E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের নয়টি গাছ কেটে সাবাড় 

পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেড়া দিয়ে তিন পরিবারকে অবরুদ্ধ করেছে প্রতিপক্ষরা! 

২০২১ ডিসেম্বর ০৭ ১৮:৩৪:৪০
পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেড়া দিয়ে তিন পরিবারকে অবরুদ্ধ করেছে প্রতিপক্ষরা! 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : রাতের আঁধারে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের বিভিন্ন প্রজাতির নয়টি গাছ কেটে ও একটি কাঠঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করে প্রতিকার না মেলায় প্রতিপক্ষরা বেড়া দিয়ে ওই স্কুল শিক্ষকসহ তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। রবিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর দেবনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় দু’টি পরিবারের চার শিক্ষার্থীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে।

উত্তর দেবনগর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ জানান, ১৯৯২ সালে জমি কিনে সেখানে বাড়ি বানিয়ে শরীক সরোজিৎ দাশের বাড়ির পাশ দিয়ে ও দুর্গা মন্দিরের পিছন দিয়ে মেইন রাস্তায় উঠতেন তিনি। একই পথ ব্যবহার করতেন শরীক লব দাশ ও কুশ দাশ। কয়েক বছর আগে প্রতিবেশি শিক্ষা কর্মকর্তা পরিতোষ দাশের সহায়তায় রণজিৎ, সুব্রত ও কাজল মন্দিরের পিছনে প্রাচীর দিয়ে তার যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি রণজিৎ, সুব্রত ও কাজল তার জমির উপর দিয়ে ট্রলি ঢোকানোর জন্য বিনা মূল্যে ছয় ফুট করে চওড়া ও ১৫০ ফুট লম্বা রাস্তা দাবি করে আসছিল তার কাছে। তিনি জমি দিতে রাজী হননি। পেশাগত ও শিক্ষা লাভের কারণে তার দু’ ছেড়ে বাড়িতে থাকে না। এ সূযোগে শুক্রবার রাত আটটার দিকে প্রতিবেশি রণজিৎ দাশ, তার স্ত্রী আন্না রানী দাশ, তাদের ছেলে কাজল দাশ, সরোজিৎ দাশের ছেলে সুব্রত দাশ ও পাগল দাশের ছেলে সুদেব দাশ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে দা, কুড়াল নিয়ে তার জমিতে লাগানো চারিট নারিকেল গাছ, দু’টি আমগাছ ও তিনটি মেহগণি গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়। আরো কয়েকটি গাছের গোড়া অর্ধেক কেটে রেখে চলে যায়। চলে যাওয়ার আগে তারা ইটের প্রাচীর ও কাঠ রাখার ঘর ভেঙে ফেলে। গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় তার স্ত্রী শিবানী রানী দাশকে লাঞ্ছিত করা হয়। গাছ কাটা ও প্রাচীর ভাঙচুরের সময় উপস্থিত ছিলো স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব আলী, সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনের উপর হামলাকারি কমপক্ষে হাফ ডজন নাশকতা মামলার আসামী মুকুল হোসেন ও শিশুতলার রবিউল ইসলাম। এ সময় তিনি বার বার ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন, ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলামকে মোবাইল করেও সাড়া পাননি। রাতে তিনি থানায় একটি অভিযোগ করলে দুপুরে উপপরিদর্শক তন্ময় সাহা ঘটনাস্থলে এসে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। এরপর তিনি কয়েকবার থানায় গেলেও লাভ হয়নি।

তিনি আরো জানান, থানায় অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় রবিবার সকাল সাতটার দিকে বাসুদেব দাশ, সুদেব দাশ, সুব্রত ও কাজল দাশসহ কয়েকজন তার জমির পূর্ব পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের দিকে জিওল গাছের কচা পুতে তাতে মশারির নেট লাগিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ফলে তিনিসহ লব ও কুশের পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এতে লব এর ছেলে ঝাউডাঙা ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী অর্জুন দাশ, তার ভাই বল্লী মোশারফ হোসেন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রান্ত দাশ, কুশ এর মেয়ে দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মাধবী রানী দাশ ও বোন প্রথম শ্রেণীতে পড়–য়া কাকুলি দাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া দুস্কর হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে বাসুদেব দাশ সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয়দের উদ্যোগে রাস্তার জন্য জমি না পাওয়ায় তারা নিরঞ্জন মাষ্টারের কয়েকটি গাছ কেটেছেন। থানায় অভিযোগ করায় তারা রাস্তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সমস্যা সামধানে বুধবার ঘটনাস্থলে আসার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর থানার উপপরিদর্শক তন্ময় কুমার সাহা জানান, উভয়পক্ষ একে অপরের আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি স্তানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

(আরকে/এসপি/ডিসেম্বর ০৭, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২২ জানুয়ারি ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test