E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: কে হাসবেন বিজয়ের হাসি?

২০২৪ জুন ০৪ ১৭:৫২:৫২
কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: কে হাসবেন বিজয়ের হাসি?

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের ৪র্থ ধাপের নির্বাচন। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক জন নারী প্রার্থী সহ লড়ছেন পাঁচ জন। জয়ের আশা করছেন সবাই। কিন্তু নির্বাচনের পর কে হাসবেন বিজয়ের হাসি এ প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে ফিরছে। 

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে এক জন নারী প্রার্থী সহ ৫ জন লড়ছেন। এদের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মোজাফরপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল আলম মো: জাহাঙ্গীর চৌধুরী কাপ-পিরিচ প্রতীক পেয়েছেন। তিনি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছেন। নির্বাচনী মাঠে গুঞ্জন আছে তাকে বিজয়ী করতে তার সমর্থনে আড়াল থেকে কাজ করছেন নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু।

জাহাঙ্গীর চৌধুরীর কর্মী সমর্থকরাও ভোটারদের কাছে এমপি পিন্টুর দোহাই দিচ্ছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। তবে ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু এমপি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পোস্ট দিয়ে বলেছেন কোন প্রার্থীর পক্ষে তার অবস্থান নেই। জাহাঙ্গীর চৌধুরী নির্বাচনে জয়ের আশায় দিনরাত এক করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত হলে শিক্ষার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। তাছাড়া জনগন যাতে সরকারী সকল দপ্তরের সেবা টুকু পান সে বিষয়টুকু তিনি নিশ্চিত করবেন।

হুমায়ুন কবির চৌধুরী কেন্দুয়া উপজেলা আওমালীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে তিনি নৌকা মার্কার প্রার্থীকে পরাজিত করে পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি নৌকা মার্কার প্রার্থী অসীম কুমার উকিলের পক্ষে কাজ করেছেন। এবার চেয়ারম্যান পদে তার নির্বাচনী প্রতীক দোয়াত কলম। তিনি পেয়েছেন কেন্দুয়া উপজেলা আওমীলীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমর্থন। দোয়াত কলম প্রতীকে ভোট দিয়ে হুমায়ুন করিব চৌধুরীকে বিজয়ী করতে ভোটের মাঠে নেমেছেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সাবেক এমপি অসীম কুমার উকিল, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক অপু উকিল, উপজেলা আওমীলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো: আসাদুল হক ভূঞা সহ দলের সব সারির নেতাকর্মী। তিনি বলেন, সুষ্ঠ ভোটে তাকেই ভোট দিয়ে জনগণ নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত হলে তিনি শেখ হাসিনা ঘোষিত র্স্মাট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কেন্দুয়া উপজেলা কে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।

মো: মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। গত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর ট্রাক প্রতীকের বিজয়ের লক্ষ্যে জোরালো ভাবে মাঠে ছিলেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সারা উপজেলায় তার পরিচিতিও অনেক। যুবসমাজ তার নির্বাচনে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন। মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে জনগনের ভোটে তিনিই নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে স্বাস্থ্য ও পরে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করবেন।

সালমা আক্তার কেন্দুয়া উপজেলা আওমীলীগের সাবেক মহিলা সম্পাদক, চিরাং ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান থাকা কালীন সময়ে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর উপর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুরষ্কার পেয়েছিলেন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিও নৌকা মার্কার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন ব্যাপক ভাবে। এবার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হতে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। প্রচুর অর্থ বিত্তের মালিক তিনি। গুঞ্জন আছে নির্বাচনী মাঠে তিনি ভোটের জন্য জনগনের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অপর দিকে নারী প্রার্থী হওয়াতে নারী ভোটাররা তার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যদি নারী পুরুষ মিলে কেন্দ্রে গিয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেন তাহলে তিনিই নির্বাচিত চেয়ারম্যান। নির্বাচিত হলে তিনি স্কুল থেকে ঝড়েপরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করবেন। এছাড়া যেসব গবির ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারে না তিনি তার ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে তাদের লেখাপড়ার কাজে সহায়তা করবেন।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান হিমালয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নেত্রকোনা জেলা আওমীলের উপদেষ্ঠা। ব্যবসায়ীক কাজে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বিগত দিনে তিনি গরিব মানুষের মাঝে ভ্রাম্যমান ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরন করে আলোচনায় এসেছেন। মানবিক কাজে তিনি যথেষ্ট অবদান রাখতে চেষ্ঠা করেন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা মার্কা প্রার্থীর পক্ষে নেত্রকোনা-৩, নেত্রকোন-২ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে কাজ করেছেন। তার আশা ছিল তিনি পাবেন আওমীলীগের সমর্থন। কিন্তু পাননি। তবে নাগরিক সমাজের প্রার্থী হয়ে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ব্যাপক গনসংযোগ করেছেন। মিজানুর রহমান মিজান আশা করেন, জনগণকে যদি কোন অপশক্তি বাধা না দেয় তাহলে জনগণের ভোটে তিনিই হবেন জনগণের চেয়ারম্যান। তার স্বপ্ন ও ইচ্ছা যদি তিনি চেয়ারম্যান হতে পারেন তবে তিনি বেকার সমস্যার সমাধান করবেন। একজন শিল্প উদ্যোক্তা মানুষ হিসাবে নতুন নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন।
কেন্দুয়া উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন। এতে মোট ভোটর সংখ্যা ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩২ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৬ ও ৬ জন হিজড়াসহ মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৯৬টি। বুথের সংখ্যা ৭২৩। প্রিজাইডিং অফিসার ৯৬, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৭২৩ এবং পুলিং অফিসার ১৪৪৬। নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে অনুষ্ঠানের জন্য ২০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ৬টি টিমে ৬০ জন বিজিপি সদস্য, দুইটি মোবাইল টিম, পুলিশের ভ্রাম্যমান ১৪টি, স্টাইকিং ৫টি টিম নির্বাচনী মাঠে কাজ করবেন। এছাড়া র‌্যাব সদস্যরাও ভ্রাম্যমান হিসেবে কাজ করবে বলে জানান সহকারী রির্টানিং অফিসার।

(এসবি/এসপি/জুন ০৪, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২০ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test