E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

রহুল বিলে বাউত উৎসবে মানুষের ঢল

২০২২ ডিসেম্বর ০৩ ২০:৪৯:৩৯
রহুল বিলে বাউত উৎসবে মানুষের ঢল

শামীম হাসান মিলন, চাটমোহর : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রহুল বিলে মাছ ধরার বাউত উৎসবে হাজারও মানুষের ঢল নেমেছিল। চলনবিল অধ্যুষিত এই বিলে প্রতিবছরের মতো এবছরেও দুর দুরান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষের আগমন ঘটে মাছ ধরতে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) উপজেলার রহুলবিলে ভোর রাতে শীতকে উপেক্ষা করে বিলপাড়ে হাজির হয় হাজারো মানুষ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বাউত উৎসবে মাছ শিকার। মাছ ধরার নানা উপকরণ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা বয়সী মানুষ অংশ নেয় তাতে। এসময় সৌখিন মৎস্য শিকারীদের এক মিলন মেলায় পরিণত হয় পুরো বিল এলাকা।

জানা যায, নির্ধারিত দিনে ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট বিলে মাছ শিকার করা এ অঞ্চলের মানুষের পুরোনো প্রথা। শুধু জেলেরা নয়, সৌখিন মৎস্য শিকারীরা পলো, বাদাই, খেওয়া জাল, কারেন্ট জাল, ঠেলাজাল প্রভৃতি মাছ ধরার ফাঁদ ব্যবহার করে মাছ ধরে থাকেন। আর এসকল মাছ শিকারীকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘বাউত উৎসব’। পূর্বঘোষণা অনুয়ায়ী শনিবার সকাল থেকে উপজেলার রহুল বিলে শুরু হয় বাউত উৎসব। এদিন কাকডাকা ভোর থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, আটঘরিয়া, নাটোরের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়াসহ আশপাশের উপজেলার হাজার-হাজার সৌখিন মৎস্য শিকারী বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটো বোরাক, অটোরিক্সা, বাস, ট্রাক, নছিমন-করিমন যোগে এসে জমায়েত হয় বিলপাড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে মৎস্য শিকার।এসময় রুই, কাতলা, জাপানি, ষোল, গজার, বোয়াল, মিনার কার্প, টাকি প্রভৃতি মাছ শিকার করেন মৎস্য শিকারীরা। অনেকেই মাছ না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন।

সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, মিনি ট্রাক ভাড়া করে তারা ২৭জন এসেছেন মাছ ধরতে । তারা খরাজাল দিয়ে রুই ও কাতলা মাছ ধরেছেন। তবে আশানুরুপ মাছ ধরতে পারেননি বলেও তিনি জানান।

পার্শ্ববর্তী উল্লাপাড়া উপজেলার দত্তখারুয়া গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, মাছ ধরতে পলো নিয়ে বাউত উৎসবে অংশ নেন তিনি। অনেকে মাছ না পেলেও তিনি চারটি শোল মাছ শিকার করতে পেরেছেন।
ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের কাউন্টার মাস্টার গোলাম রাব্বী জানান, তারা কয়েক বন্ধু খেয়াজাল নিয়ে রহুলবিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তারা রুই, কাতলা ও বোয়াল মাছ পেয়েছেন।
তবে ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী গ্রামের আলতাব হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, রহুলবিলে মাছ ধরার খবর পেয়ে ভোরবেলায় পলো নিয়ে তারা বিলে হাজির হন। কিন্তু মাছ না পেয়ে তাদের খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। তবে আক্ষেপ নেই বাউত উৎসবে অংশগ্রহণ একটা নেশা, তাই আছি।

ঋাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, এভাবে মাছ শিকার করায় মাছের বংশ বিস্তারের জন্য ক্ষতিকর। তবে এলাকার মানুষ প্রতিবছর এভাবে মাছ শিকারের মাধ্যমে বাউত উৎসব করে থাকেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, বাউত উৎসব এই এলাকার পুরোনো ঐতিহ্য। প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে সৌখিন মানুষ এখানে এসে মৎস্য শিকার করেন। এভাবে মাছ শিকারের কারণে যেন মাছের বংশ বিস্তারে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় সে দিক খেয়াল রেখেই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

(এসএইচএম/এএস/ডিসেম্বর ০৩, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test