E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

শিরোনাম:

আশাশুনির খাজরা হাকিমিয়া দাখিল মাদ্রাসায়

নিজের পছন্দের সুপার নিয়োগ ও টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় সভাপতির দোকানে তালা মারলেন চেয়ারম্যান ডালিম!

২০২৩ ডিসেম্বর ০৯ ১৮:২৬:৩১
নিজের পছন্দের সুপার নিয়োগ ও টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় সভাপতির দোকানে তালা মারলেন চেয়ারম্যান ডালিম!

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা হাকিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে ইউপি চেয়ারম্যানের নিজের লোক নিয়োগ দিতে ও অন্য চারটি পদে নিয়োগের জন্য দাবিকৃত সাত লাখ টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খাজরা বাজারের “আশরাফ মেডিকেলে” তালা লাগানো হয়েছে। খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহানেওয়াজ ডালিমের নির্দেশে তারই দক্ষিণহস্ত বলে পরিচিত আসাদুজ্জামান রিপন শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে এ তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

খাজরা বাজার এলাকার মাওলানা রুহুল আমিন জানান, তিনি খাজরা হাকিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তিনি সম্প্রতি অবসরে যাওয়ার পর তার ছেলে আবু রায়হান ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে সুপার, সহকারি সুপার ও তিনটি চতুর্থ শ্রেণীর পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

খাজরা হাকিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ আবু রায়হান জানান, মাদ্রাসার পাঁচটি পদে নিয়োগ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ৮নং খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম তার মনোনীত সুপারকে নিয়োগ ও অপর চারটি পদে নিয়োগ দিতে হলে তাকে সাত লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।

এমনকি চেয়ারম্যানসহ তার কাছের লোক বলে পরিচিত আসাদুজ্জামান রিপন ও সাইফুল্লাহ তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করিয়ে হয়রানি ও হত্যার হুমকিও দেন। চেয়ারম্যানের কথামত সুপার নিয়োগ ও দাবিকৃত টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে আসাদুজ্জান রিপন শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার বাবা রুহুল আমিনের পরিচালনাধীন আশরাফ মেডিকেল হলের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে তিনি জানতে পারেন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক বাজার কমিটির সভাপতি আবু সাঈদকে অবহিত করা হয়। তাকে জানিয়ে কোন লাভ না হওয়ায় তিনি শনিবার সকালে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। একইসাথে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে খাজরা ইউনিয়নের বিট অফিসার আব্দুর রহিম ও মোঃ সোহেল ঘটনাস্থলে এসে চেয়ারম্যানের নির্দেশে দোকানে তালা মারার অভিযোগের সত্যতা পান। তারা মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললেও তিনি তালা খুলতে রাজী হননি। একপর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের জানান। একপর্যায়ে শনিবার বিকেল তিনটার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানের তালা খুলে দেওয়া হয়। এখন নিজের দোষ খণ্ডাতে তার এক্তিয়ারবিহীন জেলা পরিষদের সদস্যকে অবহিত না করেই পুকুরে ঘাট করার জন্য দোকার ভেঙে নিতে এক বছর আগে নোটিশ করলেও রুহুল আমিন কর্ণপাত না করায় দোকানে তালা মারা হয়েছে মর্মে কাল্পনিক কথা প্রচার করছেন।

খাজরা বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ জানান, শুক্রবার রাতে রুহুল আমিনের দোকানে তালা মারার বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিমের কাছে ফোন করেন। জেলা পরিষদের পুকুরে ঘাট করার জন্য দোকান ভেঙে না নেওয়ায় তালা মারা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। বিষয়টি রুহুল আমিনকে তার চেয়ারম্যানের) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। যারা তালা লাগিয়েছেল তারাই পুলিশের উপস্থিতিতে শনিবার বিকেল তিনটায় দোকানের তালা খুলে দিয়েছে মর্মে তিনি জেনেছেন।

এ ব্যাপারে খাজরা ইউনিয়ন সৈনিকলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপনের সঙ্গে তার ০১৯১৬-২৮৬৬৫০ নম্বর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম জানান, জেলা পরিষদের পুকুরে জনস্বার্থে ঘাট করতে এক বছর আগে দেওয়া নোটিশ মানেননি রুহুল আমিন। ফলে তালা মারা হয়েছে। মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়ে নিজের লোক নিতে ও সাত লাখ টাকা চাওয়াসহ হুমকি ধামকির বিষয়টি অস্বীকার করেই তিনি বলেন, ওইসব ভিন্ন ব্যাপার। তারা এখনো নিয়োগ দিচ্ছে না কেন তা প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য (খাজরা এলাকার) তিনি খাজরা বাজারের পুকুরে ঘাট তৈরির ব্যাপারে কিছু জানেন না। তা ছাড়া ওই পুকুরে চেয়ারম্যান ঘাট করার জন্য রুহুল আমিনকে এক বছর আগে দোকান ভাঙার নোটিশ দেবেন আর তিনি কিছুই জানবেন না এটা হয় না।

আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান শাহানেওয়াজ ডালিম দোকানের তালা খুলতে অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান। একপর্যায়ে বিকেল তিনটার দিকে দোকানের তালা খুলে দেওয়া হয়।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারী জানান, রুহুল আমিনের দোকানের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্ভুত সমস্যা স্থানীয়ভাবে বসাবসির মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

(আরকে/এএস/ডিসেম্বর ০৯, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test