E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

কাপাসিয়ায় ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

২০২৪ মে ১৬ ১৯:৫৯:৩৫
কাপাসিয়ায় ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সঞ্জীব কুমার দাস, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক স্ত্রী তার স্বামীর উপর মিথ্যা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার স্বামীর উপর বিভিন্ন মহল থেকে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

গত ১৫ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে আমার স্বামী শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর একটি সংবাদ প্রচার করে। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইসবুকে) ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাপাসিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই মিথ্যা সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে সত্য ঘটনা উন্মোচন করার জন্য করেন সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

মিজান মাস্টারের স্ত্রী রাশিদা খাতুন তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তাঁর স্বামী মোঃ মিজানুর রহমান তিনিও শিক্ষক। গাজীপুর জেলা কাপাসিয়া উপজেলা সদরের জুনিয়া গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিদা খাতুন লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ প্রচারে আমার, আমার স্বামীর ও পরিবারের মান সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমার স্বামী মোঃ মিজানুর রহমান একজন আদর্শবান ও নীতিবান শিক্ষক। তিনি নীতি ও নৈতিকতার সাথে ২০ (বিশ) বছর ধরে সুনামের সহিত কাপাসিয়ায় শিক্ষকতা করে আসছেন। তাঁর সুনাম নষ্ট করতে কিছু মহল বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। শিক্ষক মিজানুর রহমান ২০১৪ সালে নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে বিনা খরচে প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া করার জন্য 'ফুলকুঁড়ি প্রতিবন্ধী' নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

অসহায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নার্সিং ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টার। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরীজ স্কুল এবং ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পারদর্শীতামূলক শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন মিজান'স ইংলিশ কেয়ার ও ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাবসহ আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাপাসিয়ার শত শত প্রতিবন্ধী পেয়েছে শিক্ষা ও চিকিৎসা। পাশাপাশি পেয়েছে হুইলচেয়ার এবং বিভিন্ন উপকরণ। এমন একটি মানুষের মান সম্মান নষ্ট করতে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পিছনে লেগে আছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের রমজান মাসের তুচ্ছ একটি ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা নূরজাহান (কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রাম) আমলজাহান নোহাকে আমার স্বামীর গাজীপুরস্থ্য কোচিং সেন্টারে গিয়ে ভর্তি করেন। কয়েকদিন ক্লাস করার পর ওনার মেয়েকে একা পড়ানোর জন্য চাপ দেয়। আমার স্বামী রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রী মা অকথ্য গালাগাল করে এবং হুমকি দেয়।

আমার স্বামী বলেন, আপনি আপনার মেয়েকে অন্য কোন শিক্ষকের কাছে পড়ান, আমার কাছে আপনার মেয়েকে পড়ানোর দরকার নাই। তখন ওই ছাত্রীর মা রাগান্বিত হয়ে বলেন, গাজীপুরে পড়াতে হলে আমার মেয়েকে আলাদাই পড়াতে হবে। এসব কথা আমার স্বামী আমার কাছে বলে।

তারপরগাজীপুরের আমি আমার স্বামীকে কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করার জন্য বলি এবং বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর গত ৮ মে, ২০২৪ ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন আমাদের বাড়ির পাশে একজন সাংবাদিক এসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আমাদের বাড়ি-ঘর কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া ভিডিও করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই সাংবাদিক আমার শ্বশুড়কে নানা ধরনের অশ্লীল কথা জিজ্ঞেস করতে থাকে।

এ সময় আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই সাংবাদিকের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে ওই সাংবাদিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে যেসব প্রতিবাদ করেছে তা প্রকাশ না করে সাংবাদিকের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে একতরফা মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে। যা আমার স্বামীর চরিত্র হনন হয়েছে। আমার স্বামী শিক্ষক মিজানুর রহমান সারাদিন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সাংবাদিকের সাথে আমার স্বামী শিক্ষক মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সাক্ষাত বা ফোনে কথাও হয়নি। আর এভাবে এক পক্ষের কথা শুনে ভিডিও সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

এই একপেশে সংবাদ প্রচার করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং এর বিরুদ্ধে যা যা করণীয় আমি আপনাদের নিকট দাবি জানাই।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন, এ ঘটনার পরেরদিন অর্থাৎ ৯ মে ২০২৪ আমার স্বামী মিজান মাস্টারের ব্যাবহৃত মোবাইলে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে কেউ একজন ফোনে মিজান মাস্টারকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে দুটি ঘটনা উৎপ্রোতভাবে জড়িত। আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানাই। এবং আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আপনাদের লিখনের মাধ্যমে সত্য ঘটনাকে সকলের সামনে প্রকাশ করতে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মিজানুর রহমানের বড় মোঃ আমিনুল রহমান, বড় বোন মাসুদা আক্তার ও স্বপ্ন বেগম, ছোট ভাই মোঃ আতাউর রহমানসহ কর্মরত ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

(এসকেডি/এএস/মে ১৬,২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২০ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test