E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আসন্ন নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে চান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১২:২৯:৩৪
আসন্ন নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে চান

স্টাফ রিপোর্টার : গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে চান। এর মধ্যে ৩০.২ শতাংশ ভোটার শুধুমাত্র প্রার্থীকে এবং ৩৩.২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল-উভয় বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস : আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী।

প্রতিবেদনে দেশব্যাপী ১১ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত একটি জরিপের ভিত্তিতে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের আচরণগত দিক ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কিছু সুস্পষ্ট পরামর্শও উঠে আসে।

বেসরকারি ও অলাভজনক সংস্থা কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজের (বিইপিওএস) যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক এবং সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের মধ্যে শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। অধিকাংশ ভোটারই ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পরিচয়ভিত্তিক বা ধর্মীয় ইস্যুর তুলনায় দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে যারা মানুষের কথা ভাবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করেন, এমন নেতৃত্বের প্রতিই ভোটারদের আগ্রহ বেশি।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, রাজনৈতিক তথ্যের জন্য অধিকাংশ ভোটার প্রচলিত ও ডিজিটাল-উভয় মাধ্যম ব্যবহার করছেন। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ভোটারদের কিছু সাধারণ উদ্বেগও রয়েছে, যার মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জালিয়াতির আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটার এবং আগের কোনো নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে আগামী নির্বাচনে দলীয় পছন্দে লক্ষণীয় বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদনটি মোট সাতটি অংশে বিভক্ত-
বিপুল ভোটার অংশগ্রহণের প্রত্যাশা: গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার জানিয়েছেন, তারা ভোট দিতে চান।

মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা বা বসবাসের স্থানভেদে এ প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় না।

আত্মপরিচয়ের চেয়ে শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বেশি প্রাধান্য পাবে: আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ধর্মীয় বিষয় উল্লেখ করেছেন মাত্র ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।

জনদরদী নেতা চান ভোটাররা: নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সী ভোটাররা এমন নেতাদের বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যারা মানুষের কথা ভাবেন এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রদর্শন করেন। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার তুলনায় এসব গুণ ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বেগ: প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার তুলনায় ভোটকেন্দ্রের সরেজমিন নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ বেশি। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব দলের ভোটারদের মধ্যেই প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।

দলীয় পছন্দে পরিবর্তন: সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের প্রায় অর্ধেক (৪৮ শতাংশ) বর্তমানে বিএনপিকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৭.৪ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামিকে পছন্দ করছেন।

ভোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ: প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ভোট দেওয়ার সময় প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন। এর মধ্যে ৩০.২ শতাংশ শুধুমাত্র প্রার্থীকে এবং ৩৩.২ শতাংশ প্রার্থী ও দল—উভয় বিষয় বিবেচনা করেন।

তথ্য পাওয়ার প্রধান মাধ্যম: রাজনৈতিক তথ্যের ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে প্রভাবশালী। ভোটাররা একাধিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনমত অনুসন্ধান করতেই এ গবেষণা পরিচালিত হয়। স্তরভিত্তিক দৈব নমুনায়ন (স্ট্র্যাটিফায়েড র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং) পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬)








পাঠকের মতামত:

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test