E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

দেবহাটার খলিষাখালির ১৩২০ বিঘা জমির মালিক সরকার

নতুন ভূমিসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

২০২৪ ফেব্রুয়ারি ২৯ ১৯:৪৩:৫৭
নতুন ভূমিসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার দেবহাটার খলিষাখালি, ঢেপুখালি, আটশত বিঘা, নোড়ার চারকুনি, নোড়ার চক, দেবীশহর, কালিগঞ্জের চিংড়িখালি, বৈরাগীর চকসহ জেলার সাতটি উপজেলার কোথাও না কোথাও ১৯৪৭ সালে ভারত- পাকিস্তান বিভাগের পরে জমি ও ঘরবাড়ি ফেলে চলে গেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ। তারা ওই জমি কারো কাছে হস্তান্তর না করে গেলেও  ভূমিদস্যুরা প্রভাব খাটিয়ে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা, সহকারি ভ‚মি কমিশনার, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে জাল কাগজপত্রের  সাহায্যে ওইসব জমির রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। দিয়ে যাচ্ছেন খাজনা। কোন কোন ক্ষেত্রে  জনস্বার্থে মামলা করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষে ভ‚মিকা পালনকারি সরকারি কৌশুলী ক্ষেত্র বিশেষ  যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় সরকারি খাল, রাস্তা, কালভার্ট, জনস্বার্থে ব্যবহৃত খাল, রাস্তাও মালিক হিসেবে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। ফলে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ নিয়ে ১৯৯৮ সালের ২৬ জুন কালিগঞ্জের বাবুরাবাদে খাস জমি ভ‚মিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করতে ভ‚মিদস্যু ও প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ‚মিহীন নেত্রী জাহেদা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। দোষীদের শাস্তির দাবিতে ভ‚মিহীনরা কালেক্টরেট অফিস ঘেরাও করে। দেবী শহর মাঠে ছুঁটে আসেন তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভেঙে দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা সাতক্ষীরায় ছুটে আসেন।

দেশ বিভাগের পরবর্তী দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের খলিষাখালি বিলে ৪৩৯.২০ একর জমি ফেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরে স্বপরিবারে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন চণ্ডীচরণ ঘোষ। ১৯৫৫ সাল থেকে বিনিমিয় দলিল ও বয়নামা জালিয়াতিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে শিমুলবাড়িয়ার কাজী গোলাম ওয়ারেশ, সখীপুরের বেসরকারি সংস্থা আইডিয়ালের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ নজরুল ইসলাম, একই এলাকার আব্দুল আজিজ, পারুলিয়ার আনছার গাজী, রফিকুল ইসলাস,আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদ, বরেয়ার জলিল দারোগাসহ একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নামে এসএ রেকর্ড করাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে ওই জমি জবরদখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। আবার মালিক দাবিদারদের একটি অংশ ওই জমি স্থানীয় বিভিন্ন লোকজনের কাছে ইজারা দেন। তাদের এ কাজে সহযোগিতা করেন সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারি কমিশানর (ভ‚মি), ইউনিয়ন ভ‚মি কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি অসাধু চক্র।

