E Paper Of Daily Bangla 71
Janata Bank Limited
Technomedia Limited
Mobile Version

রৌমারীতে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

বাড়ছে দুর্ভোগ, পানিবন্দি অর্ধশত গ্রাম

২০২২ জুন ১৬ ১৮:৪৩:২১
বাড়ছে দুর্ভোগ, পানিবন্দি অর্ধশত গ্রাম

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রৌমারী থেকে ফিরে : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ভারতের আসাম রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় দেখা দিয়েছে বাড়ছে চরম দুর্ভোগ। গত কয়েক দিন থেকে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজলার জিঞ্জিরাম, কালোর নদী ও ধরণী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে ৪০ গ্রামের ৫০ হাজার পরিবার। বন্যার পানিতে নিম্মজিত ২ হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ফসল ও ৫৫ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা। পানি উঠায় ৩৭ টি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় পারাপারের একমাত্র ভরসা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। দেখা দিয়েচ্ছে গো-খাদ্যর সঙ্কট। তবে উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের দেওয়া টিআর প্রকল্পে ৩ লক্ষ টাকা থেকে প্রাথমিক ভাবে ১৫ শত পরিবারের জন্য শুকনা খাবার প্যাকেট করা হচ্ছে বলো জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার কারনে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে। অপর দিকে রৌমারীর ভারত বাংলাদেশের শুল্ক স্থলবন্দরে আমদানি রপ্তানি গত ১ মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। এতে শুল্ক স্থলবন্দরে পাথর আমদানী না হওয়ায় প্রায় ৭ হাজার শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পানিতে ভেসে গেছে জমিতে থাকা খড় ও মাছের ঘর তলিয়ে গেছে কৃষকের ধান, পাটসহ নানা ফসলি জমি। এছাড়াও বালিয়ামারী সীমান্ত (বাংলাদশ-ভারত) হাট পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার পূর্বাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে পহাড়ি ঢলে পানি প্রবেশ করে কালোপানি হয়ে বাংলাদেশের ধর্ণী ও জিঞ্জিরাম নদীতে প্রবেশ করে নদী উপচে উপজেলার পুর্বাঞ্চল প্লাবিত হয় খেওয়ারচর, দুবলাবাড়ি, বকবান্দা, বাওয়াইরগ্রাম, কলাবাড়ি, ফুলবাড়ি, চর ইজলামারি, চান্দারচর, নতুনবন্দর, পুরাতন যাদুরচর, কাশিয়াবাড়িসহ পানিতে থৈ থৈ ৪০ গ্রামের ৫০ হাজার পরিবার।

যাদুরচর ইউনিয়নের ছালাম, সাহেব মিয়া জানান, হঠাৎ আকর্ষিক বন্যায় ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে আসা আমাদের পুরা এলাকাজুড়ে তলিয়ে ধান,পাট,তিল,চিনা,সাকসবজি নষ্ট হয়েছে এবং রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে হাট বাজার ও শহর স্থানে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। আমরা অভাবের সংসারে পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।

যাদুরচর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন থেকে পানি বেড়ে এলাকার মানুষ কষ্টে আছে পানিতে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছন্ন হয়েছে। নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। আমি উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি এলাকার মানুষের দুর্ভোগে সাহায্য করতে। এবিষয়ে যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমি ও তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট।

উপজলা কৃষি কর্মকর্তা কাউয়ুম চৌধুরী বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত উপজলায় ২ হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিম্মজিত আছে। তবে দ্রুত পানি কমে গেলে কিছু ফসল ভালো থাকতে পারে। উপজলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত উপজলার ৩৭ টি বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়ায় সাময়িকভাব পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি কমে গেলে নিয়মিত পাঠদান শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, আকর্ষিক বন্যায় অনেক গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়েছে। এব্যাপারে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর পানি বন্দি মানুষের মাঝে টিআর প্রকল্পে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ১৫ শত পরিবারের জন্য শুকনা খাবার প্যাকেট করা হচ্ছে। দ্রুত পানি বন্দি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারঃ) আশরাফুল আলম রাসেল ও সহকারি কমিশনা (ভুমি) জানান, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানি বন্দি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় পানিবন্দি মানুষদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে সরকারি ভাবে বন্যার্ত পরিবারের মাঝে পর্যায় ক্রমে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্ল্যাহ্ বলেন, আমরা কয়েকদিন থেকে নৌকা যোগে পানিবন্দি পরিবারদের কাছে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে এবং তাদের মাঝে সরকারি ভাবে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত বিতরণ করা হবে।

(পিএস/এসপি/জুন ১৬, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০৯ ডিসেম্বর ২০২২

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test