E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

২০২৬ মার্চ ০৭ ১২:২৪:০০
‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

স্টাফ রিপোর্টার : পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সব সময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

ইফতারের পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্বের কথা। এই মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য আমাদের জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা।

তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ এবং নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই।

তিনি আরও বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বকে মূল্যায়ন করি এবং আগামী বছরগুলোতে উন্মুক্ত আলোচনা ও শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রয়েছি।

তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমাজের সব স্তরে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন উদার অর্থনৈতিক নীতিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে, উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে উৎসাহিত করবে এবং সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়।

তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি যে, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও সততার ওপর এবং শাসনের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো। আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের অঙ্গীকার দৃঢ় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও আমরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য এবং কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা যায়।

পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আমরা আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন।

তথ্যসূত্র : বাসস

(ওএস/এএস/মার্চ ০৭, ২০২৬)










পাঠকের মতামত:

০৭ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test