লাওয়ারিশ হওয়া ওই জমি বেদখল হওয়ায় সরকার প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। একপর্যায়ে দেবহাটার খলিষাখালির ৫৮৯.১৪ একর জমির মধ্যে ৩৬.১৪ একর জমি লাওয়ারিশ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করার জন্য ২০১০ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি পারুলিয়ার অহেদ মোল্লা বাদি হয়ে সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ-২য় আদালতে ১০/১০ নং (টাইটেলশুট) মামলা দায়ের করেন। একইভাবে দেবহাটার রহিমপুরের সমছের আলী গাজীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলী খলিষাখালির ৪৩৯.২০ একর জমি লাওয়ারিশ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করে এসএ রেকর্ড সংশোধন ও তাতে রিসিভার নিয়োগ দেওয়ার জন্য ২০১০ সালের ১২ মার্চ সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ-২য় আদালতে ১৮/১০ নং( টাইটেলশুট) মামলা দায়ের করেন। ১৮/১০ নং মামলায় বিবাদীপক্ষের ১৯৫৩ সালের ৪ মার্চ সম্পাদনকৃত কোলকাতা জয়েন্ট সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের ৬৯৪নং বিনিময় দলিলটির সিএস ১৮১২ নং খতিয়ানের ১১১৭৭,১১১৭২,১১২৫৮,১১২৬৫ নং দাগ সমূহের জমি জায়গা খাল শ্রেণীর, জনস্বার্থে ব্যবহারযোগ্য মালেক/জমিদার খাজনা আদায়ের জন্য নিলাম করবেন তা যথেষ্ট সন্দেহের দাবি রাখে এবং এই জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০(২) ধারায় সরকারের উপর অর্পিত হবে বলে বিচারক এএইচএম মাহামুদুর রহমান উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিনিময় দলিলটির ৬১.৬২ ও ৬৩ নং পাতায় ১৪টি দাগসহ বিভিন্ন তথ্য যেভাবে লেখা হয়েছে তা অন্য পাতার লেখার সাথে মিল না থাকায় তাহা জাল বলে মনে হয়ে বলে বিচারক মন্তব্য করেন। একইভাবে কয়েকজন বিবাদী একটি বয়নামার ফটোকপি জমা দিয়ে মালিকানা দাবি করলে সেটি তঞ্চকী বলেও বিচারক মন্তব্য করে ওই জমি লাওয়ারিশ সম্পত্তি হিসেবে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি অ্যাড. কুÐু বিকাশ চৌধুরী ও আশরাফুল আলম বাবুকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন। তবে ওই জমিতে থাকা ঘরবাড়ি, রাস্তা, খাল ও কালভার্ট রিসিভারের আওতামুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর ১০/১০ ও ১৮/১০ মামলা দুটির বিচারিক কার্যক্রম একইসাথে চলার জন্য বিচারক মঞ্জুর করেন।

জমির মালিক দাবিদারগণ (বিবাদী) এনালগাস ট্রায়াল ও রিসিভার নিয়োগের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে এফএমএ ২১৬/১২ নং মিস আপিল দায়ের করেন। আদালত রিসিভার নিয়োগের আদেশটি ছয় মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করে রুল জারির নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলার বাদি জনাব আলী ৬৯৮/১২ সিভিল মিস পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করেন। উক্ত লিভ টু আপিলে চেম্বার জজ স্থিতাবস্থা জারির উপর স্থিতাবস্থা জারি করে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ রিসিভার নিয়োগের স্থিতাবস্থা জারির আদেশ প্রত্যাহার করেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টকে সিভিল রিভিউ মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তির আদেশ দেন। এফএমএ-২১৬/২০১২ নং মামলার ২০১৬ সালের ১০ আগষ্টের আদেশে নালিশি জমি লাওয়ারিশ বহাল রেখে ও জনসাধারণের ব্যবহার্য সম্পর্কিত দাবি করে যুগ্ম জেলা জজ- ২য় আদালতের রিসিভার নিয়োগ আদেশটি বাতিল করে দেওয়া হয়। একইসাথে মূল দেঃ ১৮/১০ মামলার আরজি খারিজের নির্দেশ দেন। তবে উক্ত আদেশের ২১ ও ২২ দফায় মহামন্য হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে এই মন্তব্য করেন যে, নালিশী সম্পত্তি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নিজস্ব জনবল দ্বারা প্রচলিত বিধি বিধান ও যথাযথ আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া ভ‚মি মন্ত্রণালয়কে একই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আনছার গাজীসহ দুইজন বিবাদী সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল ২৫৬৮/২০১৭ দায়ের করেন। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ট্রায়াল বিচারাধীন থাকাকালিন নালিশী সম্পত্তি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নিজস্ব জনবল দ্বারা প্রচলিত বিধি বিধান ও যথাযথ আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নির্দেশ দেন।

