মেঘের সাথে, মেঘের সাজে সাজেকে হারিয়ে যাওয়া
পূর্ণি ঘোষাল
প্রায় এক মাস আগ থেকেই প্রচার প্রচারণা শুরু। ঘুড্ডি ভ্রমন গ্রুপ ৭ম ট্যুর সাজেক। বাসের টিকেট, রির্সোট, চান্দের গাড়ী ও সাজেকে খাওয়ার অর্ডারও আগে থেকে দেয়া ছিল।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৩১ আগস্ট আসলো। আমি, আমার দাদা তপু ঘোষাল, আমার বৌদি বন্যা ঘোষাল, আমার আট বছরের ভাতিজা অভ্র ঘোষাল ও আমার ৪ বৎসরের ভাতিজি পিউ ঘোষাল, ঘুড্ডি ভ্রমন গ্রুপ-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখে (৩১ আগস্ট, বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে নয়টার সময় সাভারের আশুলিয়া থেকে একটি বাসে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। যাবার পথে আমরা অনেক মজা করলাম। পথে কুমিল্লার নুরজাহান হোটেলে যাত্রা বিরতি হলো। সবাই নাস্তা করলাম।
ভোরে বাস থেকেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ের প্রকৃতির রূপ দেখলাম। প্রকৃতি এত সুন্দররূপে সাজানো তা নিজ চোখে না দেখলে বুঝা সত্যিই দুষ্কর! সকাল ৯ টায় আমরা খাগড়াছড়ির দিঘিনালা পৌছালাম। নেমেই টুরিস্ট ক্যাম্প হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে সকালবেলার নাস্তা সেরে চান্দের গাড়ীতে করে (আগেই রেডি করা ছিল) সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
একসাথে ৪ টা গাড়ী চলা শুরু করলো। এ এক অন্য রকম অনুভুতি। ছেলেরা অনেকে চান্দের গাড়ির ছাদে উঠল। কারণ, সাজেকে যাওয়ার সময় ছাদে না উঠলে মজাই নাকি থাকে না। ছাদ থেকেই গান গাওয়া সেলফি তোলা। আহ্ কি দারুণ ভ্রমণ। সত্যিই অভিভূত; মুগ্ধ হয়েছি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে। পথের দুইপাশে সবুজেঘেরা অনন্য আর আমরা। যারা রোমান্টিক না তারাও রোমান্টিক হতে বাধ্য এমন পরিবেশে আমি নিশ্চিত। উঁচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা পার হতে হতে মন বিমোহিত হচ্ছিল বারবার। আমারও গান গাইতে ইচ্ছে করলেও দাদার ভয়ে গাইতে পারিনি। কারণ দাদা ভীষন রাগী। বাঘাইহাট চেক পোষ্টে গাড়ী থামলো আমরা সবাই নেমে পড়লাম। কেউ ছবি তুলছে, কেউ ডাব খাচ্ছে, কেউ আখ খাচ্ছে খুব আনন্দের সহিত। অবশেষে মজা করতে করতে আর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে স্বপ্নপুরী মেঘের দেশ সাজেকে পৌছালাম। পূর্ব নির্ধারিত মারুয়াটি রির্সোটে পৌছালাম। রির্সোটে সবাইকে রুম বন্টন করে দেওয়া হল। আমাদের ফ্যামিলি একটা রুমে উঠলাম। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে সবাই খাওয়া দাওয়া করলাম। হঠাৎ দেখি বৃষ্টি শুরু হলো। অনেকে মন খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু আমি মনে মনে খুব খুশি হলাম। কারণ সাজেকে আমার খুব ইচ্ছা ছিল বৃষ্টিতে সাজেক যাবো তা পুরন হলো।
মেঘের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া
বিকালে বৃষ্টি থামার পর সবাই আমাদের রেখে আগেই হেলিপ্যাডে চলে গেছে। পরে আমি, দাদা, বৌদি, ভাতিজা ও ভাতিজিকে নিয়ে হ্যলিপ্যাডে গিয়ে মেঘের সাথে ব্যাম্বুটি খেতে খেতে ছবি তুললাম। হঠাৎ দেখি পুরো সাজেকে মেঘে ডেকে গেল। এ এক অপরুপ দৃশ্য। না দেখলে বুঝা যাবে না। অসাধারণ পরিবেশ। কিছুক্ষণ পর আবার মেঘ চলে গেল। সন্ধ্যার পর আমরা একটা হোটেলে কফি খেলাম। কিছুক্ষণ আড্ডাও দিলাম।
রাতের সাজেক ও বারবিকিউ
আগেই পরিকল্পনা ছিল সাজেকে বারবিকিউ করবে। রাত ৮ টায় সবাই হোটেলের সামনে চলে আসছে। একসাথে বসে সবাই বারবিকিউ তৈরীর সময় ছিল। খুব মজা করছে আড্ডা। বারবিকিউ তৈরীর পর সবাই একসাথে মজা করে খেলাম।
রাতের আড্ডা, লটারী ও দলবেধে গান গাওয়া
