E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

ধামরাইয়ে ১৬১ টি মন্দিরে প্রতিমা গড়া ও আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

২০২০ অক্টোবর ১৭ ১৬:২৫:১৯
ধামরাইয়ে ১৬১ টি মন্দিরে প্রতিমা গড়া ও আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

দীপক চন্দ্র পাল, ধামরাই : আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়েরর প্রধান ধর্মীয় শারদীয়া দূর্গোৎসব। এবার করোনরা মহামারির কারনে পুজা অনুষ্টিত হবে কবে,উৎস্ আয়োজন হবেনা। প্রশাসনিক নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি মন্দিরে আগত ভক্ত দর্শনার্থীদের মাক্স পরে ও প্রতিটি মন্দিরে হ্যান্ড ওয়াশ রাখবে ও সামাজিত দুরত্ব ও সরকারী সকল স্বাস্থবিধি মেনে অনুষ্ঠান হবে বলে পুজারী কর্তৃপক্ষ জানান। 

বাঁশ দিয়ে অবকামো তৈরী,প্রতিমা শিল্পীরা তাদের সহ কর্মী দের দিয়ে মাটি নরম ও তৈরী করার পর প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ও মূর্তি গড়ার কাজ ও প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছেন।

করোনা মহামারিত দেশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতে থাকায় মরকারী সিদান্ত মোতাবেক পুজারী নের্তৃবৃন্দের সিদান্তে এবারের শারদীয় উৎসবে সকল আয়োজন কমিয়ে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার অনুষ্টানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে।মন্দিরে মন্দিরে সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে প্রতিটি মন্দিরের আয়োজক বৃন্দরা। অধিকাংশ মন্দিরে দেবীর গড়ন ও আকার ছোটে করে মুর্তি তেরী করা হয়েছে।

এবার ঢাকার ধামরাই উপজেলায় বিগত বছরের ১৯৫ টি পূজা হলেও এবার অনািষ্ঠত হচ্ছে ১৬১ টিমন্দিরে দূর্গা পুজা। সিদান্ত হীনতার কারনে এবার মুর্তি গড়ার কাজও দেরীতে সম্পন্ন হচ্ছে বলে পুজারীরা জানান।শিল্পিরা মাটি ;িদয়ে প্রতমা গড়ার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। দু-কিন দিনের মধ্যেই রংতুলি ও সাজ-স্বজ্জার তা শুরু তরবে প্রতিমা শিল্পীরা।

পারিবারিক ভাবে আয়োজন করেছেন পুজারী কাজল পাল জানান করোনার কারনে অর্থনৈতিক মন্দা ভাব থাকায় তাদের মন্দিরে প্রতিমার সাইজ ছোটো আকার করেছেন।সকল নিয়স কানুন মেনেই পুজার আয়োজন করছেন।

স্থানীয় সমাজ সেবক ও বড় বাজার মন্দিরে সাধারন সম্পাত রঞ্জিত পাল বলেন ও তিনি বলেন পুজা হবে উৎসব হবে না।স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজার আয়োজন করা হয়েছে।

শিল্পী দিপংকর পাল বলেন,করোনায় অর্থনৈতিক মন্দা ভাব বিরাজ করছে অনেকেই এবারপুজা করছেন না।তিনি গতবার ১০টি প্রতিমার অর্ডার নিয়ে ছিলেন, করোনায় আর্থিক অনটনের কারনে পুজা অনেকেই স্থগিত রাখায় এবার ৭ টি প্রতিমার কাজকরছেন।এতে করে আর্থিক ভাবে শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলেন।

শিল্পী সঞ্জয় পাল বলেন করোনায় অর্থনৈতিক মন্দা ভাব বিরাজ করছে অনেকেই এবারপুজা করছেন না।তিনি গতবার আটটি প্রতিমার অর্ডার নিয়ে ছিলেন করোনায় আর্থিক অনটনের কারনে পুজা অনেকেই স্থগিত রাখায় এবার ৫ টি প্রতিমার কাজ করছেন । এতে করে আর্থিক ভাবে শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলেন।সজ্ঞয় তার কলেজ পড়ুয়া শিল্প বোন কে নিয়ে কাজ করছেন। মাটির কাজের পাশপাশি দু একটির রংয়ের কাজও শুরু করেছেন। ধামরাই এই প্রথম কোনো নারী শিল্পী প্রতিমা গড়ায় অংশ নিয়েছেন।