জনাব আলী মারা যাওয়ায় তার ছেলে জসীমউদ্দিনসহ তিনজন ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর বাদি শ্রেণীভুক্ত হওয়ার আবেদন করলে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল আদালত তা মঞ্জুর করেন। ২০১৪ সালে দেঃ ১০/১০ মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৮ সালের ৩০ আগষ্ট দেঃ ১৮/১০ মামলাটির আরজি খারিজ হয়ে যায়।

এদিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিষাখালিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১৩১৮ বিঘা জমিতে ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সাপমারা খালের দু’পাশ থেকে উচ্ছেদ হওয়া এবং জেলার বিভিন্ন স্থানের ভূমিহীনরা বসবাস শুরু করে। এরপর থেকে ওই জমির মালিক দাবিদাররা লীজ দেওয়া জমির মাছ ও ঘেরের বাসা নিজেদের দাবি করে ভূমিহীনদের নামে একের পর এক ফৌজদারি মামলা দেন। ওই জমি খাস জমি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিতে খলিষাখালি শেখ মুজিবনগর ভূমিহীন আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁসহ বিভিন্ন বামপন্থী নেতাগণ আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন।

২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা ভ‚- সম্পত্তি জবরদখল ও পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত এক সভায় সাতক্ষীরার তৎকালিন পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান খলিষাখালির ৪৩৯দশমিক ২০ একর জমি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর এসএ রেকর্ড সংশোধন ও খাস জমি হিসেবে পরিণত করার দেঃ ১৮/১০ নং (টাইটেলশুট) মামলায় সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এর বিচারক এএইচএম মাহামুদুর রহমান ওই জমি লাওয়ারিশ জমি হিসেবে বিবেচনা করে দুইজন রিসিভার নিয়োগের জন্য ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারির আদেশটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে এপিলেড ডিভিশনে ২৫৬৮/১৭ আপিল মামলার ২০২১ সালের ৪ ফেব্রæয়ারির রায় ডাঃ নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম ওয়ারেশ, , আব্দুল আজিজ,আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদসহ অন্যদের বিপক্ষে যাওয়াসহ ওই জমি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে রেখে (প্রজাস্বত্ব আইনের ২০(২) ধারায় খাস করার জন্য) পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। দেঃ ১৮/১০ মামলার বিবাদীরা ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল ১৬৮/২১ নং রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন। মামলার কারণে বাংলা ১৪১৮ সনের পরবর্তী ১০ বছরে তারা খাজনা দিতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন।

মূল মামলার বিবাদীপক্ষগণ সুপ্রিম কোর্টের সিভিল রিভিউ ১৬৮/২১ মামলাটি শুনানী না হওয়া পর্যন্ত তাদের জমিতে কোন স্বত্ব নেই দাবি করে সেখানে বসবাসরত আট শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করা যাবে না মর্মে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার।এরপরও দেওয়ানী মামলার বিবাদীপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সরকারি কৌশুলী অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহ এর সুপারিশ অনুযায়ি ওই জমি কথিত জমির মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ হুমায়ুন কবীর রেজুলেশন করেন। এরপরপরই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন ছিদ্দিকী মাইকিং এর মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ভ‚মিহীনদের উঠে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। বাধ্য হয়ে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি খলিষাখালি ভূমিহীন সমিতির সভাপতি আনারুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সাতজনকে বিবাদী করে মহামান্য হাইকোর্টে ১৫০০/২২ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। ২৭ ফেরুয়ারি শুনানী শেষে আদালত ওই জমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ না করে ছয় মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন।

তবে ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসক মোঃ হুমায়ুন কবীরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি খলিষাখালির ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য এক প্লাটুন নারীপুলিশসহ দুই প্লাটুন পুলিশ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর কৃষ্ণা রায় ওই জমির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য, তপশীল ও অবৈধ দখলদারদের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। যুগ্ম জেলা জজ- ২য় আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হেরে যাওয়া পর্যন্ত বাংলা ১৪১৮ সাল থেকে ১০ বছর জমির খাজনা জমা দিতে পারেনি কাজী গোলাম ওয়ারেশ, আব্দুল আজিজ, আইডিয়ালের ডাঃ নজরুলসহ দেওয়ানী ১৮/১০ নং মামলার বিবাদীরা। ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসক ওই জমি মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে মর্মে রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রকারন্তে ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৪০ জন সুদসহ জমির খাজনা পরিশোধ করে নিজেদের নতুন করে জমির মালিক হিসেবে দাবি করতে থাকেন।

