E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

দিনাজপুরে ৩ লাখ মুসল্লির সমাগমে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত

২০২৪ জুন ১৭ ১৪:৪৭:৫৫
দিনাজপুরে ৩ লাখ মুসল্লির সমাগমে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদ-উল-আজাহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুরে। গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে এ জামাতে দূর-দূরান্ত থেকে অংশ নেয় প্রায় ৩ লাখ মুসল্লি। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের নামাজে অংশ গ্রহণে যাতাযাতের জন্য ছিলো দু’টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা।ধনী-গরিব,উঁচু-নিচু সব ভেদাভেদ ভুলে  দিনাজপুরে এ ঈদের জামাত পরিনত হয় মুসল্লিদের জনসমুদ্রে। রূপ নেয় মিলন মেলায়। দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে এ ঈদের নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সকাল থেকে মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদ-উল-আজাহার জামাতে অংশ নিতে সমবেত হয় অসংখ্য মানুষ। প্রায় ২২ একর জায়গা অধিকাংশ পূরণ হয়।।এ ঈদের জামাতে দলে দলে সমাগম ঘটে প্রায় ৩ লাখ মুসল্লির। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের নামাজে অংশ গ্রহণে যাতাযাতের জন্য ছিলো দু’টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা।এ ঈদের জামাত পরিনত হয় মুসল্লিদের মিলন মেলায়। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় এ জামাত। নামাজে অংশ নেয় প্রধান বিচারপতি এম.এনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদসহ প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মুসল্লি।রাজধানী

ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, সাতক্ষিরা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর, নীলফামারী,জয়পুরহাটসহ আশপাশের অনেক জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেয় এ জামাতে। এশিয়া উপমহাদেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ এ জামাতে নামাজ আদায় করতে পেতে আনন্দে আপ্লুত হয় মুসল্লিরা।

ময়মনসিংহ থেকে এ ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে আসা মোকাররম হোসেন জানান,আমি এই প্রখম এতো মানুষের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। এখানে এসে আমার হূদয় জুড়িয়ে গেল। এর আগে তিনবার শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেছি। কিন্তু এতো মুসল্লির সমাগম ছিলোনা সেখানে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না। তিনি আমাকে তৌফিক দিয়েছেন বলেই এখানে এই বিশাল জামাতে আমার নামাজ আদায়ের সুযোগ হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে আগত ষাটর্বেধাবয়সের কাছাকাছি মো. ফারুক আহমেদ জানালেন, এতো বড় জামাতে এক সাথে নামাজ আদায় এই প্রথম। জানিনা, আর কখনো এই সুযোগ হবে কি না। এই সর্ববৃহৎ ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পেওে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

চট্রগ্রাম থেকে নামাজ আদায় করতে আসা সাইফুল হোসেন জানালেন, এই প্রথম এতো মানুষের সাথে এক সংগে নামাজ আদায়ের সুযোগ হলো আমার।আল্লহর কাছে এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আমাকে সুযোগ দিয়েছেন,এতো মানুষের সাখে নামাজ আদায়ের। আমি, গতকাল এসেছি,দিনাজপুরে। এই প্রথম দিনাজপুর এলাম। সম্পর্কেও এক রোনের বাড়ি ছিলাম।

দিনাজপুর শাহ্ ইফতেখার আহমেদ জানান, ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বড় এই ঈদ জামাতে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঈদগাহ মাঠজুড়ে ছিলো তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করে। সকাল ৭টা থেকে মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ শুরু করেন। মাঠের চত্বরদিকে তৈরি ১৭টি প্রবেশ পথে মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মাঠে ছিলো ৫টিঁ ওয়াচ টাওয়ার, পুলিশ ও র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প। ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ডোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ছিলো আইন-শৃংখলা বাহিনীর। মাইক বসানো ছিলো ১০০টি। এ ছাড়া ইমামকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মসজিদ এবং মাদ্রাসা থেকে নিয়োজিত ছিলো সাড়ে ৩ শতাধিক মুক্কাবির। ছিলো মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা। তৈরি করা হয় ২৫০টি অজুখানা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ছিলো যানবাহন পাকিং গ্যারেজ।

উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের এই জামাত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ঈদগাহ মাঠের রূপকার ও উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।

হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, ‘বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় ঈদগাহ মাঠের চিত্র নিয়ে এসে এ মাঠের নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়। সর্বপ্রথম মাঠের পশ্চিম প্রান্তে গত ২০১৫ সালে এ ঈদগাহ মাঠের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর পর এটি নামাজের জন্য পুরো প্রস্তুত করা হয়। এ ঈদগাহে রয়েছে ৫২টি গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দু’টি মিনার, এর মধ্যের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে এবং প্রধান মিনারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এসব মিনার আর গম্বুজের প্রস্থ হলো ৫১৬ ফুট। দেশের বড় ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রত্রিতিষ্ঠিত হয়েছে এ ঈদগাহ মিনারটি। প্রত্যেকটি গম্বুজে দেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ। মিনার দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট, যে মেহরাবে খতিব বয়ান করবেন, সেটির উচ্চতা ৫০ ফুট। ৫২টি গম্বুজ ২০ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। গেট দুটির উচ্চতা ৩০ ফুট নির্মাণে নান্দনিক স্থাপনা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।প্রতিনি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি।

দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে এ ঈদের নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ পড়ান ও মোনাজাত করান ইমামতি আলহাজ মাওলানা শামসুল হক কাসেমি। তিনি বলেন, ইমামকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মসজিদ এবং মাদ্রাসা থেকে নিয়োজিত ছিলো পাঁচ শতাধিক মুক্কাবির। কয়েকদিন প্রচন্ড তাপদাহ এবং বৃষ্টি গেলেও আল্লাহর রহমতে আজ আবহাওয়া অনুকুলে ছিলো। মুসল্লিরা স্বস্তি পেয়েছেন, নামাজ আদায়ে।’

দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে এ ঈদের নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

(এসএস/এসপি/জুন ১৭, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২২ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test