E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

নীলফামারী পৌরসভায় বইছে ভোটের হাওয়া 

২০২১ অক্টোবর ২৩ ১৩:৪০:২০
নীলফামারী পৌরসভায় বইছে ভোটের হাওয়া 

ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : এক দশক পর নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ২ নভেম্বর । 

মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষ তারিখ আগামী ৪ নভেম্বর। মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ১১ নভেম্বর এবং ভোটগ্রহণ হবে ২৮ নভেম্বর নীলফামারী পৌরসভা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ। গণভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই এর সভায় তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। নাম ঘোষণা করেছেন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সীমানা জটিলতার মামলার কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী মাসের ২৮ নভেম্বর। ১৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত অষ্টম ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর ১০ টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকায় নীলফামারী পৌরসভা রয়েছে। দশ বছর পর নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় এলাকার ভোটার ও সাম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে সীমানা জটিলতার উচ্চ আদালতের মামলার বাদী জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রশিদ প্রামানিক মঞ্জু জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাদের সীমানা বৃদ্ধি করলে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় গ্রেজেট হিসাবে পাস হয়। আমার ইউনিয়ন সহ পাশ্ববর্তী কুন্দুপুকুর ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের বৃহৎ অংশ চলে যায় পৌরসভায়। যার প্রেক্ষিতে আমি ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। পরে এলাকায় জরিপ করে দেখা গেছে ওই সীমানার এলাকাবাসী পৌরসভার সাথে সংযুক্ত হতে আগ্রহী। যার প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী আমি উচ্চ আদালত হতে মামলা প্রত্যাহার করে নিলে নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচনের বাধা কেটে যায়।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফতাবুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নীলফামারী পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারী। নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরগন দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রথম সভা করেন ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী। নীলফামারী পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হলেও সীমানা বৃদ্ধি করে ১৫ টি ওয়ার্ড গঠনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করে নীলফামারী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ফলে পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধি করা হয়।

এতে পার্শ্ববর্তী ইটাখোলা, কুন্দুপুকুর, খোকশাবাড়ি বেশ কিছু অংশ পৌরসভার সঙ্গে সংযুক্ত করে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারী প্রজ্ঞাপন জারী করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতে মামলার কারণে নীলফামারী পৌরসভার ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। এখন মামলা নেই। তফশিল ঘোষণা অনুযায়ী এবার নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নীলফামারী পৌরসভার সচিব মশিউর রহমান বলেন সীমানা জটিলতার মামলা উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ায় অষ্টম ধাপে নীলফামারী পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নীলফামারী পৌরসভা সূত্রমতে, ১৯৬৪ সালে নীলফামারী টাউন কমিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ লোকাল কাউন্সিল অ্যান্ড মিউনিসিপ্যাল কমিটি (অ্যামেমেন্ট) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী নীলফামারী টাউন কমিটিকে নীলফামারী পৌরসভা করা হয়। তখন এটি ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা ছিল।

পরে ১৯৯৬ সালে এ পৌরসভা ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। এরপর নীলফামারী পৌরসভা ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে।

নীলফামারী পৌরসভার মোট আয়তন ১৯.২৮ বর্গ কিলোমিটার ছিল। এখন সীমানা বৃদ্ধি করে ১৫টি ওয়ার্ড হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রতি আস্থা রেখে নৌকা দিয়েছেন। এ জন্য আমি তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তার কারণে নীলফামারী পৌরসভা আজ আধুনিক পৌরসভায় রুপান্তরিত হয়েছে।

২৮ তারিখের নির্বাচনে এলাকার আপামর জনতা নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত যে সঠিক, তা প্রমাণ করবে।

প্রসঙ্গত হারিকেন প্রতিকে ১৯৮৯ সালে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন দেওয়ান কামাল আহমেদ। পরবর্তিতে বাইসাইকেল প্রতীকে তিনবার এবং দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে একবার নির্বাচন করে বিজয়ী হন তিনি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির বলেন, নীলফামারী পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ হিসেবে ২ নভেম্বর, ৪ নভেম্বর যাচাই বাছাই, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ১১ নভেম্বর এবং ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম নীলফামারী পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৬টি ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৫ হাজার ৯৮১ জন ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৭ হাজার ৪১৬ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১৮ হাজার ৫৬৫ জন।

(ওকে/এসপি/অক্টোবর ২৩, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২৯ নভেম্বর ২০২১

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test