২৪ জন বর্তমান সেটেলমেন্টে তাদের আংশিক জমির রেকর্ড করান। যাহা সিভিল রিভিউ ১৬৮/২১ নং মামলার চুড়ান্ত শুনানীর আগেই মূল মামলার বিবাদীপক্ষ চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি নতুন করে অতিরিক্ত সংযুক্ত করেন। ৪৩ জন জমির মালিক দাবিবার আনারুল ইসলামের দায়েরকৃত ১৫০০/২২ নং রিট পিটিশনে পক্ষভুক্ত হয়ে মামলা খারিজের আবেদন করলে আদালত ২০২২ সালের ২৪ আগষ্ট শুনানী শেষে মালিক দাবিদারদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে ১৭ নং বেঞ্চে রিট এর শুনানী করার জন্য নির্দেশনা দেন। একই আদালত ৩১ আগষ্ট ভূমিহীন নেতা আনারুলের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থিতাবস্থা জারির মেয়াদ আরো ছয় মাস বৃদ্ধির আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা থাকালিন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানকে প্রভাবিত করে ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতি কম রেখে ওই পুলিশ সদস্যদের খলিষাখালিতে হামলার সময় কথিত জমির মালিকদের রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রেখে ৭৮৫ টি ভূমিহীন পরিবারের ঘরবাড়িতে লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করে বিরান ভূমিতে পরিণত করে দেঃ ১৮/১০ মামলার বিবাদীরা। একইসাথে নোড়ারচকের আবুল হোসেন, ইসমাইল মেম্বর, ইয়াদ আলীসহ কমপক্ষে ১৫টি পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে জমির মালিক দাবিদারদের ভাড়াটিয়া মোকাররম শেখের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় কোন মামলা করতে পারেনি। তবে চারটি পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করায় হামলাকারিদের হুমকিতে তারা মামলা তুলে নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভ‚মিহীনরা ঢাকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার পাশাপাশি পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ও ভ‚মি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। যদিও পুলিশ ও ভূমিদস্যুদের সখ্যতার ফলে ভ‚মিহীন নেতা আনারুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম যারা প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে অগ্রণী ভ‚মিকা রেখেছিলো তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি থানায় নাশকতার মামলা দেওয়া হয়।