খাওয়া শেষ করে সবাই কটেজে চলে আসলাম। তারপর কটেজের বারান্দায় সবাই দলবেধে বসে পড়লাম। এবার আড্ডা দেয়ার পালা। শুরু হলো গিটার বাজিয়ে গান। গানের এক ফাকেঁ লটারীর আয়োজন হলো। এরপর আড্ডা গান চললো রাত ২টা পযর্ন্ত। মাঝে মাঝে আমার বৌদির সাথে একটু ঝগড়াও করেছি। সাজেকের প্রথমদিন এভাবেই কেটে গেল।
সকালে মেঘ দেখতে ভোরে উঠা
রাতেই সবাইকে বলে দেয়া হল। সকালের সূর্যোদয় দেখতে হলে ভোর ৫টায় উঠতে হবে। তাই সবাই ভোর পাঁচটায় উঠে হ্যালিপ্যাড গেলাম সূর্যদোয় দেখার জন্য। সেখানে গিয়ে আমরা মেঘের উপরে ভেসে বেড়াচ্ছি এমনই মনে হল। দিগন্ত বিস্তৃত মেঘ-যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু মেঘ আর মেঘ। তবে কালো মেঘের আড়ালে সূর্যটা হারিয়ে গিয়েছিল তাই সূর্যদোয় দেখা হলোনা। তাতে কি মেঘের রাজ্যেতো হারিয়ে যেতে পেরেছি। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির রহস্য এতবেশি বিমোহিত করেছিল সত্যিই ভালো না লেগে উপায় নেই। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলাম আর ছবি তুললাম। পুরো হেলিপ্যাড ঘুড্ডি ভ্রমন গ্রুপ এর দখলে। সবাই একসাথে গ্রুপ ছবি তুললাম। তার পরে গেলাম লুসাই গ্রাম। টিকিট কেটে ভিতরে গেলাম। কেউ কেউ লুসাইদের পোশাক ভাড়া করে পরে ছবি তুলছে, কেউ দোলানায় দুলছে, কেউ গান গাচ্ছে।
খাগড়াছড়ির আলু টিলা ও ঝুলন্ত ব্রীজ
সবকিছু ঘুচিয়ে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি দিঘিনালার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আবার সেই আকাবাকা পথ, উচুনিচু পথ। পথে হাজাছড়ি ঝর্না দেখলাম। দিঘিনালা এসে দুপুরে টুরিস্ট ক্যাম্প হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে ঝুলন্ত ব্রিজ ও আলুটিলা গুহা দেখতে রওনা হলাম। প্রথমে ঝুলন্ত ব্রিজে প্রবেশ করে কিছু সময় কাটিয়ে ছবি, সেলফি তুলে আলু টিলায় উদেশ্যে রওনা হলাম। আলুটিলা গিয়ে গুহাতে প্রবেশ করলাম। অনেকে ভয়ে ফেরত আসলো। অসাধারণ অনুভুতি। সবাই হাতে মশাল নিয়ে গেলাম। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মনকে ছুঁয়ে দিয়েছিল। যদিও দিনের বেলা আসতে পারিনি আমরা আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।
ঢাকায় ফেরত
রাত সাড়ে আটটার দিকে আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম রাত্রিরকোলে সমস্ত ক্লান্তি ঢেলে দিয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে। প্রাপ্তি ছিল অনেক যা এককথায় লিখে প্রকাশ করা যায় না। ওখানে গিয়ে অনেকের সাথে পরিচয় হলো। অনেকের হাসিমাখা চোখ জ্বলজ্বল করছিল আবার যারা প্রিয় মানুষকে নিতে পারেনি তাদের মধ্যে কিছুটা শূন্যটা দেখেছি। অনেক ভালো ভালো বাবাকে দেখেছি সন্তানের যত্ন নিতে। মনটা ভরে গেল। অবশেষে ভোর ৬টায় গন্তব্যস্হলে পৌঁছালাম।
যাইহোক, সবকিছু ভালই ভালই হয়েছে। ধন্যবাদ জানাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যারা আমাদের আনন্দদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ট্যুরে সবচেয়ে পরিশ্রম করেছে শরীফ ভাইকে ধন্যবাদ এবং ট্যুরের সকল সদস্যকে।
(টিজি/এএস/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৩)
পাঠকের মতামত:
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
- শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ
- মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে গেজেট প্রকাশ
- সুন্দরবনে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়
- দিনাজপুরে নদীতে ডুবে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ৪ সহপাঠী আটক
- কালিগঞ্জের এআই ক্লিনিকে ডাঃ তানিয়ার ভুল সিজারে রোগী সাবিনার মৃত্যু
- পাংশায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী গ্রেফতার
