E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

‘স্যার গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ আছে ১ ঘন্টা পরে স্যার ফ্রি হবেন’

২০২৪ জুন ১৩ ১৪:২৭:৫৯
‘স্যার গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ আছে ১ ঘন্টা পরে স্যার ফ্রি হবেন’

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও উপজেলা পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়বদ্ধ। উপজেলা পরিষদের কোনো অস্বাভাবিক বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করা। পরিষদে সরকারের আগ্রহ নিশ্চিত করা এবং সভা আহ্বান করা ইত্যাদি তার কাজ। একজন সংবাদ কর্মী রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগণের দূর্ভোগ, সমস্যা,  অসংগতি ও অনিয়মের কথা জানাতে  বার বার ইউএনওর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎের পর ব্যার্থ হয়ে রাত ৮ টা ২৩ এ ফোন করা হলে , সি.এ. বলেন স্যার গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ আছেন ১ ঘন্টা পরে স্যার ফ্রি হবেন।

জেলা প্রশাসকে নির্দেশ অমান্য করেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ফসলি জমি নষ্ট করে দিনে রাতে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব। উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় নির্বিঘ্নে অবৈধ ট্রাক্টর ট্রলি গাড়ীতে বিক্রিত মাটিগুলো বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর সে জন্যই প্রশাসনকে অবহিত করতে ইউএনওর সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে মিললো না সাড়া।

বুধবার ১২ জুন বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বানা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিরগ্রাম মৃত আব্দুল ওয়াজেদ খানের ছেলে সাইদুর রহমান সেন্টু খান মাঠের মধ্যে কৃষি জমি কেটে পুকুর বানাচ্ছে। মাটি ব্যবসায়িরা স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না।

এর আগে বিকেল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ইউএনও'র জন্য অপেক্ষা করেও পাওয়া যায়নি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন ইয়াসমিনের সাক্ষাৎ। অফিসের পিয়ন আশরাফ মাধ্যমে সাক্ষাৎের অনুমতি খরব পাঠালে তিনি অনুমতি দেননি। তার পিয়ন আশরাফ বলেন স্যার এখন ব্যস্ত আছে দেখা করবে না।

বুড়াইচ ইউনিয়নে জয়দেবপুর গ্রামে স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ি ইব্রাহীম ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার চতুল গ্রামের আব্দুল্লা দিনে রাতে নির্বিঘ্নে ভ্যেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটছে অন্যদিকে রাত হলে সদর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া বাইশার ডাঙ্গায় শুরু হয় মাটি কাটা। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় দিনে রাতে এভাবেই টলিতে মাটি ও বালু বহন করতে দেখা যায়

এতে করে একদিকে যেমন দিন দিন ফসলি জমি কমে যাচ্ছে অন্যদিকে অবৈধ ট্রলির তাণ্ডবে ধ্বসে যাচ্ছে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা এবং কাঁচা সড়কগুলো। দিনে এবং রাতে অতিরিক্ত ট্রলি চলাচল করার কারনে পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোতে প্রচুর ধুলো ময়লার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন যাপনে নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

ধুলাবালিতে তাদের বাড়ি ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও সামান্য বৃষ্টি হলেই ট্রলি গাড়ী হতে খসে পড়া মাটি হতে কাঁদার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে ঘটে দূর্ঘটনা।

জমির মালিক সাইদুর রহমান সেন্টু খা বলেন,পুকুর কাটতে সব ঝামেলা ইব্রাহীম মেটাবে।প্রশাসন, পুলিশ সকলের সাথে সমন্বয় করে কাটতে বলেছি। না করলে পুকুর কাটতে দিবো না।

এ বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ি ইব্রাহীম বলেন, মাটি কাটার অনুমতির জন্য ইউএনওর কাছে দরখাস্ত দিয়েছি, তিনি ঢাকা চলে গেলেন এদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টি নামলে কাজ করতে পারবো না তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নীরবতা অনেক কিছুরই ঈঙ্গিত দেয় বলে স্থানীয়দের দাবি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন উপজেলা প্রশাসন ম্যানেজ করেই কৃষি জমির মাটি কাটার মহাযজ্ঞ চলছে, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খাদ্য সংকটে পড়তে হবে।

এছাড়াও অভিযোগ আছে বিভিন্ন সময় উপজেলা এবং উপজেলার দৈনন্দিন নাগরিক সংশ্লিষ্ট কোন সমস্যা ও প্রয়োজন নিয়ে সাংবাদিকবৃন্দ কোন প্রয়োজনীয় কথা বলতে চাইলে ইউএনও শারমিন ইয়াসমিন সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না এবং সরাসরি কোন বক্তব্যও দেন না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়া সরকারি দাপট দেখানো হোক অথবা স্বেচ্ছাচারীতায় হোক, এতে করে আইনের ব্যত্যয় এবং সামাজিক সংকট আলফাডাঙ্গাতে প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে জনসাধারণের দাবি। কেননা সমাজের অনিয়ম, অসঙ্গতি এবং দুর্ভোগ সংবাদ মাধ্যমগুলিতেই একমাত্র প্রকাশ পায়।

সরাসরি সাক্ষাৎের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমীন ইয়াসমীনকে এ বিষয়ে রাত সাড়ে ৮ টায় ফোন দিলে প্রথমে তার ফোন কল ওয়েটিং পাওয়া যায় ২ মিনিট পরে তাকে আবার ফোনা করলে সুজন নামে ইউএনও এর সি.এ. ফোনকল রিসিভ করে বলেন স্যার গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ আছে ১ ঘন্টা পরে স্যার ফ্রি হবেন।

(টিইউ/এএস/জুন ১৩, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

১৯ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test