E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুতে জনস্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার’

২০২৬ জুলাই ২৮ ১৫:১২:১৪
‘টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুতে জনস্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার : টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

টুথপেস্ট ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবার ও পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। তাই শুধু একটি পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এ জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে এটি শুধু টুথপেস্টের সমস্যা নয়; বরং একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট।

তিনি বলেন, টুথপেস্ট ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবার ও পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। তাই শুধু একটি পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এ জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসচেতনতা বেড়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার অবশ্যই জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা উচিত নয়
সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রমাণ ছাড়াই একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি থানায় এজাহার দিয়েছেন। এখন তদন্ত হবে। তদন্তের ভিত্তিতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে সাংবাদিকদের বা জনগণের সামনে এসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। তবে প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করা উচিত নয়। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও জনসম্মুখে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেই নয়, যেকোনো নাগরিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অভিযোগের পক্ষে নথিপত্র বা প্রমাণ থাকা জরুরি। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আইন অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক ছিল। তবে ২০১৮ সালে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট শেষ হওয়ার খবর আসতে শুরু করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও রাতের ভোটের মতো ঘটনা বিরল।

২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে অবসরের বিধান রয়েছে
সম্প্রতি কয়েকজন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিতে ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে সরকার কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। এটি সম্পূর্ণ আইনি বিধান।

তিনি বলেন, সরকার সেই বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি কোনো অপরাধের শাস্তি নয়। প্রজ্ঞাপনেও কোথাও অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল ইতিহাসের বড় অপরাধ
২০১৮ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় অপরাধ। রাতের বেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ দেশের গণতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক ছিল। তবে ২০১৮ সালে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট শেষ হওয়ার খবর আসতে শুরু করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও রাতের ভোটের মতো ঘটনা বিরল।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে পৃথক তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিলেন। পরে সে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সম্প্রতি একটি বইয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কেও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে এমন তথ্য রয়েছে, যাতে দেখা যায় অনেক কেন্দ্রে এক মিনিটেরও কম সময়ে বিপুলসংখ্যক ভোট পড়েছে বলে রেকর্ড রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব তথ্যও তদন্তের দাবি রাখে। প্রয়োজনে ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়েও অনুসন্ধান হওয়া উচিত।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে
নির্বাচনে শুধু ডিসি ও এসপি নয়, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি। তবে নির্বাচনী অপরাধের তদন্ত শুরু হলে যে পর্যায়ে যে ব্যক্তি জড়িত থাকবেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের বিচার না হলে সেটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।

৭.৬২ মিলিমিটার গুলি নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে ৭.৬২ মিলিমিটার বুলেট (গুলি) নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশের হাতে দীর্ঘদিন ধরেই চীনা টাইপ-৫৬ রাইফেল ছিল, যা ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহার করে। এ অস্ত্র আগে সেনাবাহিনী ব্যবহার করত। পরে তা বিজিবি এবং সর্বশেষ পুলিশের কাছে আসে।

তিনি বলেন, এ ধরনের রাইফেলের কার্যকর পাল্লা ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ পুলিশের হাতে এমন সামরিক মানের অস্ত্র থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে অতীতেও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের স্নাইপার ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে—এমন প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পুলিশের হাতে থাকা রাইফেলই ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহার করে। বিজিবির গুলি চালানোর ছবি ও ভিডিওও রয়েছে।

তিনি বলেন, তাই এ বিষয়ে নতুন করে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। তদন্তে ঘটনাগুলোর প্রকৃত তথ্যই উঠে আসবে।

(ওএস/এএস/জুলাই ২৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৮ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test