- ‘১০ টাকায়’ সিম কিনে প্রতারণার ফাঁদে আসমা!
- লৌহজংয়ে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ বিনষ্ট
- রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি
- মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনে নিখোঁজ অনন্তের সন্ধান চেয়েছেন সহপাঠিরা
- সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিআরটিএর প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- সাতক্ষীরায় বস্তিবাসীদের আবাসন সংকট সমাধানে সংলাপ, ৮ দফা সুপারিশ
- সাতক্ষীরায় পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির তিন নেতা-কর্মীর চাঁদা আদায়, গ্রেপ্তার ১
- শিক্ষার্থী চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
- বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে রাজশাহীতে ‘বাংলা কিউআর’ কর্মশালার আয়োজন
- যে রক্তের দাগ মোছেনি : ২১শে আগস্ট থেকে ২০২৪’র রক্তাক্ত পরিক্রমা
- কলকাতার হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাজু ও রেবতীর মৃত্যু
- ট্রানজিট নোড থেকে নিয়ম-প্রভাবক: বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত শক্তি
- উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের আলোচনায় সরকার
- মাঠে ঘাম ঝরছে, চোখে জাতীয় দলের স্বপ্ন সিরাজগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েদের
- ডাক্তারের অবহেলার সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যু
- কলাপাড়ায় বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা
- সুবর্ণচরে মাদক-সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী র্যালি সমাবেশ
- বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো না দুই শিশুর, ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল বাবার প্রাণ
- ‘শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্প গোটা বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত’
- কলাপাড়ায় সাবেক সেনা সদস্যের স্ত্রীকে হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করে ঘরের মালামাল লুট
- পাংশায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস অনুষ্ঠিত
- পঞ্চগড়ের দ্বারিকামারি মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- তাড়াশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নজরুল হাসানের গণসংযোগ শুরু
- টুনিরহাট গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টুস্টার বোদা
- ঝালকাঠি থানা হেফাজতে যুবকের মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা!
- নীলফামারী চেম্বার নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পূর্ণ প্যানেলে জয়
- বায়ুদূষণ রোধে ৯ নির্দেশনা ৩ সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ন চান হাইকোর্ট
- ভৈরবে সড়ক দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান
- ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
- সাতক্ষীরা সদরের অদম্য নারী পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত পাঁচজনের আত্মকথা
- পঞ্চগড় টুনিরহাট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- অভিজ্ঞতা, সততা ও উদ্যমে প্রীতম সাহার সাফল্যের নতুন অধ্যায়
- নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক
- পঞ্চগড় সোহান স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শনিবার
- তজুমদ্দিনে মেজর হাফিজকে গণসংবর্ধনা
- কলাপাড়ায় পাচারকালে ইলিশসহ ২৭ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
-1.gif)








