E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ  

হরতাল-অবরোধে ঈশ্বরদী জংশনে বার বার নাশকতার প্রচেষ্টা

২০২৩ নভেম্বর ২৮ ১৭:০০:১৪
হরতাল-অবরোধে ঈশ্বরদী জংশনে বার বার নাশকতার প্রচেষ্টা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদী রেল জংশনে বিএনপি’র ডাকা চলমান অবরোধ কার্যকর করতে বার বার নাশকতার প্রচেষ্টা চালনো হচ্ছে। সর্বশেষ গত সোমবার (২৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে রেলইয়ার্ডের ওয়াশফিটে ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৫৫৫১ নং কোচের ১১টি সীট আগুনে পুড়ে গেছে। এরআগে মৈত্রি এক্সপ্রেস ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, স্টেশনে ট্রেনের নিচে থেকে বোমা উদ্ধার এবং রেলগেটে রেললাইনের ওপর অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসব ঘটনায় জানমালের কোন ক্ষতি না হলেও আতংকগ্রস্থ সাধারণ যাত্রীরা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বিষয়ে সোমবার রাতে রেলইয়ার্ডে সমাবেত প্রশাসন, পাবনা জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশশের কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বারংবার ঈশ্বরদী জংশনে নাশকতার প্রচেষ্টা চালানোর পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করণে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী তারা দায়ি করেন।

জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সবচেয়ে বড় জংশন স্টেশনের নিরাপত্তায় রেল পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা অপ্রতুল। স্টেশনের ১৭টি সিসি ক্যামেরাও নষ্ট। ইয়ার্ডে কোন সিসি ক্যামেরা নেই। ফলে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মৈত্রি এক্সপ্রেস ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিপে, স্টেশনের পাশে ট্রেনের বগির নিচ থেকে বোমা উদ্ধার এবং রেলগেটে রেললাইনের ওপর অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের অধীনে ঈশ্বরদী জংশনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রায় ২০ সহস্রাধিক যাত্রী পরিবাহিত হয়। স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে সুবিশাল রেল ইয়ার্ড। রেলইয়ার্ডে যাত্রীবাহী ও মালবাহী বিপুল সংখ্যক বগি সবসময় অবস্থান করে। ভারত হতে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়াও দেশীয় পণ্য লোড-আনলোডের কারণে ব্যস্ত থাকে রেলইয়ার্ড। রয়েছে লোকোমেটিভ ও রেলওয়ে ক্যারেজ। সবকিছুরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজন। তাছাড়াও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অহরহ ঘটছে। যাত্রীসহ রেলে কর্মরতরাও এতে আহত হচ্ছেন। স্টেশন, রেলইয়ার্ডসহ সকল স্থাপনা ও ট্রেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোকবল বৃদ্ধি করা দরকার বলে সংশ্লিষ্ঠরা দাবি করেছেন।

স্টেশনের দায়িত্বরত সুপারিনটেনডেন্ট (এসএস) মহিউল ইসলাম ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিনি রেল নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করে বলেন, তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতো তাহলে এধরণের ঘটনা ঘটতো না। দায়িত্বে ঘাটতি রয়েছে, যেকারণে সন্ধ্যার সময় আগুন দিয়ে চলে গেল। নিরাপত্তা বাড়াতে সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত চালু ও আরও নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা দরকার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবির কুমার দাস সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহত্তম জংশন স্টেশনে সিসি ক্যামেরা না থাকা দুঃখজনক। থাকলে সহজে অপরাধীদের শনাক্ত করা যেত। এসব বিষয়ে নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে বারবার বিশেষ করে পাকশীর ডিআরএমকে বলা হলেও তিনি পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এমনকি নাশকতার ঘটনা ঘটার পর তারা ঘটনাস্থলে আসেননি।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাসুদ আলম সোমবার রাতে নিরাপত্তা বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসব ঘটনা রেল পুলিশের অধীনস্থ হলেও পাবনা জেলা পুলিশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর।

রেল পুলিশের পাকশীর পুলিশ সুপার সাহাব উদ্দিন বলেন, রেল ইয়ার্ডের নিরাপত্তার দায়িত্ব রেল নিরাপত্তা বাহিনীর। ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পার্বতিপুর রুটের আব্দুলপুর স্টেশন, রাজশাহী রুটের হরিয়াণ স্টেশন, পাবনার ঢালারচর স্টেশন, সিরাজগঞ্জ রুটের মাঝগ্রাম স্টেশন এবং খুলনা রুটের পাকশী স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত। রেলইয়ার্ড ছাড়াও ৪/৫ টি ট্রেনে রেল পুলিশকে এসকর্টের দায়িত্ব পালন করতে হয়। রেল থানায় অফিসার-সিপাহীসহ মোট মঞ্জুরিকৃত পদ মাত্র ৫০টি। বর্তমানে কর্মরত আছে ৪৫ জন।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ঈশ্বরদী সার্কেলের পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানান, সুদীর্ঘ ফাঁকা ইয়ার্ড, আমাদের কম জনবল দিয়ে নিরাপত্তা বিধান করা খুবই কষ্টসাধ্য। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ রুটের লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশন, পার্বতিপুর রুটের আব্দুলপুর স্টেশন, রাজশাহী রুটের হরিয়াণ স্টেশন, পাবনার ঢালারচর স্টেশন এবং খুলনা রুটের পাকশী স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত। অফিসার-সিপাহীসহ এ সার্কেলে জেনারেল শাখায় মঞ্জুরিকৃত পদ ১৪৮টি। কর্মরত রয়েছে মাত্র ৬৯ জন। শুণ্য পদের সংখ্যা ৭৯ জন। শুণ্য পদের বিপরীতে পাকশী রিজার্ভ থেকে মাত্র ৫ জনকে রিলিভিং দেওয়া হচ্ছে বলে সার্কেলের পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন। আরএনবি’র গোয়েন্দা শাখায় ১৮ জন এবং অস্ত্র শাকায় ২১ জন কর্মরত আছে। হরতাল-অবরোধ পরিস্থিতিতে জেনারেল ও অস্ত্রশাখার সদস্যদের সমন্বয়ে অস্ত্র টহল পার্টি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অতিনগণ্য সংখ্যক সদস্য নিয়ে ঈশ্বরদীর বিশাল রেলইয়ার্ড এবং উল্লেখিত রেল এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে আরএনবি।

(এসকেকে/এসপি/নভেম্বর ২৮, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test