আন্দোলন সংগ্রামের একপর্যায়ে নোড়ারচকের ভূমিহীন মুজাহিদ ও পারুলিয়ার প্রাইভেটকার চালক আনারুল ইসলামকে মোবাইল কোর্টে আটক করে দেবহাটা থানায় পাঠানোর পর তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ মুজাহিদের ডান পা হকি স্টিক দিয়ে ফাটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। ভূমিহীন ফজলু মোড়ল ও বাবলুকে রাতে যথাক্রমে খলিষাখালি ও নোড়ারচকের বাাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরদিন সকালে পারুলিয়া জেলেপাড়া এলাকা থেকে ৫৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে পাঠান দেবহাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহ। খলিষাখালির ভূমিহীন সাইফুলকে আশাশুনির বদরতলা মাছের সেট থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর আশাশুনির বদরতলা মাছের সেট থেকে ব্যবসায়ি ইউনুস আলীকে দেবহাটা থানার পুলিশ জোরপূর্বক মোটর সাইকেলে করে তুলে এনে দেবহাটার পারুলিয়া জেলেপাড়ার পার্শ্ববর্তী একটি ইটভাটার পাশ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও দুই রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওইদিন জেলে পাঠায় দেবহাটা থানা। খলিষাখালির জমির মাালিক দাবিদারের দায়েরকৃত দ্রুত বিচার আইনের মামলায় একই দিন অর্থাৎ ৩ নভেম্বর খালাস পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ভূমিহীন ও স্বেচ্ছাস্বেক লীগের নেতা শরিফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও গোলাম মুর্শিদকে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল কোর্টের তিনতলা থেকে নীচের তলায় ডেকে নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে ডিবি পুলিশ কোর্ট চত্ত¡র থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। বিকেলে তাদেরকে দেবহাটা থানায় নিয়ে রাত ১২টার দিকে দেবহাটার অনিল স্বর্ণকারের পরিত্যক্ত আমবাগানে ডাকাতির চেষ্টাকালে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একটি ওয়ান শুটার গান ও সাত রাউÐ গুলিসহ অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির চেষ্টার পৃথক মামলা দিয়ে ৪ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায় পুলিশ। ভ‚মিহীন সংগঠণটির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামকে কালিগঞ্জের নলতা থেকে পুলিশের সহায়তায় তুলে এনে ভূমিদস্যুরা নির্যাতনের পর পুলিশে সোপর্দ করে। রাতে তাকে থানায় হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। এসব ঘটনা সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ তার পত্রিকা দৈনিক বাংলা’৭১ এ প্রকাশ করেন। যদিও পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার বিষয়টি সর্বদাই অস্বীকার করেছে।

২০২২ সালের ৩ নভেম্বর ইউনুস আলী, শরিফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মুর্শিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মোঃ মহিউদ্দিনকে পরদিন অবহিত করেন সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ওই সাংবাদিককে ৪ নভেম্বর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি দেন। ৫ নভেম্বর সাতক্ষীরায় পুলিশের বিভাগীয় তদন্তে আদালত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া খালাসপ্রাপ্ত আসামীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. অজয় সরকার, অ্যাড. মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী ও আইনজীবী সহকারি কবীর হোসেন সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকায় ইউএনডিপির কর্মশালা চলাকালে বিকেল তিনটা ১৩ মিনিট ও তিনটা ৩৯ মিনিটে মোবাইলে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি ও জীবননাশের হুমকিসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠণকে অবহিত করা হয়।

২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সুলতানপুর বড় বাজার থেকে কাচা সবজির বাজার করে পুরাতন সাতক্ষীরার কুদ্দুস আলীর মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে দিবানৈশ কলেজ মোড় ও পিএন স্কুল রোডের মাঝামাঝি জায়গা থেকে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক তারেক ইবনে আজিজ (বর্তমানে ডিবি ওসি) ও উপপরিদর্শক লোকমান হোসেন সাদা পোশাকে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁকে মোটরসাইকেল থেকে নামতে বাধ্য করেন। পরে তকে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে শহরের ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান।

এসময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল তারা কেড়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি কালো রংয়ের প্রাইভেট কারে তুলে তাকে প্রথমে সখিপুর আহছানিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষন রাখার পর তাকে খলিষাখালী ভূমিহীন জনপদের পাশ্ববর্তী বদরতলা-পারুলিয়া সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফায় গাড়ি থামিয়ে মোবাইলে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেন পুলিশ পরিদর্শক তারেক ইবনে আজিজ। সেখান থেকে রঘুনাথ খাঁকে ৩টার দিকে দেবহাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

রাত ৮টার দিকে হযরত আলীর মাইক্রোবাসে করে তাকে ও ঢেপুখালীর রেজাউল ইসলামকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় জরুরী বিভাগের চিকিৎসক হিসাবে দায়িত্ব পালনকারি ডাক্তার শারীরিক কোন সমস্যা না থাকার পরও পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ি রঘুনাথ খাঁ শারীরিকভাবে নির্যাতিত উল্লেখ করে একটি ব্যবস্থাপত্র তৈরী করে এসআই লালচাঁদ ও এসআই শামীমের হাতে দেওয়া হয়। সেখান থেকে আবারও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তাকে থানা লকআপ থেকে মোবাইলে কয়েকবার ছবি ধারন করা হয়। ২৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হাতকড়া পরিয়ে বিভিন্ন স্টাইলে ভিডিওচিত্র ধারন করা হয়।

