E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

স্তন ক্যানসারে ধুঁকছেন দুই সন্তানের জননী সামাথুই মারমা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৭:৫৮:১৫
স্তন ক্যানসারে ধুঁকছেন দুই সন্তানের জননী সামাথুই মারমা

রিপন মারমা, রাঙামাটি : মাতৃত্বের মায়া, সংসারের ছোট্ট সুখ আর বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি—সবকিছু আজ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে এক নির্মম মরণব্যাধির কাছে। রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মকবাছড়া এলাকার বাসিন্দা সামাথুই মারমা (৩১) দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস ধরে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন নিভে যাওয়ার পথে এক মায়ের জীবনের প্রদীপ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগে চলা সামাথুই মারমাকে প্রথমে চন্দ্রঘোনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তাঁর শরীরে স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল ল্যাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মজিবের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর সুস্থতার জন্য ২১ দিন পরপর আপাতত চারটি ইনজেকশন দিতে হবে, যার শুধু ইনজেকশনগুলোর দামই পড়বে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এই ইনজেকশনগুলো দেওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসার ধাপে এগিয়ে যেতে হবে, যেখানে আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকার প্রয়োজন।

রোগের ভয়াবহতার কথা শোনার পর থেকেই যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে এই হতদরিদ্র পরিবারটির ওপর। সামাথুই মারমার স্বামী উথোয়াইচিং মারমা পেশায় একজন দিনমজুর। যেদিন কাজ জোটে, সেদিন খাবার জোটে—এমন টানাপোড়েনের সংসারে ৩ লাখ টাকার মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা খরচ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ধারদেনা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক ওষুধপত্র কিনতে গিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারটি। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্যও আজ তাদের নেই।

এদিকে মায়ের বুকজুড়ে আজ কেবল হাহাকার। ১৪ বছরের বড় মেয়ে মেঞোউ মারমা সপ্তম শ্রেণীতে এবং ৯ বছরের ছোট মেয়ে বাচিংথুই মারমা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। মা যেকোনো মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কায় অবুঝ শিশু দুটিও এখন সারাক্ষণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বাড়ির কোণে ছোট মেয়ে দুটির দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছেন অসহায় মা সামাথুই মারমা।

চিৎমরম বাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই পরিবারটিকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থিক অনটনের কারণে থমকে গেছে একজন মায়ের জীবন বাঁচানোর আকুতি।

জীবনমৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে সামাথুই মারমার পরিবার সমাজের বিত্তবান, দাতা গোষ্ঠী এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। আপনার সামান্য সহানুভূতি ও সহযোগিতাই পারে এই অসহায় মাকে তাঁর অবুঝ সন্তানদের বুকে ফিরিয়ে দিতে, রক্ষা করতে পারে একটি সাজানো সংসারকে।

সামাথুই মারমার চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন নিচের বিকাশ বা নগদ নম্বরে। আপনার সামান্য সাহায্যই হতে পারে এই মায়ের বেঁচে থাকার নতুন ঠিকানা।

(আরএম/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test