E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘যারা সংস্কার সংস্কার করে, তারা নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না’

২০২৬ এপ্রিল ২১ ০০:৩১:০৪
‘যারা সংস্কার সংস্কার করে, তারা নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না’

স্টাফ রিপোর্টার : কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কিছু কথাবার্তা বলতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি কমিশন করেছিল। ১১টি কমিশনের মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য এবং নারী আছে।
আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা। খেয়াল করে দেখবেন- যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদের সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।

বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে সহজে ওষুধ পেতে পারে, চিকিৎসা পেতে পারে সেটির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না। কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে, সেটির কথা তারা বলে না।
কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেইটির কথাও তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান বিষয়ে কথা বলে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত ঘটনা- এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে সংক্রান্ত পারিবারিক বিষয়, কিছু মহল রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। আপনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। অতীতেও তারা বিভিন্ন সময়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে- মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি, এমনকি ২০০৮ সালের ঘটনাতেও।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, যুবকদের কর্মসংস্থান দেশে ও বিদেশে। কিন্তু কিছু মহল এসব উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধিতা করে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। জনগণের স্বার্থের কাজ তারা উপেক্ষা করে, আর বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করতে চায়। তাই আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সমগ্র জাতির সামনে ‘ভিশন ২০৩০’ উপস্থাপন করেন। অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিএনপি কীভাবে দেশকে সাজাতে চায়, তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দেন। শুধু তাই নয়, তিনি একইসঙ্গে বিভিন্ন খাতে সংস্কারের প্রস্তাবও জনগণের সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও দেশের মানুষের সামনে সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। আপনারা নিশ্চয়ই বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা মনে রেখেছেন। এই কর্মসূচি আমরা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছি।

যখন বিএনপি এই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল, তখন অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সংস্কারের ‘স’ শব্দটিও উচ্চারণ করার সাহস পায়নি স্বৈরাচারের ভয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের দল, কৃষকের দল, মা-বোনদের দল, ছাত্র-জনতার দল- তারা সেই ভয়কে উপেক্ষা করে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেয়। কারণ, আমরা দেখেছিলাম গত ১৬ বছরে স্বৈরাচার কীভাবে ধাপে ধাপে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে- স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা খাত- সব কিছু দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। কিছু মেগা প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, তারা বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনগুলোর কাছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের পক্ষ থেকে নিজেদের মতামত উপস্থাপন করেছে।

আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো সংস্কার কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি এবং জনগণের কাছেও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি- কোন বিষয়ে আমরা একমত, আর কোন বিষয়ে দ্বিমত। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবেই। সব বিষয়ে একমত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে নিজ জেলা বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ আদালতে নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন, এরপর বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের নামফলক উন্মোচন শেষে গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

(ওএস/এএস/এপ্রিল ২১, ২০২৬)




















পাঠকের মতামত:

২১ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test