E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হতে পারে’

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৪:২১:৩৮
‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হতে পারে’

স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, দাম আসলে বাড়বে কিনা নিশ্চিত নই।
তবে আপনারা সবাই ওয়েল কানেক্টেড মানুষ। আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার শঙ্কা আছে।
আবার আমরা দেখছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। রিসেন্ট যে অবস্থা সেটা হচ্ছে স্ট্রেট অফ আমেরিকা আবার ইরানের সঙ্গে জাহাজগুলো ব্লকেজ দিচ্ছে।
সো এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় থাকে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আসলে কঠিন।

তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বাড়াবো না। অলরেডি বলেছি, যদি এটা কন্টিনিউ করে দামের কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবার বলছি প্রয়োজন হতে পারে। মানে এটা হবেই, এ রকম কথা না। প্লিজ আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। হতে পারে, হতে পারে। আবার ওই যে বলছি যে জিনিসটা মানে ট্রাম্প তো প্রেডিক্টেবল না। যদি ওনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির বন্ধ, তেল নাই- এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এ রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কিনা? কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের স্টার রিফাইনারি থেকে। রিফাইনারি যে ক্রাইসিসটা আছে, আপনারাই পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন। আর এতদিনের মতো মজুদ আছে। আর এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে- সরকার রিফাইন পেট্রোল এবং ইম্পোর্ট যথেষ্টই করেছে। এ কারণে যে সংকটটা, আবার বলছি, একদম কোনো সমস্যা হবে না তা না। সাপ্লাইয়ে তো খানিকটা সংকট আছে আসলে। এটা কিন্তু একটা পূর্বাভাস ছিল আবার শেষ হয়ে যাবে, রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য রিফাইন পেট্রোল এবং মজুদ সরকার তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারাদিনে যত তেল বিক্রি হতো, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।

(ওএস/এএস/এপ্রিল ১৫, ২০২৬)

















পাঠকের মতামত:

১৫ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test