E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৭:৩৪:০২
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর সঙ্গে যৌথভাবে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।  

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করাই ছিল অনুষ্ঠানটির লক্ষ্য। ২০২২ সাল থেকে এই তিন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কাজ করছে। অনুষ্ঠানটি চলমান এই উদ্যোগেরই অংশ।

এই উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১১১টি স্কুল ও মাদ্রাসায় তিন রঙের বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী তা আলাদা করার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে এই অভ্যাস চর্চার সুযোগ পাচ্ছে। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কুল ও মাদ্রাসার ১১ হাজার ৫০০-এর শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও আয়োজন করা হচ্ছে।

এছাড়া, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা পরিবার, বন্ধু এবং আশপাশের মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এর মাধ্যমে বৃহত্তর কমিউনিটিতে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুহুল কুদ্দুস খান, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় রুহুল কুদ্দুস খান প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব, সঠিক প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্লাস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য আলাদা করা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি, উদ্যোগটির আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং এ খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সক্ষমতা ও সুরক্ষা উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং মৌলিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ে ৩০০০ বর্জ্যকর্মী ও ২২০ জন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০০ বর্জ্যকর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে এবং ১৮২৭ জনকে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৮ হাজার পরিবারের কাছে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও দায়িত্বশীল প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, আগামী প্রজন্মকে পরিবেশ সুরক্ষায় আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

(পিআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test