নারী শিল্পী পূর্ণ লক্ষী পাল বলেন করোনার কারনে কলেজ বন্ধ এসময়ে দাদার সাথে প্রতিমা গড়া ও রং তুলির কাজে অংশ নিয়ে ধামরাই পৌর সদরের বকুল তলা মন্দিরের মুর্তির কাজ করছেন। শিল্পী বলেন পারিবারিক ঐতিহ্য বাবার পরে দাদার কাছ থেকে অনুপ্রানিত ও শিখে দাদাকে সাহায্য করছেন বলেন। এতে তার ভাল লাগে বলেও জানায়।

পৌর মহা শশ্মান কমিটির সভাপতি প্রাণ গোপাল পাল বলেন-ধামরাইয়ের বড় আয়োজন কায়েত পাড়া মাধব মন্দির সংলগ্ন দুর্গা মন্দিরে। সমগ্র উপজেলা ও তার আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীরা আসেন এখানে। এবার করোনার কারনে তারা আয়োজন সংক্ষেপ করেছেন। কোনো সাংস্কৃতিক ও নাটক,আরতি প্রতিযোগিতা,ধর্মীয় আলোচনা সভা সহ আয়োজনের ব্যাপকতা কমিয়ে আয়োজন করছেন বলেন।

ধামরাই তামা-কাসা,কারু শিল্পী ও বিশ্বকর্মা নামে খ্যাত সুকান্ত বণিক(লাল জামা পরিহিত) বলেন-দেশ ও সমগ্র বিশ্ব করোনার কারনে চরম ভাবে বিপর্যস্ত সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছি পুজা করবো কিনা। তিনি বলেন বণিক পরিবারের শত বর্ষের পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই হয়।তিনি বলেন তার ধামরাই মেটাল ত্র্যাফ্ট প্রতিণ্ঠান ও শারদীয় উৎসব পুজা দেখতে বিদেশী দেশী পর্যটকরা আসেন। তিনি কিভাবে এটা নিয়ন্ত্র করবেন এই ভাবনায় পড়েছেন।

তিনি তার প্রতিণ্ঠান থেকে গত তিন বছর আগে পচিশ লাখ টাকা মুল্যের একচি অট্ট ধাতুর প্রতিমা তৈরী করে পুজা করেন। এবারো সেই ভাবে আয়োজন করবেন। করোনার কারনে সরকারী সব বিধি নিষেধ মেনে আয়োজন করার কথা বলেন।

বাংলাদেশ পুজা উদ্্যাপন পরিষদের ধামরাই উপজেলা শাখার সাধরন সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন বলেন,ধামরাইয়ে এবার পৌর এলাকার বিভিন্ন মন্দিরে ৩৪ টি পূজার আয়োজন রয়েছে। ১২৭ টি পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মন্দির গুলিতে।সকল সরকারী বিধি নিষেধ পুজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসন যেভাবে করোনাকালীন নির্দেশনা দিয়েছৈ সেভাই আমরা প্রতিটি মন্দিরে আয়োজন করা প্রস্ততি নিয়েছি।তিনি বলেন প্রতিটি মন্দিরে এবারপ্রর্থনা করা হবে দেশ ও বিশ্ব থেকে অচিরেই যেনো করানার হাত থেকে মুক্ত হয়।

প্রশাসনিক নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি মন্দিরে আগত ভক্ত দর্শনার্থীদের মাক্স পরে ও প্রতিটি মন্দিরে হ্যান্ড ওয়াশ রাখবে ও সামাজিত দুরত্ব ও সরকারী সকল স্বাস্থবিধি মেনে অনুষ্ঠান হবে বলে পুজারী কর্তৃপক্ষ জানান।

(ডিসিপি/এসপি/অক্টোবর ১৭, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

২৮ অক্টোবর ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test