E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

কালিগঞ্জের সেই আলোচিত দলিল লেখক ও তার দুই স্ত্রীর ১১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

২০২১ জানুয়ারি ১৯ ১৮:৩৬:৪৬
কালিগঞ্জের সেই আলোচিত দলিল লেখক ও তার দুই স্ত্রীর ১১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

অরিত্র কুণ্ডু, ঝিনাইদহ : পেশায় সামান্য দলিল লেখক। তেমন অর্থবিত্ত ছিল না। ভবঘুরে থেকে ডাব বিক্রেতা ও পরে দলিল লেখকের কাজ শুরু করেন আওয়ামীলীগ নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হাত করে কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব। নির্বাচিত হন দলিল লেখক সমিতির অঘোষিত সাধারণ সম্পাদক।

ব্যাস! আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নাসিরকে। দলিল লেখক সমিতির নামে সিন্ডিকেট গঠন করে এখনো হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। মাসের পর মাস বছরের পর বছর চলতে থাকে কৃষকের রক্তচোষা কায়কারবার। অর্থের জোরে হন ইউপি চেয়ারম্যন থেকে পদধারী আওয়ামীলীগের নেতা। শুনতে রুপকথার গল্প মনে হলেও সেই দলিল লেখক নাসিরসহ দুই স্ত্রী মিসেস খোদেজা বেগম, মিসেস মাহফুজা বেগম (ছোট শ্যালিকা) ও স্বজন মিকাইল হোসেন জোয়ার্দ্দারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঝিনাইদহ সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ আদালতের বিচারক মোঃ আবু আহছান হাবিব এই আদেশ দেন। গত ১১ জানুয়ারি আদালতের এই আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে পৌছে গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য জানান যশোর দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামী কালীগঞ্জ উপজেলার সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, একই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক নাসির উদ্দিন চৌধুরীর চারটি একাউন্ট অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখা, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এণ্ড কর্মাস ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখা, রুপালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখা, ও ব্র্যাক ব্যাংক যশোর শাখার একটি হিসাব।

এছাড়া তার প্রথম স্ত্রী মিসেস খোদেজা বেগমের ব্র্যাক ব্যাংকের দুইটি হিসাব, দ্বিতীয় স্ত্রী মিসেস মাহফুজা বেগমের সোনালী ব্যাংক যশোরের চুরামনকাটি শাখার দুইট হিসাব রয়েছে। এই আদেশে নাসিরের স্বজন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুলফডাঙ্গা গ্রামের মোঃ রেজাউল করিম জোয়ার্দ্দারের পুত্র মোঃ মিকাইল হোসেন জোয়ার্দ্দারের ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড যশোর শাখার তিনটি হিসাব রয়েছে। সবমিলিয়ে ওই চার ব্যক্তির ১১ টি হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দুদক ও আদালত সুত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও পুকুরিয়া গ্রামের জামসের আলীর পুত্র নাসির উদ্দিন চৌধুরী নামে প্রায় ৬ কোটি টাকা অবৈধ পন্থায় উপার্যনের অভিযোগে দুদক যশোর সমন্মিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাঃ মোশারফ হোসেন বাদি একটি মামলা দায়ের করেন। গত ২৪ নভেম্বর দুদুক কর্মকর্তা এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে আসামী নাসির চৌধুরী তার নিজ নামে ব্র্যাক ব্যাংক লিঃ যশোর শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব ও ১২ টি এফডিআর হিসাব খোলেন। এগুলোতে তিনি বিভন্নি সময়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঞ্চয়ী হিসাব থেকে টাকা স্থানন্তর করে অন্য এফডিআর এ জমা করা হয়েছে। সর্বপরি সকল ক্ষেত্রে এফডিআর হতে হস্তান্তর করে মূল সঞ্চয়ী হিসাবে এনে আবার সেখান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। নাসির উদ্দিন চৌধুরী ০৭/০২/২০১২ তারিখ থেকে ৩০/০৭/২০১৮ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৭ টি এফডিআরে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। যা একই ব্যাংকে স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে সঞ্চয়ী হিসাবে হস্থান্তর করেন।

এছাড়া ওই শাখায় স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে ১ টি সঞ্চয়ী ও ৫ টি এফডিআর খুলে ০৪/০২/২০১৩ তারিখ হতে ০৭/১১/২০১৯ তারিখে বিপুল পরিমান টাকা লেনদেন করেন। পরে ওই সকল এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ১ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৪১৬ টাকা উত্তোলন পূর্বক স্থানন্তর করেন। নাসির উদ্দিন তার শালিকা ও পরে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের এর নামে ওই ব্র্যাক ব্যাংক শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব ও ৪ টি এফডিআর খুলে লেনদেন করেন। পরে গত ০২/০২/২০১৪ তারিখ হতে ১৪/০৫/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৮ টাকা উত্তোলন পূর্বক স্থানন্তর করেছেন। শ্যালক মোঃ জিয়াকুব আলীর নামে একই ব্র্যাক ব্যাংক ও যশোরের অন্য একটি এবি ব্যাংকে এফডিআর ও এম.আই.ডি.এস হিসাব খুলে ৮০ লাখ টাকা জমা করেছিলেন। যা সম্পূর্ণ উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানন্তর করেছেন। নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কলেজ পড়ুয়া পুত্র মোঃ মারুফ হোসেন রিয়াজের নামে রুপালী ব্যাংক লিঃ কালীগঞ্জ শাখায় আর.এস.এস হিসাব খুলে সেখানে ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। যাও পরবর্তীতে উত্তোলন করে স্থানন্তর করেন।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয় অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন চৌধুরী অবৈধ পন্থায় দূর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৭০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪ টাকা অর্জন করেছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে কৃষকরা জমি রেজিষ্ট্রি করতে আসলে দুর্নীতিবাজ নাসির জনপ্রতিনিদের নাম ভাঙ্গয়ে সরকারী ফির চেয়ে বেশি টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকা তিনি কোন দলিল লেখককে ভাগ না দিয়ে নিজে পকেটস্থ করে দিন দিন টাকার কুমির বনে যান। ইসলামের শরা শরীয়াকে থোড়ায় কেয়ার করে স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করে দুই বোনকে নিয়ে সংসার করে যাচ্ছেন। এদিকে আদালতে মামলা হলেও নাসির বুক ফুলিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে হতাশা ও মিশ্র পতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে দুদক যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ নাজমুচ্ছসাদাত ইতিপূর্বে গনমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছিলেন, দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমতি পেয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত ও পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে, এখনও আসামী গ্রেপ্তার হয়নি।

(একে/এসপি/জানুয়ারি ১৯, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test