E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

ফরিদপুরে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

২০২৪ জুন ১৯ ১৭:১৪:৫৩
ফরিদপুরে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

রিয়াজুল রিয়াজ, ফরিদপুর : ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার ৭ম শ্রেনী পড়ুয়া এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় সোনান নামের এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানাধীন নাকোল এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি সোহান ওরফে টেরা সোহান (২৫)কে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০ এর একটি দল।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর র‌্যাব-১০ (সিপিসি-৩) ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার কে এম শাইখ আকতার।

এ বিষয়ে র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফরিদপুরের মধুখালি এলাকায় বসবাসকারি ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী (১৩) গত ২৮ মে সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। পরবর্তীতে স্কুল ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়িতে না ফিরলে তার পিতাসহ পরিবারের লোকজন নিকটাত্মীয় স্বজনদের বাসায় এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন।

অনেক খোঁজ খবর নিয়েও কোথাও তার কোন সন্ধান না পেয়ে মেয়েটির পিতা মধুখালি থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর গত ২ জুন মধুখালি থানায় একটি বাজারে মেয়েটির খোঁজ তার পরিবার ও স্থানীয় জনতা।

মেয়েটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের লোকজন তার নিখোঁজের কারণ জিজ্ঞাসা করলে- মেয়েটি জানায় গত ১ জুন মধ্যে রাতে আসামি তুহিন অজ্ঞাত আরও ২ জন ব্যক্তির সহযোগীতায় তাকে বিভিন্ন প্রকার প্রলোভন দেখিয়ে তুহিনের বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পায় একটি কক্ষের ভিতরে সোহান ও অন্তর অবস্থান করছে। এরপর তাকে কক্ষের ভিতরে নিয়ে আসামি তুহিন, সোহান ও অন্তর মিলে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। ঘটনার বর্ননা দেওয়ার পর মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের লোকজন তাকে মধুখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় মেয়েটির পিতা বাদি হয়ে ফরিদপুর জেলার মধুখালি থানায় তার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রী (১৩)কে অপহরণ করে গণধর্ষণের ঘটকায় সরাসরি জড়িত ধর্ষক সোহান, তুহিন ও অন্তরসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২ জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে সকল আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। এই গণধর্ষণের ঘটনা ফরিদপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ওই কিশোরী জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে সে মধুখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে একপর্যায়ে অন্তর জামান অন্তু এবং তুহিন বিশ্বাস নামে দুই ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে পরিচয় হয়। তারা দুজন ওই কিশোরীকে সাহায্যের নামে সখ্যতা গড়ে তোলে। এরপর ওই কিশোরীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। ধর্ষণের ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন অন্তু এবং তুহিন কিশোরীকে জিম্মি করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করতে থাকে।

এলাকাবাসি'র সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তু এবং তুহিন ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করলেও তারা মাদকসেবী। সে সূত্রে মাদক কেনাবেচার সময় মাদক কারবারি গ্রেফতারকৃত সোহান শাহের কাছ থেকে ফ্রি মাদক পেতে ভুক্তভোগী কিশোরীর আপত্তিকর অবস্থার ছবি সোহানকে দেয় অন্তু এবং তুহিন। এরপর মাদক ব্যবসায়ী সোহান কিশোরীকে ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে আসছিল।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার কে এম শাইখ আকতার আরো জানান, ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রী ১৩ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার ভোরে সাড়ে ৬টার দিকে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগীতা ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানাধীন নাকোল এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক অন্যতম প্রধান আসামি সোহান ওরফে টেরা সোহান (২৫) গ্রেফতার করে।

আসামি সোহান মধুখালির গোন্দারদিয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে মধুখালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

(আরআর/এসপি/জুন ১৯, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

১৪ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test