E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

এখনও গ্রেপ্তার হয়নি ঘাতক দেবর

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেলেন অগ্নিদগ্ধ সেই লতিফা

২০২৩ মার্চ ২২ ১৮:২৪:০৮
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেলেন অগ্নিদগ্ধ সেই লতিফা

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের উত্তর দারোরা গ্রামে দেবরের ছোঁড়া পেট্রোলে অগ্নিদদ্ধ সেই ভাবী লতিফা বেগম (৪০) অবশেষে মারা গেছেন। আজ বুধবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ঢাকা মেডেকেল কলেজের শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউটে দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লতিফা।

তবে ঘটনার তিনদিন পরও ঘাতক দেবর জালাল মিয়া (৩৫) গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসি দ্রুত ঘাতক জালাল মিয়ার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রসুল্লাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনির হোসেন বলেন, 'ঘটনাটি খুবই মর্মার্ন্তিক। লতিফা বেগমের এমন মৃত্যু কল্পনাও করা যায় না। আমরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার মূল নায়ক লতিফা বেগমের দেবর চিহ্নিত মাদকাসক্ত জালালের দ্রুত গ্রেপ্তার দেখতে চাই।'

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মামাতো বোনের মরদেহ গ্রহণ করতে এসে মৃতের ফুফাতো ভাই, নবীনগর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক (বাংলা), দেশের বরেণ্য নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী মুঠোফোনে বলেন, 'এরকম মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনা কোনভাবেই আমাদের পরিবার মেনে নিতে পারছেনা। একটি গ্রামে এমন সাহস কি করে পায় ঘাতক? তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা ঘাতক জালালের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। যদিও পুলিশ ও রেবের একাধিক উর্ধতন কর্মকর্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতক জালালকে যেকোন মূল্যে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।'

ড. রতন সিদ্দিকী আরও বলেন, 'আমার বোনের ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নিয়ে আর ওই দারোরা গ্রামে যাবো না। আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ি তার মরদেহ কালঘড়ায় নিয়ে যাব এবং বৃহস্পতিবার কালঘড়াতেই জানাজা শেষে লতিফার দাফন সেখানেই করা হবে।'

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার উত্তরাধিকার ৭১নিউজকে বুধবার দুপুরে জানান, 'পুলিশের একাধিক টিম জালালকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে কাজ করছে। আশা করছি, শিগগীরই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো'।

জানা যায়, রসুল্লাবাদের উত্তর দাররা গ্রামের জিন্নাত আলী ব্যাপারীর বড় ছেলে মো. জাকারিয়ার সঙ্গে দুই দশক আগে একই ইউনিয়নের কালঘড়া গ্রামের হেলাল সরকারের বড় মেয়ে লতিফা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দুটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, জাকারিয়া দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় ছোটভাই চিহ্নিত মাদকাসক্ত জালাল মিয়া (৩৫) তার ভাবী লতিফা বেগমকে নানাভাবে উত্যক্ত ও মারধর করতো।

এলাকার লোকজন জানান, লতিফার স্বামী জাকারিয়া প্রবাস থেকে কিছুদিন আগে তেশে ফিরলে, লতিফা তার স্বামীর কাছে মাদকাসক্ত জালালের নানান কুকর্ম খুলে বলেন। এতে দেবর জালাল তার ভাবীর ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার দুপুরে লতিফা যখন রান্না করছিলেন, সেসময় দেবর জালাল লতিফাকে প্রকাশ্যে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে জালাল লতিফার গায়ে দিনে দুপুরে পেট্রােল ঢেলে দেয়।এসময় পেট্রোলের আগুনে লতিফা বেগমের শ্বাসনালীসহ তার শরীরের ৫৫% পুড়ে গেছে।

পরে গ্রামের লোকজন মুমুর্ষ অবস্থায় লতিফাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউটে এনে ভর্তি করে। তবে এ ঘটনার পর থেকে দেবর জালাল এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়।
তবে ঘটনার পর মৃতের ভাই বাদী হয়ে জালালকে আসামি করে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

(জিডি/এসপি/মার্চ ২২, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

২২ জুন ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test