E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

‘নজরুলের আদর্শ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে পথ দেখাবে’

২০২৬ জুলাই ০২ ১৫:৫০:৩২
‘নজরুলের আদর্শ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে পথ দেখাবে’

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদ্‌যাপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা আমাদের জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে তার আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট এবং ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর লোগো উন্মোচন করেন।

এ সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম ও সাহিত্যচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম, দ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রতীক।
তার সাহিত্য, সংগীত, দর্শন এবং জীবনবোধ যুগে যুগে বাঙালি জাতির সংগ্রাম, সাহস ও প্রেরণার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্ম না হলেও নজরুলের হৃদয়জুড়ে ছিল এ দেশের মানুষ, এ দেশের মাটি ও সংস্কৃতি।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবমুক্তির যে আহ্বান নজরুল তার সাহিত্যকর্মে তুলে ধরেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার সৃষ্টি আজও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার শক্তি জোগায়।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নতুন প্রজন্ম একদিকে যেমন জ্ঞানের বিশাল পরিসরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যবোধের সংকটও তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে নৈতিকতা, সাহস ও মানবিকতার এক শক্তিশালী আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদ্‌যাপন কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।

বছরব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তাধারা দেশ-বিদেশে নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলের চেতনা আমাদের জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে তাঁর আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী ও সাহিত্যপ্রেমীরা ভার্চুয়ালি এবং সরাসরি অংশ নেন।

(ওএস/এএস/জুলাই ০২, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

০২ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test