E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

বরিশালের ৩১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার!

২০২৪ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৭:৫৮:৫০
বরিশালের ৩১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : ভাষা আন্দোলন ৭২ বছরে পা রাখলেও বরিশালের শতবর্ষীসহ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। ফলে শহীদ মিনার না থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের স্মরণে পুম্পস্তবক অর্পণ করতে পারে না। এমনকি অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ছুটি ভোগ করেন।

আর এ কারণেই মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির প্রতি দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদন ও ভাষা সৈনিকদের অবদান সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কবি ও সাহিত্যিক শিকদার রেজাউল করিম। সূত্রমতে, জেলার দশ উপজেলায় মোট ৭৭৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পেরিয়ে গেলেও ৩১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও দেখা পাওয়া যায়নি ভাষা শহীদের প্রতীক। এরমধ্যে শতবর্ষী স্কুলের সংখ্যাৗ কম নয়। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠণ করা হলেও কমিটির সভাপতি কিংবা সদস্যরাও শহীদ মিনার নির্মানের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী বরিশাল সদরে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে মোট ১৫২টি। যারমধ্যে ৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলেও ৫৪টিতে নেই শহীদ মিনার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছ মাদরাসাগুলো।

মুলাদী উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে ছয়টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। একটিতে নেই শহীদ মিনার। ৩৯টি স্কুলের মধ্যে ৩৪ টিতে থাকলেও পাঁচটিতে নেই শহীদ মিনার। ওই উপজেলায় ২০টি মাদরাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার। উজিরপুর উপজেলার ১২টি কলেজের চারটিতে নেই শহীদ মিনার। ৫১টি স্কুলের মধ্যের ৪৭টিতে থাকলেও চারটিতে নেই। ওই উপজেলায় ২১টি মাদরাসার মধ্যে সাতটিতে নেই শহীদ মিনার। বানারীপাড়া উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে দুইটিতে ও ৩৫টি স্কুলের মধ্যে দুইটিতে নেই শহীদ মিনার। ওই উপজেলার ১৮টি মাদরাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই।

গৌরনদীতে ছয়টি কলেজে শহীদ মিনার থাকলেও শতবর্ষী গেরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। ১৫টি মাদরাসার মধ্যে ১০টিতে নেই শহীদ মিনার। আগৈলঝাড়ায় দুইটি কলেজের একটিতে নেই, ৩৪টি স্কুলের মধ্যে ছয়টিতে নেই এবং ছয়টি মাদরাসার একটি টিতেও শহীদ মিনার নেই। বাকেরগঞ্জের ২৪টি কলেজের মধ্যে ১০টিতে এবং ৮৪টি স্কুলের মধ্যে ১৫টিতে ও ৬৩টি মাদরাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। বাবুগঞ্জের চারটি কলেজের মধ্যে একটিতে, ৬৩টি স্কুলের মধ্যে ১৪টি এবং ১৮টি মাদরাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার। মেহেন্দিগঞ্জের ছয়টি কলেজের মধ্যে একটিতে, ৬৩টি স্কুলের মধ্যে ১০ টিতে, ২৭টি মাদরাসার মধ্যে ২৫টিতেই শহীদ মিনার নেই। হিজলা উপজেলার দুইটি কলেজের একটিতে, ১৭টি স্কুলের মধ্যে তিনটিতে ও নয়টি মাদরাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই। নগরীর এ. কাদের চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও নেই শহীদ মিনার।

তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি এখানে আসার পর অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে সফল হয়েছি। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা হবে।

(টিবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২৪ এপ্রিল ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test