

পাম্পালোনি আরও উল্লেখ করেন, সমন্বিত অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা ২০২৪ সালের নভেম্বরে শুরু হয়েছে, যা পূর্বে ২০ বছর ধরে সাধারণ অংশীদারত্ব চুক্তির অধীনে ছিল। তিনি গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে “অবিশ্বাস্য এবং ব্যাপক” কাজের জন্য অভিনন্দন জানান।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন এবং দেশের একটি সংকটজনক সময়ের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে, যেগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে বিশেষ গুরুত্বের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুবই মনোযোগ দিয়ে এটি অনুসরণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে,’ তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, ইন্টারিম সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বড়।

ইইউ কর্মকর্তা বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে‌ পিসিএতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি দুই অংশীদারের মধ্যে গভীর সম্পর্কের পথ প্রশস্ত করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।

উত্তরে ড. ইউনুস ইইউকে গত ১৭ মাস ধরে ইন্টারিম সরকারের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি পিসিএ-কে বাংলাদেশের জন্য একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে শক্ত করবে।

পাম্পালোনি বলেন, ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েনের সিদ্ধান্তে যা প্রতিফলিত হয়।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান এই সপ্তাহের শেষের দিকে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মরশেদ, এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ০৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৯ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test