E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

ভৈরবে ভ্রমণতরী ডুবে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডের চালক গ্রেপ্তার

২০২৪ মে ০২ ১৬:১৯:০৪
ভৈরবে ভ্রমণতরী ডুবে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডের চালক গ্রেপ্তার

সোহেল সাশ্রু, কিশোরগঞ্জ : ভৈরবে বাল্কহেডের ধাক্কায় ভ্রমণতরী ডুবে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডের চালককে গ্রেপ্তার করেছে নৌ থানা পুলিশ। আটককৃত বাল্কহেডের চালক নরসিংদীর রায়পুরা জেলার চর আব্দুল্লাহপুর এলাকার ইসমাঈল মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৪)। দীর্ঘ ১ মাস ১০ দিন পর গত মঙ্গলবার তাকে রায়পুরা থেকে আটক করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভৈরব নৌ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

এ বিষয়ে ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ২২ মার্চ বাল্কহেডের ধাক্কায় ভ্রমণতরী ডুবে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে বাল্কহেডের চালক আল আমিন পলাতক ছিল। ঘটনার পর থেকে বিশেষ অভিযান চালায় নৌ পুলিশ। ৩০ এপ্রিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংদীর রায়পুরা থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তবে তার সাথে থাকা সহযোগী হৃদয় মিয়া (২২) ঘটনার এক সপ্তাহ পর দুবাই পালিয়ে যায়। আল আমিনকে ১ মে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরে আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে হাজির করলে আল আমিন ১৬৪ ধারা জবানবন্দি শুনে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ ভৈরব মেঘনা নদীতে ত্রিবেণী সেতু এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল পরিবারসহ ২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ভ্রমণ তরী নৌকা ঘুরতে বের হয়। সেখানে ঘুরাঘুরির সময় নদীর মাঝামাঝি অবস্থানে ভ্রমণ তরী যখন সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর তৃতীয় পিলার নিকট যায় তখন অপরদিক থেকে আসা একটি বালুভর্তী বাল্কহেড নৌকার ধাক্কায় সাথে সাথে ঘটনাস্থলেই ভ্রমণ তরীটি নদীতে ডুবে যায়।

এ সময় ১২ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এদের মধ্যে ঘটনার দিন কমলপুর এলাকার সুবর্ণা (৩৫) নামে এক নারী হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। ওই দিন ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশের কনস্টেবল সোহেল রানা (৩০), স্ত্রী মৌসুমি (২৫), মেয়ে মাহমুদা (৭) ও ছেলে রায়সুল (৫), শহরের কমলপুর আমলা পাড়া এলাকার আরদ্দা (১২), বেলান দে (৫৫), রুপা দে (৩৫) ও নরসিংদীর রায়পুরা এলাকার আনিকা আক্তার (১৮) নিখোঁজ হয়। পরদিন ২৩ এপ্রিল বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ৭ জন ডুবুরীদল উদ্ধার অভিযান শুরু করে ৩ দিনে নিখোঁজ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

এ ঘটনার ২৫ মার্চ ভ্রমণতরী ও বাল্কহেডের চালক ও ইঞ্জিন মিস্ত্রি নামের আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানার পিতা আব্দুল আলিম।

(এসএস/এসপি/মে ০২, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২০ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test