E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে তালবাহানা

২০২৪ জুন ২২ ১৫:৩৪:০৮
কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে তালবাহানা

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১০ মাসেও জমা হয়নি কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট। গত ৩ আগস্ট ২০২৩ ইং তারিখে ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাচিত কমিটি'র ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জন সদস্য, ১ জন সহ-সভাপতি ও কিছু সাধারণ সদস্য মিলে, সমিতিটির নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে তাদের স্বাক্ষরিত আবেদন করা হয়।

আবেদনটি পাঠানো ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা সমবায় অফিস, উপজেলা সমবায় অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ জেলার ভিবিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা সমবায় অফিস থেকে ২ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই বছর (২০২৩ সাল) ১৩ আগস্ট তারিখে।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আলম হোসেন স্বাক্ষরিত ওই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ফরিদপুর সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ আমানুর রহমান ও জেলা সমবায় কার্যালয় পরিদর্শক জামাল উদ্দীন মোল্লাকে। জেলা সমবায় অফিসের গঠিত ওই তদন্ত কমিটির চিঠিতে (স্মারক নং ১১৪৪) বলা হয়, ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড (রেজি নং ১৯৪) এর ব্যবস্থাপনা কমিটির এক তৃতীয়াংশ ও মোট সদস্যের ১০ শতাংশ সদস্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে সমিতির কার্যক্রম সমবায় আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এর ৪৯(১)(খ)(গ) ধারা মোতাবেক তদন্ত করে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সে অনুযায়ী ওই তদন্ত কমিটি ওই দিনই তদন্ত শুরু করলেও আজ অবদি তা শেষ হয়নি। কবে নাগাদ এই তদন্তটি শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সমিতিটির অভিযোগকারী সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে ওই তদন্ত কমিটির এক নম্বর সদস্য ও ফরিদপুর সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ আমানুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি জানান, 'আসলে সময়ের অভাবে রিপোর্টটি সম্পুর্ণ করে জমা দেওয়া হয়নি। ঈদের পরই ব্যাপারটি দেখা হবে'। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এইতো শীঘ্রই দিয়ে দিবো'। কিন্তু কবে নাগাদ তদন্ত রিপোর্ট জমা দিবেন তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি আমানুর।

এদিকে, অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন তিনি (আমানুর রহমান) মিষ্টি মিষ্টি করে বলে কি কারণে সময় ক্ষেপন করছেন তা তারা জানেন না। জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে গিয়েও মেলেনি কোন সমাধান। তাই জেলা প্রশাসক বরাবর এ বিষয়ে জানতে একটি চিঠি দিয়েছেন সমিতিটির অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করা সদস্যবৃন্দ।

মো. জাহিদুল ইসলাম শেখ নামে কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের একজন সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক এ বিষয়ে জানান, 'কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর ৫৮৬ জন সদস্য। কিন্তু এর সুবিধা ভোগ করেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ মুষ্টিমেয় কয়েকজন অসাধু সদস্য। তারা সংখ্যায় কম হলেও তারাই লুটেপুটে খেয়ে সমিতিটি একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ' ১৯৪৯ সালে গঠিত এই ঐতিহ্যবাহী সমিতিটির ৫৮৬ জন সদস্যের মধ্যে আমি নিজেও একজন সদস্য এবং নির্বাচিত পরিচালক। আমি গত তিন বছরের উপরে এই সমিতিতে আছি। কিন্তু আমরা অনেকেই সমিতি থেকে আজও কোন সুবিধাই পাই নাই। বরং সভাপতি ও সম্পাদক আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে পর্যন্তও টাকা তুলে খেয়েছে সে প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমার কথা হচ্ছে সমিতির ৫৮৬ জন সদস্যের মধ্যে তারা প্রায় ৫০ জন সদস্য সমিতির সুবিধা ভোগ করেন, বাকীরা সমিতির কোন সুবিধা পান না, এমন কেন হবে'? তিনি আরও জানান, 'যারাই এসবের প্রতিবাদ করেন তাদের হুমকি ধামকির মধ্যে পড়তে হয়। আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে থানায় একটি জিডিও করা আছে আমার'।

কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সদস্য ও নির্বাচিত পরিচালক উজ্জ্বল দত্ত এ বিষয়ে জানান, 'সমিতিটি বর্তমানে খুবই অচল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বছর (২০২৩) ডিসেম্বরে। এর মধ্যে একটি এডহক কমিটিও হয়, সেটা নিয়েও নানান গড়িমসি করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

উজ্জ্বল আরও জানান, সমিতির নির্বাচিত কমিটির প্রত্যেক বছর একটি করে বাৎসরিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়ার নিয়ম থাকলেও সমিতির এই কমিটি একটি ছাড়া আর কোন এজিএম করেনি। সমিতিটি এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে বলেও জানান উজ্জ্বল দত্ত।

এদিকে সমিতিতে গ্রুপিং রয়েছে উল্লেখ করে উজ্জ্বল দত্ত আরও জানান, 'আমরা সমিতির কমিটিতে মোট ৯ জন সদস্য রয়েছি। এর মধ্যে আমরা ৫ জন নির্বাচিত পরিচালক, একজন সহ-সভাপতি ও অবহেলিত বেশিরভাগ সদস্য একদিকে আর- সমিতির সভাপতি-সম্পাদক ও একজন পরিচালক এবং কিছু সুবিধাভোগী সদস্য অন্যদিকে'। 'এমন অবস্থায় সমিতিটি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সমিতির কিছু দোকান ভাড়া তোলা, স্টাফদের বেতন ও বিদ্যুৎ বিল দেয়া ছাড়া এখন সমিতিটির আর তেমন কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে' বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, এসব বিষয়ে কানাইপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান সাইফুল জানান, 'আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কানাইপুর বাজারে সমিতিটির টিন সেট মার্কেটকে আমি তিন তলা ভবনে পরিনত করেছি। অস্বীকার করার সুযোগ নেই আমাদের মধ্যেও পক্ষ-বিপক্ষ রয়েছে। হয়তো আমি একদিন সভাপতি থাকবো না, সেদিন সমিতির লোকজন অনুধাবন করবেন আমি কেমন চালিয়েছি'।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, 'এডহক কমিটি ও নির্বাচন সময় মতোই হয়ে যাবে'। তবে, কবে নাগাদ হতে পারে সে বিষয়ে কোন স্পষ্ট ধারণা দেননি সভাপতি সাইফুল।

(আরআর/এএস/জুন ২২, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২২ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test