E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Transcom Foods Limited
Mobile Version

স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামীর আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড়!

২০২১ এপ্রিল ১১ ১৯:১৭:৫৯
স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামীর আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড়!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে ট্রাকচালক স্বামী আলাউদ্দিনের আত্মহত্যা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করলেও পরিবারের দাবি আলাউদ্দিনকে শ্বসরোধে হত্যা করে রশিতে ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার সল্লা চরপাড়া গ্রামের শহর আলীর ছেলে আলাউদ্দিনের সঙ্গে একই উপজেলার আনালিয়াবাড়ী গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে নুরজাহান আক্তারের ২০১১ সালে শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রতিবেশি আফছার আলীর ছেলে সোহেল মিয়ার সাথে গৃহবধূ নুরজাহান আক্তার পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরকীয়ায় জড়িয়ে তারা একাধিকবার স্থানীয়দের হাতে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের এক পর্যায়ে বিগত ২০১৪ সালের ১১জুন তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়।

পরে সংসারের কথা বিবেচনা করে পরিবারের সহায়তায় তাদের পুনরায় বিয়ে হয়। কিন্তু তারপরও নুরজাহান আক্তারের পরকীয়া বন্ধ হয়নি। একই কারণে ২০১৭ সালে আবার তাদের ডিভোর্স হয়। সে সময় নুরজাহান আক্তার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনদের হাতে-পায়ে ধরে তওবা করে এবং আর পরকীয়ায় জড়াবেনা মর্মে প্রতিজ্ঞা করেন। পরে আবার তারা বিয়ে করেন। এরই মধ্যে তাদের সংসারে আঁখি নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্ম নেওয়ার কিছুদিন পরই পুনরায় সোহেল মিয়ার সাথে গৃহবধূ নুরজাহান আক্তার পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় স্বামী আলাউদ্দিনের তিন লাখ টাকা পরকীয়া প্রেমিক সোহেল মিয়াকে ধার হিসেবে দেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে আলাউদ্দিন তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এলাকা ছেড়ে একই উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকেন। তারপরও নুরজাহান আক্তারের পরকীয়া বন্ধ না হওয়ায় ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট তাদের মধ্যে খোলা তালাকের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।

পরে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা আবারও বিয়ে করেন। এরপরও নুরজাহান ও সোহেল মিয়ার পরকীয়া চলতে থাকে। স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক পারিবারিক কলহ শুরু হয়। পরে গত ১৬ মার্চ(মঙ্গলবার) ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় ট্রাকচালক আলাউদ্দিনের লাশ এলেঙ্গার পৌরসভার ভাড়া বাসার টিনসেট ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু আলাউদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ, নুরজাহান আক্তার পরকীয়া প্রেমিক সোহেল মিয়ার সহায়তায় আলাউদ্দিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে, আলাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে গৃহবধূ নুরজাহান আক্তারের পরকীয়া প্রেমিক সোহেল মিয়া এবং তার অপর দুই সহযোগী মনির ও মামুন আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের অভিভাবকরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্থানীয় মাতব্বর, থানা পুলিশ ও হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে নানা জোর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

নিহত আলাউদ্দিনের বাবা শহর আলী, বোন শাহেরা খাতুন, প্রতিবেশি দুলাল, আসলাম, মোজাফফর সহ অনেকেই অভিযোগ করেন, নুরজাহান আক্তার তার পরকীয়া প্রেমিককে সাথে নিয়ে আলাউদ্দিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে রশিতে ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। তারা আলাউদ্দিনের মৃত্যু রহস্য উন্মেচনের দাবি জানান।

সল্লা ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, নুরজাহান আক্তারের পরকীয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বহুবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। কিন্তু ‘চোরে না শোনে ধর্মের বাণী’- তাই তারা গ্রাম ছেড়ে এলেঙ্গায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেছে। তিনি আরও জানান, ট্রাক চালক আলাউদ্দিন অত্যন্ত সহজ-সরল লোক ছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন- তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ ও আলাউদ্দিনের ভাড়া বাসার মালিক আনোয়ারুল কবীর জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রূপন কুমার সরকার জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরকেপি/এসপি/এপ্রিল ১১, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১০ মে ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test