এরপর তাকে ও চেক ডিজঅনার মামলার আসামী সমীরণ সরকারকে আদালতে নেওয়ার জন্য হাতকড়া পরা অবস্থায় পৃথকভাবে পুলিশ পিকআপে তোলা হয়। গাড়িতে তুলেই রঘুনাথ খাঁ’র দুই চোখ বেঁধে ফেলা হয়। সেখান থেকে তাকে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরে নিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান, ডিবি পুলিশের ওসি বাবলুর রহমান খান ও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ(বর্তমানে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কয়েকজনের উপস্থিতিতে হাতকড়া দিয়ে পিছনে দুই হাত বেঁধে চোখ বেঁধে দু’ পায়ের তলায় কাঠের চওড়া বাটাম দিয়ে পেটানো হয়। একই সাথে মুখমণ্ডল, ঘাড় ও শোল্ডার জয়েন্টে কনুই ও ঘুষি মেরে নির্যাতন করেন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান। দুই কানে কয়েক দফায় আধঘণ্টাব্যাপি ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে লিখলে কারাফটক থেকে ধরে এনে ট্রাকের চাকার তলায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন পুলিশ সুপার। পরে বিকাল ৪টার পর রঘুনাথ খাঁকে একটি মাইক্রোবাসে করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে এসে রঘুনাথ খাঁ জানতে পারেন যে দেবহাটার খলিষখালিতে ঘেরে লুটপাট, বোমা বিস্ফোরনের ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩), ২৫-ডি তৎসহ বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৪/৬ ধারায় একটি ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কথিত জমির মালিক সুরুজ কাজীর দেওয়া আরও একটি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি সংস্থা আইডিয়ালের নির্বাহী পরিচালক জেলা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নব্য সদস্য ডাঃ নজরুল ইসলাম (তাকে শেল্টার দিতে ২০২২ সালের আগষ্ট মাসে সদস্য করা হয়) সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক বর্তমানে ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক বিন আজিজ সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁকে বহনকারি মোটর সাইকেল চালক কুদ্দুসকে ২৪ জানুয়ারি দু’ দফায় থানায় ডেকে এনে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ'কে তিনি খলিষাখালিতে নিয়ে যাননিসহ শিখিয়ে দেওয়া বিভিন্ন কথা ভিডিও করে নেন। বিকেলে তাকে নিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। রঘুনাথ খাঁ ও তার পরবিারের সদস্যরা যাতে এ ব্যাপারে কোথাও কোন লিখিত অভিযোগ না করে বা কোন সংস্থার কাছে বক্তব্য না দেয় সেজন্য শহরের লাবনী মোড় এলাকার প্রিয় গোপাল বস্ত্রালয়ের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সরকাাির কর্মকর্তা বর্তমানে হুÐি ব্যবসায়ি বলে পরিচিত জিতেন্দ্র নাথ ঘোষ ট্রাফিক ইনসপেক্টর শ্যামল চৌধুরীর সঙ্গে পরামর্শ করে রঘুনাথের বাসায় এসে নানা ভয়ভীতি ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে পুলিশ সুপারের দেওয়া বলে তার মেয়ের হাতে চারটি ৫০ হাজার টাকার বান্ডিল ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর বাসায় রেখে যান। রঘুনাথ খাঁকে দুটি মামলাং ২৯ জানুয়ারি জামিন দেয় আদালত। ৩০ জানুয়ারি বিষয়টি জানতে পেরে জিতেন্দ্রনাথ ঘোষকে আসতে বললে ৩১ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে জিতেন্দ্রনাথ ঘোষের হাতে ও ট্রাফিক ইনসপেক্টর শ্যামল চৌধুরীর উপস্থিতিতে ওই টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়। যদিও টাকা ফেরৎ নিতে ওই দু’জন জোর আপত্তি করেছিলেন। (ভিডিও আছে)। ওই দুটি মিথ্যা মামলার একটিতে পুলিশ রঘুনাথ খাঁ’র বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও অপরটি তদন্তাধীন রয়েছে।

