E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন’

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৪:৫৩:২৫
‘হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন’

স্টাফ রিপোর্টার : ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন তাতে মিথ্যা তথ্য ছিল জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, তখন যদি সেই কমিশন হলফনামাটা খতিয়ে দেখতো তাহলে তিনি (হাসিনা) নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুদক মিডিয়া সেন্টারে রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশ‌নের (র‌্যাক) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চাইবো না হরফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এরকম সম্পদের মালিক আগামী দিনে শাসক হিসেবে আসবে। আমি আবারও আপনাদের মনে করিয়ে দেই ২০০৮ সালে নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি সম্পদের যে হলফনামা বিবরণে দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে আমরা যে সম্পত্তি পেয়েছি তার মধ্যে ছিল বিস্তর ব্যবধান।

সে সময় যদি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করতো তাহলে সেই সময়ই তার এই প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটি বাতিল হয়নি কাজেই এই সময় আপনারা সবাই আমাদের সাহায্য করুন আমরা অবশ্যই রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত থাকব।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে জাতীয় নির্বাচনে যদি আমরা ন্যায়বান ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে পারি আমরা যদি দুর্নীতিবিহীন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে নিয়ে আসতে পারি, যদি তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের বিশ্বাস আগামী দিনগুলিতে বাংলাদেশ ভালো এগিয়ে যাবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিহার্য, আর এ ক্ষেত্রে দুদক ও সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি স্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে।

সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তনের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই প্রক্রিয়ায় দুদক একটি অংশীদার হিসেবে কাজ করবে এবং সাংবাদিকরা সরাসরি অবদান রাখবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যারা সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের অবদান অনস্বীকার্য। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দুদকের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

র‌্যা‌কের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এরপর হাসিনার সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল হয়। হাসিনার অধীনেই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়।

তার গোটা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামল বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে।

অবশ্য চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি জনরোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে ভারতে চলে যান।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ১১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১১ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test