E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ 

ছিনতাইয়ের মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্বে ‘এলেক্স ইমন’ খুন

২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৮:৫৩:১৮
ছিনতাইয়ের মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্বে ‘এলেক্স ইমন’ খুন

মোহাম্মদ সজীব, ঢাকা : ঢাকার মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং সংঘর্ষে ইমন হোসেন ওরফে ‘এলেক্স ইমন’ নামে এক গ্যাং নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার বিকেলে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিনতাই করা একটি স্মার্টফোনের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফুটেজে দেখা যায়, ধারালো অস্ত্র হাতে ১০ থেকে ১৫ জন হামলাকারী ইমনকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সাইফ (২৩), তুহিন (২০), মো. রাব্বী কাজী (২৫) এবং মো. সুমন (২৫)। এদের মধ্যে তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, একটি কাটার ও স্টিলের একটি পাত জব্দ করা হয়েছে। তারা সবাই প্রতিদ্বন্দ্বী ‘আরমান–শাহরুখ গ্রুপ’-এর সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের মা ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘এলেক্স গ্রুপ’ ও ‘আরমান–শাহরুখ গ্রুপ’-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

রবিবার সকালে কামরাঙ্গীরচরে দুই গ্রুপের মধ্যে ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোন নিয়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে বিকেলে রায়েরবাজার এলাকায় আবার মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ চরম আকার নেয়।

এক পর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ইমনকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, ইমন দীর্ঘদিন ধরে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ থানায় হত্যা, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলা রয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। সম্প্রতি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান ও শাহরুখ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, “ইমন এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকত না। বাইরে থেকে এসে অপরাধ করে আবার গা ঢাকা দিত। রবিবার সকালে এলাকায় এসে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, যার ধারাবাহিকতায় বিকেলে তাকে হত্যা করা হয়।”

তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত ১০ থেকে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দিনদুপুরে প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও ছিনতাইকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সহিংসতা বাড়ছে—এ ঘটনায় তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

(এসকে/এসপি/এপ্রিল ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৪ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test