E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

পাথরঘাটায় ১০ টাকার চালে বিত্তবানদের নাম!

২০২০ অক্টোবর ৩১ ১৫:৫১:০৫
পাথরঘাটায় ১০ টাকার চালে বিত্তবানদের নাম!

অমল তালুকদার, পাথরঘাটা (বরগুনা) : পাথরঘাটার কালমেঘায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকার চালের তালিকায় সচ্ছ্বল বিত্তবানেরা! এলাকায় সমালোচনার ঝড়।

কালমেঘা ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এমন-ই একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গত ৬ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কালমেঘা ইউনিয়নের ৫,৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি ডিলার সগির হোসেন বলেন, কালমেঘার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নতুন তালিকায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল তাদের চাল বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত নতুন তালিকার চাল বিতরনে বন্ধ থাকবে। তবে পুরাতন তালিকার চাল বিতরণ চলছে।

বাদপড়া উপকারভোগীরা জানান, সম্প্রতি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকার চালের উপকারভোগীদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ ও স্থান ত্যাগ করেছেন তাদের বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ওই প্রক্রিয়ায় কালমেঘা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ২০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই ২০ জনের সবাই গরীব, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সদস্য। কিন্তু এ ২০ জনকে বাদ দিয়ে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা সবাই বিত্তবান ও বেশ কয়েকজন একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিও উপকারভোগী রয়েছেন।

ওই ২০ জনের তালিকায় প্রতিবন্ধী স্বপন খতিব রয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ডান চোখটি পুরোপুরি নষ্ট। ওই চোখটি দিয়ে আমি কিছুই দেখিনা। এতে আমি ভালোভাবে কাজও করতে পারি না। তবে সরকার থেকে ১০ টাকার চালের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে নাম থাকায় কোনমতে আমার সংসার চলতো। কিন্তু এ মাসে সবাই চাল পেলেও আমি চাল পাইনি। তাই কিভাবে সংসার চালাবো বুঝিনা।

নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক বাদপড়া উপকারভোগী বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নীতিমালা ২০১৭ মোতাবেক ১০ টাকার চালের উপকারভোগী পরিবার বাছাইয়ের জন্য প্রধান প্রধান শর্ত অমান্য করে কালমেঘা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান নতুন করে যাদের তালিকাভুক্ত করেছেন ; তারা সবাই ধনী ও বিত্তবান এবং স্বচ্ছল। তাই গ্রামের এইসকল বিত্তবানদের ১০ টাকার চাল দেয়ায় গ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিব এ তালিকা করে থাকেন। এখানে আমার কোনো দায়ভার নেই।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শরীফ মোল্লা বলেন, ইউএনও স্যার থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগটি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ইতিমধ্যে নতুন তালিকার চাল বিতরন স্থগিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন এই খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

(এটি/এসপি/অক্টোবর ৩০, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

৩০ নভেম্বর ২০২০

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test