প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যাণার্জী, দৈনিক পত্রদূতের অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, আজকের পত্রিকার আবুল কাশেম, বাংলা ’৭১ এর সম্পাদক প্রবীর শিকদার ও ওই পত্রিকার বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি, এমএসএফ এর নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. সুলতানা কামাল, আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা শাখার সম্পাদক অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জাসদ নেতা প্রভাষক ইদ্রিস আলী, বাসদ নেতা অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ সরকার, শ্রমিক ফেডারেশন নেতা মকবুল হোসেন, বাবুলিয়া স্মৃতি সংসদের কাওছার আলী, সাংবাদিক চন্দন চৌধুরী, রেজাউল করিমের ঐকান্তিক চেষ্টায় রঘুনাথ খাঁকে আটকের ১০ ঘণ্টা পর সন্ধান পাওয়া যায়। নির্যাতনের কারণে মুক্তির পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত রঘুনাথ খাঁ সাতক্ষীরা কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল চিকিৎসা নেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের ব্যাঙ্গালোরের বৈদেহী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদেস্যর বিচারপতিদের বেঞ্চ সিভিল রিভিউ ১৬৮/২১ নং মামলার শুনানী করেন। শুনানীকালে রিভিউকারি আনছার আলী ও তাদের সহযোগীদের পক্ষের আইনজীবীগণ ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের সস্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভ‚মি সংক্রান্ত সভা শেষে রেজুলেশনে দেঃ ১৮/১০ মামলার বিবাদীগণকে ৪৩৯.২০ একর জমির মালিক হিসেবে উল্লেখ করা ও পরবর্তীতে খাজনা জমা দেওয়া ছাড়াও বিএস রেকর্ডের কথা তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড ও এটর্ণি জেনারেল জমি রাষ্ট্রের বা সরকারি সম্পত্তি মর্মে ব্যাখ্যা দেন। ২৫ জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়।

২৫ জানুয়ারি আদেশ ঘোষণার পূর্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এটর্ণি জেনারেল এএম আমিনউদ্দিন বলেন, নি¤œ আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে ওই সম্পত্তি লাওয়ারিশ হিসেবে গণ্য করে রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন। তা ছাড়া মূল দেওয়ানী মামলা (১৮/১০) ২০১৮ সালে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নালিশী সম্পত্তি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নিজস্ব জনবল দ্বারা প্রচলিত বিধি বিধান ও যথাযথ আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নির্দেশ দিয়ে জমি সরকারের বলে নিশ্চিত করেছেন। সে কারণে মূল মামলার বিবাদীগণ পরাজিত হওয়ায় পূর্ণঃবিচার চেয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে দেঃ মামলার বিবাদীরা ভুল তথ্য দিয়ে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ওই জমির মালিকানা স্বীকার করিয়ে নিয়ে রেজুলেশন করিয়ে নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের ওই আদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশকে বিতর্কিত করেছে। এসব কারণে রিভিউকারিদের স্বত্বাবিহীন রিভিউ পিটিশনটি খারিজের আবেদন জানান তিনি।

সবশেষে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আদেশে বলেন, উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনিলাম। তর্কিত আদেশটি পর্যালোচনা করিলাম । যাহা দরখাস্তকারি পূণঃ নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা রেকর্ডপত্রে দেখেছি যে, কোন ভুল বা ত্রæটি পরিলক্ষিত হয়নি। যাহা আদেশ নং ৪০(৭), বিধি নং-১(১) দেওয়ানী কার্যবিধি আইন,১৯০৮। সিভিল রিভিউ পিটিশনটি খারিজ করা গেল। এবং রিভিউ আবেদনটি গুণগত মানের দিক থেকে খারিজ করা গেল। অফিসকে নির্দেশ দেওয়া গেল এক্ষুনি হাইকোর্ট বিভাগে এ নির্দেশ পাঠিয়ে বাস্তবায়নের জন্য।

