E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

মাউশি’র ডিজিসহ বিবাদী ৩০ বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ মামলা

২০২৩ ডিসেম্বর ০৭ ১৩:৫৮:০২
মাউশি’র ডিজিসহ বিবাদী ৩০ বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ মামলা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে বিদ্যালয়ের ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ করতে ১৬ প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহন করা হয়। তারপর পছন্দের ৪ প্রার্থীকে প্রধান শিক্ষক ও  সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রতিকার পেতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি সহ ৩০ জনকে আসামী করে গোপালগঞ্জের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন চাকরি বঞ্চিত দু’প্রাথী। এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতে এক সভায় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি ঘুষের টাকা ফেরত ও নিয়োগ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় এলাকাবাসী বুধবার (৬ ডিসেম্বর) স্কুল মাঠে সমবেত হন। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন এলাকাবাসী।

চাকুরী বঞ্চিত রনি বিশ্বাস ও সুদিপ্ত রায় বাদী হয়ে গোপালগঞ্জের বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে গত ২২ নভেম্বর একটি মামলা করেন।

এ মামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বাড়ৈ ও সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার সহ ৩০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলায় মূল অভিযোগ আনা হয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে। বাকী ২৮ বিবাদী নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর গত ২৯ নভেম্বর শিক্ষা স্থানীয়দের উপস্থিতে বিদ্যালয়ের হল রুমে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি নিয়োগ বাতিল করে ১০ দিনের মধ্যে ঘুষের টাকা ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয়ে একটি রেজুলেশনে উপস্থিত সবাই স্বাক্ষর করেন। প্রায় ২সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। স্থানীয়রা বুধবার (০৬ ডিসেম্বর) স্কুল মাঠে জড়ো হয়। তারা ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

মামলার বাদী রনি বিশ্বাস বলেন, আমি অফিস সহায়ক পদে চাকুরীর জন্য আবেদন করি। গত ১৬ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার আগে রাতে আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বাড়ৈ ও সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয়। তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। বেশি টাকা পেয়ে কিশোর বিশ্বাস চাকুরী দিয়েছে। এভাবে ৪ পদে আবেদনকারী ১৬ জনের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। এখন তারা আমার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। আমি আমার টাকা ফেরতসহ এই নিয়োগ বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করেছি।

অপর বাদী সুদিপ্ত রায় বলেন, আমি নৈশ প্রহরী পদে আবেদন করেছিলাম। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি নিয়োগ দিতে আমার কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা চান । আমি জমি বিক্রি করে ৬ লাখ টাকা দিয়েছি। তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। এখন টাকাও দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

স্কুলের ছাত্র অভিভাবক রনজিত মজুমদার ও কমল ওঝা বলেন, মামলার ভয়ে ও স্থানীয়দের চাপের মুখে প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি গত ২৯ নভেম্বরের সভা ডাকেন। সেখানে নিয়োগ বাতিল করে ১৬ প্রার্থীর ঘুষের টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকার করেন। তারা এটি নিয়ে টালবাহানা করছেন। অঙ্গীকার না মানলে আমরা স্থানীয়দের নিয়ে আন্দোলনে নামব।

অফিস সহায়ক পদে চাকুরী পাওয়া কিশোর বিশ্বাসের কাছে ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বাড়ৈ বলেন, কলাবাড়ি ইউনিয়নের অনেক ব্যক্তির সাথেই আমার টাকা পয়সার লেনদেন রয়েছে। কখন কে কোন কাজে আমাকে টাকা দিয়েছে তা আমি এই মুহুর্তে বলতে পারবো না।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, রাধাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে একটি মামলা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। মামলার কপি এখনো আমি হাতে পাইনি। হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

(এমএস/এএস/ডিসেম্বর ০৭, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test