E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘ঢাকার নৌপথে আবারও ওয়াটার বাস চালু করা হবে’

২০২৬ আগস্ট ০২ ১৫:২৪:১৭
‘ঢাকার নৌপথে আবারও ওয়াটার বাস চালু করা হবে’

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার চারপাশের চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে আবারও ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক বিনোদন ও পর্যটনের বিকাশে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আশুলিয়া থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথের একটি অংশ যাত্রীবান্ধব। তবে অন্য অংশে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দেশের মানুষ যেখানে সড়কপথে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেখানে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে নদীপথে যেতে আগ্রহী হন না। ফলে যাত্রী সংকট তৈরি হয়।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ওয়াটার বাস পরিচালনা করেছিল। কিন্তু যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পরিচালন ব্যয়ের কারণে গত ১০ বছরে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে তারা সেবা চালিয়ে যেতে পারেনি।

তিনি বলেন, এবার কিছু বেসরকারি উদ্যোক্তা ওয়াটার বাস পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও বিনোদনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো।

হাতিরঝিলের ওয়াটার বাসের সঙ্গে এ প্রকল্পের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাতিরঝিলে অল্প দূরত্বে যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলেও তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু দীর্ঘ রুটে যখন সড়কপথে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তখন নদীপথে যাত্রী আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, যাত্রী বাড়াতে হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর ওয়াটার বাস ছাড়তে হবে। কিন্তু বেশি সংখ্যক নৌযান পরিচালনা করলে ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। সেই ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হলে পরিচালনাকারীদের আবার লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, নদীদূষণ বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নদীতে দুর্গন্ধ, আবর্জনা ও দূষিত পরিবেশ থাকলে মানুষ নদীপথে ভ্রমণে আগ্রহী হবে না। তাই নদী পরিষ্কার, দুই তীরের পরিবেশ উন্নয়ন এবং মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করে ওয়াটার বাসসহ নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই থেকে তিন মাস পর আবার বৈঠক করে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

নদীপথে নিচু সেতুর বিষয়েও শেখ রবিউল আলম জানান, টঙ্গীর রেলসেতুসহ কয়েকটি সেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচল সম্ভব নয়। সড়ক সেতু প্রয়োজন হলে উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই ওইসব স্থানে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে আবার ওয়াটার বাসে ওঠার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।

আগের প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিসির ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মূল কারণ ছিল যাত্রী স্বল্পতা, নদীদূষণ এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার বাস পরিচালনা করতে না পারা। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেই এবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আপাতত এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে। প্রয়োজন হলে পরে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কবে নাগাদ ওয়াটার বাস চালু করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ। বিভিন্ন দপ্তরকে দেওয়া দায়িত্বগুলো যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, তত দ্রুত ঢাকার চক্রাকার নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে ওয়াটার বাস চালু করা সম্ভব হবে।

(ওএস/এএস/আগস্ট ০২, ২০২৬)


পাঠকের মতামত:

০২ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test