তবে সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ বিভাগের আদেশে দেঃ ১৮/১০ মামলার বিবাদীগণকে স্বত্বহীন করা হলেও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের জমির মালিকানা সম্পর্কিত ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বরের রেজুলেশনটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। এ নিয়ে স্থানীয় দৈনিক পত্রদূত, সুপ্রভাত সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি কাগজে প্রধান বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আদেশ না জেনে জেলাপ্রশাসকের জমির মালিকানা সম্পর্কিত আদেশকে বিচারের উর্দ্ধে রেখে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা ও বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সেকারণে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে যারা এসএ ও বিএস রেকর্ড তৈরির মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে সম্প্রতি খাজনা জমা দিয়েছেন তারা সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে নিঃশর্ত হয়েছেন। দীর্ঘ ৬৭ বছর ধরে তারা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করে নিজে ও লীজ দিয়ে কমপক্ষে দুইশত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব লুটপাট করেছেন। এ কারণে ওইসব লুটপাটকারিদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিকল্প নেই। তাতে অন্যান্যস্থানের জবরদখলকারিরা পিছু হঠবে।

গত ২৫ জানুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতে জমির স্বত্বহীন হওয়ার পরও সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কাজী গোলাম ওয়ারেশ, ইকবাল মাসুদ, আনছার গাজী, আব্দুল আজিজ, ডাঃ নজরুলসহ বেশ কয়েকজন ঘেরের মাছ কেনার নাম করে কৌশলে নাশকতা মামলার আসামী বিএনপি নেতা নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আরিজুল ইসলাম, মাটি কুমড়ার জবেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে আনারুল ইসলাম (মাছ), ইন্দ্রনগরের নিতাই মাষ্টারের ছেলে মিলন বাবু, নওয়াপাড়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা গোলাম ফারুখ বাবু, দক্ষিণ পারুলিয়ার মাছ ব্যবসায়ি ইলতুত, দেবহাটা নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বয়ারডাঙা গ্রামের বাবর আলী মোড়লের ছেলে নজরুল ইসলাম, পারুলিয়ার শফিকুর রহমান ওরফে সেঝ খোকন, বাবুরাবাদের বেড়ে শওকতসহ কয়েকজন ১৩২০ বিঘার বড় অংশ দখলে নিয়েছে। বর্তমানে তারা ওই জমিতে স্কেবটর ম্যাশিন দিয়ে উঁচু ও চওড়া করে বেড়িবাঁধ বানাচ্ছেন। আরিজুল ইসলাম ও মাছ আনারুলসহ কয়েকজন ভ‚মি খাদক এখন প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যেন চোর তাড়িয়ে ডাকাত পোষার মত অবস্থা। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বাস্তুচ্যুত হওয়া ভ‚মিহীনদের বড় অংশ ওই জমিতে পূর্ণবাসনের লক্ষে তোড়জোড় চালাচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসন কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে খলিষাখালিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো অসম্ভব হয়ে উঠবে। বর্তমান সরকারের সময়ে পরাজিত শক্তির কাছ থেকে যে সব বিএনপি নেতা কর্মীরা খলিষাখালির ১৩২০ বিঘা জমি দখলে নিয়ে সরকারি রাজস্ব লুটপাঠ করে নিজেদের রসনা তৃপ্ত করতে ব্যস্ত রয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ‘ভ‚মিহীনদের খাস জমির অধিকার, বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার’বর্তমান সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে উচ্ছেদ হওয়া অসহায় ভ‚মিহীনদের চিহ্নিত করে খলিষাখালিতে পূর্ণঃবাসন করতে হবে। বর্তমান সরকার খুব শ্রীঘ্র নব্য ভ‚মি খাদকদের খলিষাখালি থেকে উচ্ছেদের জন্য তৎপর হবেন বলে মনে করেন প্রত্যাশা স্থানীয় সুশীলজনদের।

(আরকে/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২৪ এপ্রিল ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test