E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

শিরোনাম:

ফরিদপুরে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

২০২১ জুন ১৬ ১৮:২৩:০৯
ফরিদপুরে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

দিলীপ চন্দ, ফরিদপুর : মহামারী করোনা পরিস্থিতি আবারও দেশের বিভিন্ন জেলার মতো ফরিদপুরেও বাড়ছে। মঙ্গলবার জেলায় নতুন করে ৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর করোনা সনাক্ত করণ ল্যাব সূত্রে মঙ্গলবার ২৫৬ জনের করোনা সনাক্ত করণ পরীক্ষা করে সনাক্ত হয়েছে ৯০ জনের। করোনা সনাক্তের হার ৩৫.১০ ভাগ। সোমবার এর হার ছিল ৩৭.৭৫ ভাগ। রবিবার ছিল ৫৫.০৬ ভাগ। শনিবার এর হার ছিল ৪৫.১৬ ভাগ। শুক্রবার এর হার ছিল ২৪.৬৩ ভাগ। ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ পর্যন্ত জেলায় করোনা সনাক্ত হয়েছে ১১,১৭৮ জনের। সুস্থ্য হয়েছেন ১০,৩৪৭ জন। ফরিদপুরে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮৯ জন। এর মধ্যে ফরিদপুরের বাসিন্দা ৬৯ জন অন্যরা সংলগ্ন জেলার। ফরিদপুর মেডিকেল হাসাপাতাল সূত্র মতে সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালে ৮৫ জন করোনা সনাক্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে সাত জন আইসিইউতে আছে।

জ্যামিতিক ভাবে দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ভারতীয় করোনার মাধ্যমগুলো দেশের মধ্যেও সনাক্ত হয়েছে। সরকার যথাসাধ্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় প্রতিক্ষণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবগত করণ ও ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ কোন কথাই শুনছে না কেন? জীবন আগে না জীবীকা? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুরোধ করে বলেছেন, জীবন আগে বেঁচে থাকলে আবার স্বপ্ন গোছানো যাবে। সামাজিক সচেতনতায় উদ্যোগের গাফিলতি আছে। যদিও জেলার পুলিশ সুপার আলীমুজ্জামান বিপিএম (সেবা), জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান সভাপতি, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন কাজ করছে তারপরও মানুষ কেন সচেতন হচ্ছে না।

এর পেছনে অনুসন্ধান করে দেখা যায় জেলার প্রায় ১৮ লাখের মত জন গোষ্ঠীর বেশির ভাগই দরিদ্র ও শ্রমজীবী এর মধ্যে কাজ করে সংসার চালানো সংখ্যা অর্ধেক। মন না চাইলেও সংসারের প্রয়োজনেই কাজে নামতে হয়। করোনার কারনে ব্যবস্থা বাণিজ্য থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক গতি পতন হয়েছে। দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি যদিও সারা বিশ্বময় তারপরও দেশের চাল ডাল তেলে মূল্য গরিবের সংসারের থাবা হেনেছে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমান সরকার সার্বক্ষণিক সচেষ্ট থাকলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিগেটের সাথে পেরে উঠছে না। জেলার করোনা পরিস্থি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মানুষকে বাঁচাতে কেবল সরকার নয় সমাজের প্রত্যেক সংস্থা ও ব্যক্তিকে দেশাত্ববোধের তারোনায় মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মাস্ক ব্যবহারে উদ্যোগি করে তুলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব পালনে কঠোর হতে হবে।

হাট বাজারগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে স্বাস্থ্য বিধির আওতায় আনা জরুরী। এক বারে সমস্ত বিপনী বিতান মার্কেট গুলো খোলা না রেখে একদিন আনতে খোলা যেতে পারে। করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে নির্দিষ্ট হাসপাতাল তৈরীর সরঞ্জাম, ঔষধ, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ব্যবস্থা মজুত রাখা জরুরী। মহমারীর মধ্যেও এক শ্রেণির ব্যবসায়িক সিন্ডিগেট বেশি মুনাফার লোভে যে কার সাজি করছেন তা থেকে তাদের বের করে আনতে হবে।

মনিটরিং ভ্রাম্যমান অভিযানের মাধ্যমে মজুদ গুদাগুলোতে নজরদারী রাড়াতে হবে। জেলার জনসংখ্যা অনুপাতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আগে থেকেই। জেলার উৎপাদিত ধান, গম কৃষি পণ্য চাহিদার ভিত্তিতে বাজার জাত করণ করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবার সকল মাধ্যম এখনই প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। মাস্ক স্বাস্থ্য বিধি মানার ক্ষেত্রে আইন সংস্থা কঠোর হোক কোন ব্যক্তি বিশেষ বা মুখ দেখে নয়। তাই এই করনা মহামারী থেকে বাঁচতে সকলকেই যোদ্ধা হতে হবে।

(ডিসি/এসপি/জুন ১৬, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

০২ আগস্ট ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test